মোংলা সংবাদদাতা : মৌসুম শুরু হলেও সুন্দরবন সংলগ্ন পশুর ও মংলা নদীতে মিলছে না কাক্সিক্ষত রূপালী ইলিশ। জাল হাতে নদীতে নামলেও খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে জেলেদের। ফলে শুধু সংসার চালানোই নয়, পুরনো ঋণ শোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

জেলেদের অভিযোগ, নদীতে আগে প্রচুর ইলিশ মাছ থাকলেও এখন সেই অবস্থা নেই। ১৫ বছর ধরে ইলিশ ধরা জেলেদের একজন বলেন, ‘আগে আমরা চার-পাঁচ কেজি বা কখনও সাত কেজি ইলিশ ধরতে পারতাম। এখন এক-দুটি ইলিশ মাছ পাই। এই অবস্থায় সংসার চালানো খুবই ক’কর।’

অন্য জেলেরা বলেন, ‘সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জাল ফেললেও হাতে আসে মাত্র কয়েকটি ছোট মাছ। বড় মাছ পাওয়া তো বিরল ঘটনা।’ তাদের আরও অভিযোগ, ‘সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে জাল বানিয়েছি। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় ঋণ শোধ করা যাচ্ছে না। এছাড়া ড্রেজারের কারণে জাল অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা আমাদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ স্থানীয়দের কাছ থেকে আরো জানা যায়, নদীর গতিপ্রকৃতি বদলে যাওয়া, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সাগর থেকে নদীতে ইলিশের মাইগ্রেশন রুট পরিবর্তনের কারণে মাছের সংখ্যা কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর দূষণ এবং অবৈধ ড্রেজিং ইলিশের বিচরণ ও প্রজননে বড় প্রভাব ফেলছে। মোংলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার,মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, বলেন, ‘সাগর থেকে নদীতে ইলিশের যাত্রাপথে নানা বাধা তৈরি হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পলি জমা এবং দূষণের কারণে মাছের ব্রিডিং সঠিকভাবে হচ্ছে না। ফলে পূর্বের মতো ইলিশ ধরা সম্ভব হচ্ছে না।’

নিষেধাজ্ঞা এবং মাছের কমতি দুই কারণেই জেলেরা সংকটে। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে ইলিশ ওঠার কথা থাকলেও এবার তা প্রায় শূন্যের কোঠায়। এর মধ্যেই আসছে নতুন করে ২১ দিনের আরও একটি নিষেধাজ্ঞা।

ফলে পুরনো ঋণ শোধের পরিবর্তে নতুন করে ঋণের বোঝা বাড়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে মংলার জেলেদের। এই পরিস্থিতি শুধু জেলেদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করছে। নদীতে ইলিশ মাছের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশ না পাওয়ায় সমুদ্র উপকূলীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলেরা আশা করছেন, সরকারি পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নদীতে ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাবে। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই মাছ ধরার পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে তাদের জীবিকা নিরাপদ রাখা সম্ভব।