শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার দক্ষিণ : কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর তীরে উচ্ছেদ অভিযানের তৃতীয় দিন বন্ধ থাকলেও, চতুর্থ দিনে এসে আবারও শুরু হয়েছে অভিযান। এদিন সকাল থেকে কস্তুরাঘাটের পশ্চিমে বদর মোকাম এলাকায় উচ্ছেদের কার্যক্রম শুরু করে প্রশাসন। সম্প্রতি বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাটে জড়ো হতে থাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। চারপাশে বাঁশ ফেলে দেওয়া হয় ব্যারিকেড হিসেবে, এবং নিয়ন্ত্রণে আনা হয় জনসাধারণের চলাচল। এরপর নদীর বদর মোকাম মসজিদ প্রান্তে শুরু হয় উচ্ছেদ কার্যক্রম। তিনটি এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয় অবৈধ স্থাপনাগুলো।
প্রশাসনের উচ্ছেদের পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারীরা জলবায়ু উদ্বাস্তুরা উচ্ছেদ প্রতিরোধে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। পেশকারপাড়া এলাকায় সকাল থেকেই চলছে বিক্ষোভ। সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাঁশ ফেলে তৈরি করা হয়েছে ব্যারিকেড। স্কুলশিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শত শত নারী-পুরুষ সড়কে বসে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। তাদের দাবি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা বসতি ছাড়বেন না।
বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানান- সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তৃতীয় দিন উচ্ছেদ অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনে এসে আবারও অভিযান শুরু হয়েছে। নদীর সব দখলদার উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
উচ্ছেদের তৃতীয় দিনে বাধার মুখে অভিযান ব্যাহত হলেও এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪শ জনকে আসামী করে একটি মামলা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কক্সবাজার নৌবন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা মো. আবদুল ওয়াকিল বাদী হয়ে বুধবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস খান।
তিনি জানান, “সরকারি কাজে বাধা প্রদান” ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এর আগে মঙ্গলবার কস্তুরাঘাটস্থ বাঁকখালী নদীর তীরে অবৈধ দখল উচ্ছেদকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এজাহারনামীয় ১০ জনসহ মোট ২৬০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।