তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা: কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে পূর্ব শত্রুতার জেরে আশরাফুল হেকিম দিদার নামের এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
আহত আশরাফুল হেকিম দিদার উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের কল্লা দক্ষিণ নগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হেকিম মিয়ার ছেলে ও করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা নৌ-ঘাটে টুরিস্ট পুলিশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন গত বছরের ১ নভেম্বর অবসরে যান তিনি।
ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও প্রতিপক্ষের ক্রমাগত হুমকি ও ভয়ে মামলা করতে পারছে না ভুক্তভোগী পরিবারটি। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হেকিমের এই পরিবারের।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় অভিযুক্ত পিয়াস, শামীম ও নুরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে দিদারের ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা দিদারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত করিমগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আশরাফুল হেকিম দিদার বলেন, বাড়িতে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাজুল ইসলাম, তার ছেলে পিয়াস ও শামিমসহ প্রায় ১৫-২০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা আমাকে ও আমার পরিবারের কয়েকজন নারীকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে জখম করে। আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচার ও প্রশাসনের কাছে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিমের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।