কালিগঞ্জ, (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : চিকিৎসক স্বল্পতাসহ নানাবিধ সংকটের কারণে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এর ফলে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ। সরেজমিন জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে কালিগঞ্জে গড়ে ওঠে ২০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০১০ সালে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু শয্যা সংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মানের ক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে চিকিৎসক স্বল্পতা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখানে এক্সরে এবং আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ডেন্টাল বিভাগে যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে। এখানে গাইনি, সার্জারি, ডেন্টাল, অর্থোপেডিক, নাক-কান-গলা, মেডিসিন, শিশু, চক্ষু, চর্ম এবং কার্ডিওলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা হয়নি। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ৩লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পেতে এ হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন এখানে ৩শ’ থেকে ৪শ’ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে নানাবিধ সমস্যার কারণে তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩৪জন চিকিৎসকের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে এখানে মাত্র ৬জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ডা. বুলবুল কবির এখানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক চিকিৎসক অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। প্রয়োজনীয় ওষুধও মাঝে মেলে না। হাসপাতালের খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ বলে অভিযোগ ভর্তি থাকা রোগীদের। এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক সমস্যা নিয়ে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডাক্তার সংকট রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে কিছু নতুন ডাক্তার পদায়ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। অন্যান্য সমস্যা সমাধান করতে হলে মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।