জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও সাহসিকতা দেশের আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। শনিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট হলে আয়োজিত সিনেট হলে আয়োজিত আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ অভিমত প্রকাশ করেন।
তিনি অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও প্রকৃতির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, তাই প্রকৃতিবিরোধী যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প ঠেকাতে তরুণদের মধ্যে জনসচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। এদেশের তরুণরা তাদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও সাহস দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে তারা পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রায় আড়াই হাজার কলেজে অধ্যয়নরত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে প্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পুরনো সিলেবাস সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই এটুআই, ইউনিসেফ ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খরচে ৫০ হাজার কলেজছাত্রীকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই প্রাথমিক শিক্ষা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদানে বড় ধরনের সংস্কার ও বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি। জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।