মো. রফিকুল ইসলাম, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর, সাতবসু, ব্রজপাটুলী, বাগবাটী, চৌবাড়িয়া, সোনাটিকারী, নলতা ইউনিয়নের নলতা, বিশেলক্ষী, কাজলা, মাটিকোমড়া সহ অন্য অন্য এলাকার গ্রামে পান চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রান্তিক কৃষকেরা অন্যান্য ফসলের খুব একটা লাভজনক না হওয়ায় পান চাষে ঝুঁকছেন। এই অঞ্চলের উর্বর মাটি, অনুকূল জলবায়ু ও সেচ ব্যবস্থার কারণে পান চাষ ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

পান চাষে নারী-পুরুষ উভয়েই শ্রম দিচ্ছেন। অনেক নারী শ্রমিক পানের বরজে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। সকালে বরজে গিয়ে দুপুর পর্যন্ত কাজ করে তারা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পান।

কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১২০ একর জমিতে পান চাষ হয়েছে। গত বছর এ উপজেলায় ৩ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন পান উৎপাদন হয়েছিল। বাজারে পান বিক্রি হয় ৮০টি করে এক পোন হিসেবে। পাইকারী মূল্য বড় পান অথ্যাৎ খিলি পান এর মূল্য ৫ টাকা, আর এক পোনের দাম প্রায় ১৬০-১৭০ টাকা। খুচরা বাজারে বড় পান এক পোনের দাম ১৮০-১৯০ টাকা, মাঝারী পান প্রতি পোন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, আর ছোট অথ্যাৎ গুড়ো পান প্রতি পোন ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়ে, আর চহিদা কমে গেলে দাম কমে। পান সাধারণত বর্ষাকালে একটু দাম কমে।

কালিগঞ্জের শুইলপুর গ্রামের পান বরজ মালিক মৃত মলিন্দ কুন্ডের পুত্র শ্রী গৌড় কুন্ড বলেন, “এই বরজ আমার ঠাকুরদার সময় থেকে চলে আসছে। আমি পাঁচ বিঘা জমিতে পান চাষ করি। একেক সিজনে খরচ হয় প্রায় ২ লাখ টাকা, লাভ হয় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এখানে নিয়মিত ৬-৭ জন শ্রমিক কাজ করে।”

স্থানীয় শ্রমিক মজিবর রহমান জানান, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বরজে কাজ করে মাসে ১০-১২ হাজার টাকা উপার্জন করেন তিনি। তার মতে, এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই পান চাষ বা বরজের সঙ্গে জড়িত।

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শফিউল্লাহ বলেন, “পান সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কৃষকেরা এ চাষে লাভবান হচ্ছেন। বিঘাপ্রতি লাভ হয় ১ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।”

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিবৃষ্টির কারণে কিছু সমস্যা থাকলেও পান চাষ এখন অনেক কৃষকের জীবিকার প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।