বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় এলাকায় ভয়াবহ বিদ্যুতের লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। প্রতি নিয়তই লোড শেডিংয়ে অতিরিক্ত খরা আর গরমে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী। গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রাম এলাকায় একবার গেলে টানা দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় বেকায়দায় পড়ছেন বয়স্ক ও শিশুরা।

জানা গেছে, গত প্রায় ১০ দিন যাবত নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের আওতায় দিনে রাতে ২৪ ঘন্টার অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতের বেলা এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অফিস- আদালত, কল-কারখানা, উপজেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সর্বসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। এলাকাজুড়ে আশ্বিন মাসে এখন প্রচন্ড খরা ও তাপ্রবাহ চলছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম আকার ধারণ করেছে। বাগমারার পাশর্^বর্তী এলাকার তুলনায় বাগমারায় বিদ্যুতের সংকট বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এলাকাভেদে চাহিদার তুলনায় ৫০ ভাগ বিদ্যুৎ কম মিলছে। বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সরবরাহ না বাড়লে সামনে ভোগান্তি আরও বাড়বে। তবে এলাকাবাসীর দাবি বৃহৎ উপজেলা চাহিদা বাড়াতে কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণে এলাকার গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। উপজেলায় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দাবি সারা দেশেই বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় কম দেয়া হচ্ছে। মেইন লাইন থেকে আমরা পরিমিত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।

এদিকে বিদ্যুৎ সরবাহ টানা দীর্ঘ সময়ে মিলছে না বলে অভিযোগ করেন উপজেলার বালানগর গ্রােেমর জালাল উদ্দিন, আব্দুস সামাদ, কাজেম আলী সামাদ সহ অনেকে। একটানা বিদ্যুৎ না থাকায় দিনে ভোগান্তি রাতে ঘুম হচ্ছে না গরমে। দিনে রাতে কম করে ১২/১৩ বার বিদ্যুৎ আসে আর যায়। একদিকে খরা তার উপর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের এমন দুর্ভোগ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্তি বিদ্যুৎ সরবাহের দাবি করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পল্লী বিদ্যুতে কিছু ঘাফটি মেরে থাকা লোক রয়েছে। এসব অসৎ লোক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সৃষ্টি করছে। তারা বর্তমান সরকারকে হেয় প্রতিপন্য করতে এমন কাজে লিপ্ত হয়েছেন বলে দাবি করছেন।

এ ব্যাপারে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বাগামারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, চহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ অত্যন্ত কম। গোটা উপজেলায় ৩১ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন সেখানে মিলছে ১৭ থেকে ২০ মেগা ওয়াট। তিনি দাবি করে বলেন, আমি অন্যান্য জায়গায় খবর নিয়ে জেনেছি তাদেরও এই একই অবস্থা। এটা জাতীয় সমস্যা। তার মতে, রাতে ঘরমের কারণে চাহিদা অতিরিক্ত। ফলে, জাতীয় গ্রিডে চাহিদার কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোড শেডিং করতে হচ্ছে। খরার পরিমান বাড়ায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদাও বেড়েছে, বৃষ্টি নামলে সমস্যা দূর হবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেছেন। তা ছাড়া অতিরিক্ত চাহিদার জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।