ইকবাল হোসেন, শ্রীপুর, গাজীপুর : মা-মরা মেয়েটা চেয়েছিল একটু আশ্রয়, একটু ভালোবাসা। পেয়েছিল বরং এক পশুর খাঁচা। ময়না এখন শুধু এক নির্যাতিত নারী নয়-তিনি একজন গর্ভবতীও। সন্তানের আশায় বুক বাঁধা এই তর”ণী প্রতিদিন আতঙ্কে কাটান, জীবনের না, অনাগত প্রাণের জন্য।
বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বাঘমারা এলাকার সিরাজউদ্দীনের মেয়ে ময়না (২২) ও উপজেলার গাড়ারন গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী কালামের সঙ্গে। প্রেমিক কালামের আশ্বাসে বিশ্বাস করে এক বছর আগে তাকে বিয়ে করেন ময়না। কিন্তু সেই বিয়ে এখন দুঃস্বপ্ন।
স্থানীয়রা জানান, কালামের আগের দুটি স্ত্রীও নির্যাতনের কারণে সংসার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এই ব্যক্তি এলাকায় পরিচিত এক ভয়ংকর চরিত্র হিসেবে। কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশেই তার বাড়ি। সেই ঘরেই এখন বন্দি ময়নার জীবন।
গর্ভে নতুন প্রাণ নিয়ে ময়না এখন জীবন ও মৃত্যুর মাঝপথে। বিয়ের পর থেকেই চলছিল মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। সব কিছু সহ্য করছিলেন সন্তানের মুখ দেখার আশায়। কিন্তু ২৭ আগস্ট রাতে নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় সব সীমা-রাত ৯টার দিকে পৈশাচিক নির্যাতনে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।
পরবর্তীতে স্থানীয় একজন ব্যক্তি বিষয়টি ফোন করে ময়নার বাবার বাড়িতে জানান। তার আত্মীয়স্বজন এসে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়না জানিয়েছেন, “আমি বুঝতে পারিনি সে মানুষ না, জানোয়ার। আমি এখন শুধু নিজের জন্য না, পেটের সন্তানের জন্য বাঁচতে চাই।”
ময়নার বাবা সিরাজউদ্দীন বলেন, “মেয়েডারে বিয়ের পর থেকে কথায় কথায় মারে। এখন আবার পেটে বাচ্চা, তাও রেহাই নাই! আমার বুক ফাইটা যায়।”
এলাকাবাসীও মুখ খুলেছেন। তাদের মতে, কালাম একজন দুর্র্ধষ মাদক কারবারি ও নারী নির্যাতক। তবে এবার তারা চান-কালামের বির”দ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া থামবে না এ অন্যায়। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এক গর্ভবতী নারী যখন স্বামীর ঘরেও নিরাপদ নয়-তখন প্রশ্ন ওঠে, কোথায় আমাদের সমাজ, কোথায় আইন? শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।