ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: ইন্দুরকানী উপজেলায় ১১ বছর বয়সি শিশু শিক্ষার্থী সিফাত সরদার। পড়াশোনার পাশাপাশি ঝালমুড়ি বিক্রি করে চার সদস্যের পরিবার চালিয়ে যাচ্ছে শিশু সিফাত। সে উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের চরণী পত্তাশী গ্রামের বাসিন্দা এবং কাশেম সরদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

গত বছর সিফাতের বাবা রাসেল সরদার বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর সংসারের ভার পড়ে মা রুমা বেগম ও তাদের তিন সন্তানদের ওপর। দীর্ঘদিন রাস্তায় কাজ করে সংসার চালানো রুমা বেগম বর্তমানে অসুস্থ হওয়ায় আর কাজ করতে পারছেন না। এই কঠিন সময়ে ছোট ছেলে সিফাত ঝালমুড়ি বিক্রি করে পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন। সিফাত সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঝালমুড়ি বিক্রি করেন, তারপর স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করেন এবং স্কুল ছুটির পর আবার বাজারে গিয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন।

তার বড় বোন সুমাইয়া ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, আর ছোট বোন রাবেয়া মাত্র ছয় বছর বয়সি। সিফাতের মা রুমা বেগম বলেন, স্বামী এক বছর আগে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা গেছেন। তারপর থেকে সংসার চালাতে আমাকে রাস্তায় কাজ করতে হতো, কিন্তু অসুস্থতার কারণে আর পারছি না। আমার চিকিৎসা এবং সংসারের খরচ চালানোর জন্য সিফাত ঝালমুড়ি বিক্রি করছে। শিশু সিফাত বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর মা কাজ করতেন, এখন মা অসুস্থ। তাই আমি ঝালমুড়ি বিক্রি করি এবং পাশাপাশি আমার লেখাপড়া চালাই। আমি বড় হয়ে ভালো মানুষ হতে চাই।

কাশেম সরদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির উদ্দিন বলেন, সিফাত অভাবের মধ্যে থেকেও তার পড়াশোনা ও ঝালমুড়ি বিক্রি দুটোই চালিয়ে যাচ্ছে। উপবৃত্তির টাকাও সে তার পড়াশোনার জন্য ব্যবহার করে।

পত্তাশী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার বলেন, সিফাতের এই পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের আর্থিক সহায়তা করছি।

ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান বিন মুহাম্মাদ আলী বলেন, পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।