স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের আইনি বিধান চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিক, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তি এবং ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতার বিষয়ে নতুন বিধান আনার সুপারিশ করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিশন সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে আইন সংশোধনের সুপারিশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করেছে ইসির আইন ও বিধি সংস্কার কমিটি।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের উল্লেখ থাকলেও উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন আইনে তা নেই। ইসি চায়, সব স্থানীয় সরকার আইনে একই ধরনের বিধান রাখা হোক, যাতে প্রয়োজন হলে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া যায়।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রায়ই সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। নির্দলীয় নির্বাচনে একই এলাকার একাধিক প্রভাবশালী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সুযোগ রাখতে চায় কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আইনে সুযোগ থাকলেই যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে, এমন নয়। তবে প্রয়োজন হলে কমিশন যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে জন্যই এ প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
প্রার্থিতায় আসছে নতুন শর্ত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি নতুন অযোগ্যতার বিধান যুক্ত করতে চায় ইসি।
প্রস্তাব অনুযায়ী— জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ এ বিধানের বাইরে থাকবে।
এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চাকরিতে বহাল থেকে নির্বাচন করতে পারবেন না। প্রার্থী হতে হলে আগে পদ ছাড়তে হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশও বিবেচনায় রয়েছে।
ঋণখেলাপি এবং বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও পরিচালকদের প্রার্থিতার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবও রয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে বাড়তে পারে শাস্তি
ইসি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠনের সুপারিশ করছে। পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শাস্তি আরও কঠোর করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে আপাতত কোনো সংশোধনী আনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসির এসব প্রস্তাব কার্যকর করতে স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করতে হবে। সরকারের অনুমোদন, মন্ত্রিসভার সম্মতি এবং জাতীয় সংসদে সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পরই নতুন বিধান কার্যকর হবে।