পার্বত্যা চট্টগ্রামে এক সময় জুমিয়ারা জুম চাষে সীমাবদ্ধ থাকলেও যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন ফলজ বাগানের দিকে ঝুঁকছে তারা। পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়গুলো এখন সনাতন কৃষি থেকে বের হয়ে আধুনিক কৃষির সাম্রাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

আর এ প্রচেষ্টার সিংহ ভাগ জোগান দিচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প। যার মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় ও ক্রমবর্ধমানভাবে বেড়ে চলেছে কফি ও কাজুবাদাম গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প’। এক সময় চাষিরা খোসা যুক্ত কাজু বাদাম প্রতি মণ (৪০ কেজি) ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করলেও বর্তমানে ৬-৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

খোসাযুক্ত কফি চেরি ফল টন প্রতি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ লাখ টাকায়। যা কৃষকদের ভাগ্য বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা বহন করছে। বর্তমান দেশের সব থেকে দরিদ্র এই জেলাটিতে কফি-কাজু বাদাম আবাদের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী জেলা হিসেবেও পরিচিতি লাভ করবে।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু এ দুই ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় তিন পার্বত্য জেলায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের শুরুর দিকে যেখানে দেশে কাজুবাদামের চাষ হতো মাত্র ১ হাজার ৮০০ হেক্টরে, সেখানে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২০০ হেক্টরে। কফির ক্ষেত্রেও একই চিত্র মাত্র ৬৫ হেক্টর থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। জুমের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে আধুনিকতার হাত ধরে পাহাড়ের কৃষি সম্ভাবনার নতুন পথে হাঁটছে।

পাহাড় এখন শুধু ইতিহাসের নয়, আধুনিক কৃষিরও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। খোরপোশ কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষির দিকে এই পার্বত্য এলাকার চাষিদের পদার্পন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন দিগন্ত হিসেবে গণনা করা হচ্ছে।

কফি চাষি ঙুইইন ম্রো জানান, ২০১৫ সালে এক আত্মীয়ের পরামর্শে ১ হাজার চন্দ্রগিরি কফি গাছের চারা রোপণ করেন। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার কফি গাছ আছে। যার মধ্যে ১ হাজার গাছ থেকে বছরে প্রায় দেড় টন চেরি পাওয়া যায়। চেরি হিসেবে যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। সব গাছে একই সঙ্গে ফলন পাওয়া গেলে বছরে অন্তত ১০ টন কফি চেরি উৎপাদন হবে।

বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ হেক্টর অব্যবহৃত জমি রয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ হেক্টরে কফি চাষ করলে দুই লাখ টন কফি উৎপাদন সম্ভব, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন পাহাড়ের এই কফি কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনাকে দেখে প্রক্রিয়াজাতকরণে সম্প্রতি এগিয়ে এসেছে বড় বড় শিল্প গোষ্ঠী। বিশেষ করে প্রাণ গ্রুপ, বিএসআরএম গ্রুপ, কাজী গ্রুপ ও লালতীর এর মতো প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তি পর্যায়ে গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতে মানুষ তিন পার্বত্য জেলাকে কফি কাজু বাদামের জন্য ব্যাপকভাবে সুনাম অর্জন করবে। Ñকৃষিবিদ জসিম উদ্দিন।