কলারোয়া (সাতক্ষীরা)সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া পৌরসভার গোপিনাথপুর এলাকায় পানি ফল চাষ করে কৃষকরা স্বাবলম্বী। এই চাষের সঙ্গে যুক্ত চাষিরা নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি আশপাশের বহু বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছেন। আর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এলাকার কৃষকরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে । মৌসমী ফসল পানি ফলের কদর বেড়েছে যশোর সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশে বসেছে অস্থায়ী এই ফলের দোকান। মিষ্টি ও রসালো পানি ফল প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যাত্রীরা গাড়ি থামিয়ে কিনে খাচ্ছেন, আবার অনেকে পরিবারের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররাও প্রতিদিন এখান থেকে পানি ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে, অন্যদিকে ক্রেতারাও পাচ্ছেন মৌসুমী সুস্বাদু এই ফল।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, সাতক্ষীরার দক্ষিণাঞ্চলের কালীগঞ্জ থেকে পানি ফল চাষের সূচনা হয়। ধীরে ধীরে কলারোয়া উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। বর্তমানে শুধু কলারোয়া এলাকায় প্রায় ১০ জন কৃষক পানি ফল চাষ করছেন। এতে নারী-পুরুষ উভয়েরই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গোপিনাথপুর গ্রামের চাষি মেহেদী হাসান পানি ফল চাষ করে এলাকায় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন , আমি ১০ বছর ধরে এই পানি ফলের চাষ করে আসছি। এবার ৮বিঘা জমিতে এই ফলের চাষ করেছি। এ চাষ লাভজনক হলেও ধৈর্য্য ও যতেœর প্রয়োজন। এতে নিজের পরিবারের পাশাপাশি অনেকের জীবন -জীবীকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে । ফল তোলা ও পরিচর্যার মৌসুম জুড়ে প্রতিদিন ১০/১৫ জন শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছেন। এ বছর চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। এ থেকে আমি ৮ লাখ টাকার পানি ফল বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করি। সরকারি ভাবে যদি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে আরও অনেকে পানি ফল চাষে আগ্রহী হবে।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম. এনামুল বলেন, বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধ জমিতে অন্য ফসল হয় না। সেখানে পানি ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এতে অন্য ফসলের চেয়ে খরচ তুলনামূলক কম হলেও বাজারে এর চাহিদা বেশি। আমরা সবসময় পানি ফল চাষিদের নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।এই ফল চাষের একটি ভালো দিক শুষ্ক মৌসুমে একই জমিতে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করলে তেমন সার প্রয়োগেরও প্রয়োজন হয় না। নতুন করে কেউ এই চাষ শুরু করতে চাইলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো। স্থানীয় কৃষকদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নিলে পানি ফল চাষ শুধু কলারোয়া নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে শুধু কৃষক নয়, স্থানীয় ফল বিক্রেতা, পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ খুচরা ব্যবসায়ী সবাই উপকৃত হবেন। সচেতন মহলের ধারণা, কৃষি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পানি ফল চাষ এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।