স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
গাজীপুর মহানগরীর শিমুলতলীতে অনুমতিহীনভাবে আয়োজিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চলন্ত নাগরদোলা হেলে পড়ে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই একের পর এক মেলা বসানো হচ্ছে। কিছু মেলা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বন্ধ করলেও সেনানিবাস সংলগ্ন বিএমটিএফ লিমিটেড আর্মি ফার্মা ফ্যাক্টরির নির্ধারিত মাঠে এ মেলা চলে আসছিলো। মঙ্গলবার বিকেলে নাগরদোলায় ২৫-৩০ জন আরোহী ওঠার পর হঠাৎ সেটি হেলে পড়ে। আহতদের মেলা কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরিয়ে নেয় এবং সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেয়।
জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস ছামাদ বলেন, “মাঠের নিচে বালু থাকায় ডেবে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এত বড় নাগরদোলা বালুর মাটিতে বসানোর নিয়ম নেই। কর্তৃপক্ষ কার অনুমতিতে এখানে নাগরদোলা বসিয়েছে তা খতিয়ে দেখা উচিত।”
গাজীপুর মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, “মেলার অনুমতির জন্য কেউ আবেদন করেনি, তাই পুলিশ কোনো অনুমতি দেয়নি।”
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন জানান, “মেলার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। কেবল একটি অবহিতকরণ চিঠি দেওয়া হয়েছিলো, অনুমোদন নয়।”
প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, মেলা পরিপত্র-২০২৪ অনুযায়ী জেলা বা মহানগর এলাকায় এক মাসের জন্য অনুমতি দিতে পারেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু আয়োজকরা অনুমতির জন্য আবেদনই করেনি, বরং কেবল অবহিতকরণ চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠি পাওয়ার পর মেলা বন্ধের জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছিলো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট বিএমটিএফ লিমিটেড আর্মি ফার্মা ফ্যাক্টরির মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়ে একটি অবহিতকরণ চিঠি বিতরণ করা হয়। চিঠিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রদর্শনের কথা থাকলেও অনুমতির উল্লেখ নেই। এতে স্বাক্ষর করেন বিএমটিএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে কর্নেল মোঃ হুমায়ুন রাশেদ। পরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কর্নেল হুমায়ুন রাশেদের উপস্থিতিতে মেলাটি উদ্বোধন করা হয়।
এদিকে, মেলায় প্রতিদিন প্রবেশ টিকিট বিক্রির মাধ্যমে লটারি ড্র আয়োজন করে মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকারসহ নানা পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মতে এক ধরনের জুয়ার সমতুল্য।
মেলার বিরোধিতা করে ডুয়েটের সচেতন শিক্ষার্থীরা গত ২১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। এতে তারা যানজট, শব্দদূষণ, নিরাপত্তা সংকট ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ তুলে মেলা বন্ধের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মেলা আয়োজক মাহমুদ দাবি করেন, “মেলার অনুমতি দিয়েছে সেনাবাহিনী।” তবে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর গিফারী জানান, “আমাদেরকে শুধু জানানো হয়েছিলো, অনুমতি দেওয়া হয়নি।”