মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : ঐতিহ্যবাহী বাঁশজাত শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবার গুলো এখন নিঃস্ব প্রায়। নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী ও এর আশপাশের মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বালুচর, বালুসাইর, চাঁদেরপাড়া, হামটি, উদন্দিয়া, খিলগাও, সুইচগেট, বথুয়াদী, গাজিরগাও, শান্তির ভাওলা ও পাইকারচর ইউনিয়নের বালাপুর, চর বালাপুর, মেঘনা বাজার, ভঙ্গারচর সহ কাঠালিয়া, মোল্লারচর সহ আশপাশের আরো ক’টি গ্রামের লোকজন বাঁশজাত শিল্পের সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করতো।

প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব, বাঁশের অভাব ও বাঁশের মূল্য বেড়ে যাওয়াতে তারা এই শিল্পকে আকরে ধরে রাখতে পারছে না। বর্তমান সময়ে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা তাদের বাপ-দাদার আদি এ পেশা ছেড়ে দিয়ে এখন অন্যপেশায় চলে যাচ্ছেন। এলাকার বাঁশজাত কুটির শিল্পের মধ্যে ডালা, চালুন, ঝুড়ি, হাড়ি, ধাড়ি, চাটি, কুলা, জুকনি, কাপাইর, মোড়া প্রভৃতি বিশেষ ভাবে পরিচিত।

সময়ের সাথে সাথে মাধবদীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এখানকার প্রায় সব বাঁশঝার-ই কেটে বাসস্থান অথবা চাষাবাদের জমি হিসেবে গড়ে উঠেছে আর এতে দেখা দিয়েছে বাঁশের সংকট। বাঁশের এই সংকটের ফলে বাঁশের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। তাই জীবিকা রক্ষার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তাদেরকে কুটির শিল্প ঋণ প্রদানের জন্য, তা হলে এই পেশা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী বাঁশজাত শিল্পের কারিগররা। গত সোমবার মাধবদী বাজারে আসা বাঁশজাত কারিগর শাজাহান মিয়া বাঁশের তৈরী ডালা, চালুন, ঝুড়ি, হাড়ি, চাটি, কুলা, মোড়া নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য এ সময় তিনি জানান বাঁশের তৈরি জিনিষের স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের তৈরি তৈজসপত্র। প্লাস্টিকের দাম বেশি হলে ও অধিক টেকশই। তাই গ্রামের সাধারণ মানুষ এলোমনিয়াম ও প্লাস্টিকের তৈরি তৈজসপত্র কিনে নেন। বর্তমানে মাধবদী ও আশপাশে কোথাও বাঁশঝাড় (বাঁশ বাগান) দেখা যায় না। যেখানে বাঁশঝাড়ই বিলুপ্তি হয়ে গেছে সেখানে বাঁশের তৈরী জিনিসপত্র কি দিয়ে হবে।