বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা : নাগরিক সেবা নেই,তবু মোটা অঙ্কের বিল! আবারো দেখা যাচ্ছে অনেকের বিল পরিশোধের হাতকাটা রশিদ ও রয়েছে তবুও ডিজিটাল বিলে পরিশোধন বিল উত্তলন করা হয়েছে, শুধু তাই না কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছে এমনও ব্যাক্তির নামের পৌরকর বিল পৌঁছে গিয়েছে নিকটতম আত্মীয়দের নিকটে।

সেবা না পেলে কর কেন?”এমন প্রশ্নে এখন মুখে মুখে নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভা নাগরিকদের। হঠাৎ করেই নাগরিকদের বাসায় বাসায় পৌরকর বাবদ মোটা অঙ্কের বিল পাঠানো হয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধের নির্দেশ থাকলেও, বিলের অস্বাভাবিক অঙ্ক ও প্রস্তুতির পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ এবং বিভ্রান্তি। নাগরিকদের অভিযোগ,একাধিক বছরের বকেয়া হিসাব দেখিয়ে বড় অঙ্কের বিল আদায়ের চেষ্টা চলছে, অথচ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২১ হলেও পুরন করতে পারেনি পৌরবাসির ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা। কোথাও নেই বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ ব্যবস্থা নেই সড়কবাতি, আর সড়ক বাতি না থাকায় রাতে অন্ধকারে ঢাকা পড়ে থাকে পৌর এলাকা নেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্ষায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। অথচ এসব মৌলিক সেবার উন্নয়ন না করেই নতুন করে কর আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাগাতিপাড়া পৌরসভা।

বাগাতিপাড়া পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে পৌরবাসীর সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল বা ক্যাশলেস কর পরিশোধ ব্যবস্থা। এই পদ্ধতি চালুর ফলে নাগরিকদের আর হাতে নগদ অর্থ নিয়ে কর পরিশোধ করতে হবে না। এখন থেকে অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে কর পরিশোধ করা যাবে। এদিকে কর নির্ধারণের বিষয়ে পৌরসভা অফিস সূত্র জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেন সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও (দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক) সুরাইয়া মমতাজ।

পৌরসভার লক্ষণহাটি মহল্লার বাসিন্দা ফজলুর রহমান বলেন, “আসলেই কি আমরা এসব সেবা পেয়ে থাকি? যদি পেতাম, নিশ্চয় কর দিতে কেউ আপত্তি করত না। কিন্তু সেবা ছাড়া কর চাপানো মানে তো নিপীড়ন।” তিনি আরও বলেন,“ পরিষ্কার রেইট, বিদ্যুৎ রেইট, সারচার্জ, রিবেট এসব কিছুই ঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। আলোচনাহীন এই বিল আমাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই পৌরকর সংক্রান্ত চার্জ ও বিল নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। পৌরবাসীরা বলছেন, কর আদায় করতে হলে প্রথমেই সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রশ্ন, এক দশক ধরে নষ্ট পড়ে থাকা পৌরসভার রোলার, গ্যারেজে আটক ট্রাক, এমনকি পৌরভবন থেকে প্রধান সড়কে উঠার কাঁচা রাস্তাটিও এখনো পাকা হয়নি এসবই কী নাগরিকদের করের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহারের প্রমাণ দেয়।

পৌরসভা সুত্রে আরো জানা যায়, ২০০৪ সালে উপজেলা সদর ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয় বাগাতিপাড়া পৌরসভা। আয়তন ১০.৪২ বর্গ কিলোমিটার, যার মধ্যে এখনো ৩২ কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার ২৩০ জন। এটি একটি ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা হলেও অবকাঠামো ও সক্ষমতার দিক দিয়ে তা আরও পিছিয়ে আছে।

স্থানীয়রা বলছেন পৌর প্রশাসকের এই একতরফা ও জন বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নাগরিক অধিকারকে উপেক্ষা করেছে । তাদের দাবি,”কর আদায়ের আগে প্রয়োজন জবাবদিহি ও জনসেবার উন্নয়ন। কর চাপ নয়, বরং আগে হোক করযোগ্য সেবা।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাগাতিপাড়া পৌর প্রশাসক(চলতি দায়িত্ব) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহন করেছেন এবং বিষয়টি তিনি ক্ষতিয়ে দেখবেন। তারপরও কর নির্ধারন সেবার আওত্তায় না পড়ে, তাহলে আবেদন করে কর হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।