মো. আবু ইউসুফ, মুরাদনগর (কুমিল্লা) : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূপ খনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছে। এই মহা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি '২টি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন (সুন্দলপুর-৪ ও শ্রীকাইল-৫) কূপ এবং ২টি অনুসন্ধান (সুন্দলপুর সাউথ-১ ও জামালপুর-১) কূপ খনন প্রকল্প'-এর অধীনে শ্রীকাইল-৫ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
গত রবিবার দুপুরে শ্রীকাইল-৫ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন বাপেক্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক। এই সময় বাপেক্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, যার মধ্যে খনন এবং প্রকৌশল বিভাগের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উপস্থিতি দেশীয় প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা ও প্রতিশ্রুতিকে সু-সংহত করে।
নব-উদ্বোধিত শ্রীকাইল-৫ কূপটি দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ব্লক-৯ এর অন্তর্গত কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন শ্রীকাইলে অবস্থিত। এই কূপটির জন্য বাপেক্স উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কূপটির খনন গভীরতা লক্ষ্যমাত্রা হলো ৩,৪৫০ মিটার। তবে, সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য হলো এর সম্ভাব্য গ্যাস মজুদের পরিমাণ। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই কূপে গ্যাসের মোট মজুদের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬২.৮৭ বিসিএফ (বিলিয়ন কিউবিক ফিট) এবং সম্ভাব্য উত্তোলন যোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ৫০.৩০ বিসিএফ। সফলভাবে এই পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করা গেলে তা জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়ে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ঘাটতি পূরণে বিশাল ভূমিকা রাখবে।
বাপেক্স এক বিশেষ তথ্যে জানিয়েছে, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে না। কূপটি খনন করা হবে সম্পূর্ণভাবে বাপেক্সের নিজস্ব উন্নত রিগ ও দেশীয় জনবল দ্বারা। এটি কেবল একটি কূপ খনন প্রকল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের নিজস্ব প্রকৌশলগত দক্ষতা এবং আত্মনির্ভরশীলতার এক সুস্পষ্ট উদাহরণ। দেশীয় অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত এই কার্যক্রম বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এই প্রকল্পটি কেবল শ্রীকাইল-৫ কূপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির একটি অংশ। বাপেক্স আশা করছে, এই চারটি কূপ খনন কার্যক্রম শেষ হলে দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, যা দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের গতিকে আরও বেগবান করবে।