মনিরামপুর (যশোর) থেকে সংবাদদাতা : যশোর-৬ (মনিরামপুর) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন সুপরিচিত আইনজীবী ও জননন্দিত নেতা অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। তাকে ঘিরে এখন জনমনে বইছে আগ্রহ ও প্রত্যাশার নতুন স্রোত। সম্প্রতি এক বিশাল কর্মীসভায় মনিরামপুর উপজেলার শত শত কর্মী-সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বক্তব্য চলাকালে বক্তার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত সকলে হাত তুলে দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেন—তাদের প্রত্যাশার প্রার্থী গাজী এনামুল হকই। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে মুখরিত হয় গোটা হলরুম।

এদিকে নির্বাচনী অঙ্গীকারে মনিরামপুরের জন্য একটি বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী ভিশন তুলে ধরেছেন, যা মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। তিনি দূর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি বন্যাদূর্গত প্রায় ৫০০ পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করে তিনি তার মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ আচরণের কারণেও তিনি ভোটারদের মন জয় করেছেন, যা এই নির্বাচনে একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে অনেকে মনে করছেন। গাজী এনামুল হক নেমে পড়েন জনগণের মাঝে। উপজেলার প্রধান বাজার থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়, চায়ের দোকান কিংবা ওষুধের ফার্মেসি সবখানেই তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং সকলের কাছে দোয়া ও সমর্থন চাচ্ছেন। মানুষের প্রতিক্রিয়ায় বারবার উঠে আসছে “এনাম ভাই আমাদের মনের মানুষ।

গাজী এনামুল হক শুধু একজন দক্ষ আইনজীবী নন, বরং তিনি একজন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সংগঠকও। যশোর জজ কোর্টের অভিজ্ঞ সদস্য হিসেবে তিনি আইনি পেশায় সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। একাধিক বিচারপ্রার্থী জানান, তিনি অনেক অসহায় মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি জামায়াতের জেলা কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।

মনিরামপুরে শান্তিপূর্ণ ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচনী কর্মকা-ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাজী এনামুল হক ও তার কর্মীরা। এখন পর্যন্ত তার কোনো কর্মীকে বিশৃঙ্খলা, মিছিলের নামে ভাঙচুর কিংবা চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত দেখা যায়নি। বরং নিয়মিত শান্তিপূর্ণ কর্মিসভা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে তারা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে গাজী এনামুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। যদিও ওই নির্বাচনে নানা কারচুপি ও অনিয়মের কারণে তাকে বিজয়বঞ্চিত হতে হয়, কিন্তু সেসময় মানুষের সহানুভূতি ও ভালোবাসা তার প্রতি বহুগুণে বেড়ে যায়। এবারের নির্বাচনে তিনি আরও পরিপক্ব ও সংগঠিতভাবে ফিরে এসেছেন।

তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে রয়েছে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী প্রতিশ্রুতি—ইসলামী মূল্যবোধ সংরক্ষণ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, মানসম্মত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান, তথ্যপ্রযুক্তিতে স্থায়ী সমাধান, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, নারী-শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্ররুতি।