সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে একটি বাড়িতে গভীর রাতে দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে ঘরের লোকজনকে জিম্মি করে ১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতার সহায়তায় দুইজন ডাকাতকে আটক করে পুলিশে দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের খারখোলা গ্রামের প্রেমানন্দ মন্ডলের বাড়িতে।
রাতের নিস্তব্ধতায় ৮-১০ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল বিল্ডিংয়ের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা প্রেমানন্দ মন্ডল, তার স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটক রেখে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে লুটপাট চালায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য পঙ্কজ মন্ডল জানান, ডাকাতরা তাকে মারধরও করেছে। তাদের মুখে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। ডাকাতরা ঘরে থাকা ১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ১ ভরি ৬ আনা রুপা ও নগদ ৮৩ হাজার টাকা (এবং ১২০ ইউরো) নিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে ডাকাতি শেষে পালানোর সময় এলাকাবাসী এক ডাকাতকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়। ধৃত ডাকাতের নাম ইমরান বেপারী (২৪)। সে বরগুনা সদর থানার জাকিরচর গ্রামের হাশেম বেপারীর ছেলে এবং শাহিন হাওলাদার (৪৫)।
শেখরনগর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজন ডাকাতকে গ্রেফতার করে এবং অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রেমানন্দ মন্ডলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো। তার এক ছেলে বিদেশে থাকেন, অন্যজন ঢাকায় চাকরি করেন। ডাকাত দল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই বাড়িটি টার্গেট করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো ইব্রাহিম জানান, আটকৃত একজন ডাকাত বর্তমানে থানা হেফাজতে রেয়েছে। অন্যজন গণপিটুনি খাওয়ায় তাকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ডাকাতদের কাছ থেকে সাত রাউন্ড গুলী উদ্ধার হলেও অস্ত্র পাওয়া যায়নি। অস্ত্র ও অন্যান্য ডাকাতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।