স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে মুখোশধারীদের পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এই হামলায় তার ব্যবহৃত গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত আহত হন।

জানা গেছে, হামলার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসনাত আব্দুল্লাহকে তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডবাজার এলাকার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলোজি (আইইউটি) ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাতেই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিএমপির কমিশনার, ড. নাজমুল করিম খান।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জাহিদুল হাসান বলেন, “রবিবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে বহনকারী গাড়িতে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায়। এতে কাঁচ ভেঙে তার ডান হাতে জখম হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাকে পুলিশ প্রহরায় ঢাকা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এনসিপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসনাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালনা এলাকা থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। তখন মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে তার গাড়ির গতিরোধ করে এবং ইট-পাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায়। গাড়ির কাচ ভেঙে গেলে আহত হন তিনি। গাড়িতে আরও দুজন আরোহী থাকলেও তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এনসিপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। রাতেই চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ডবাজার ও বাইপাস মোড় এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মী ও ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। রাত ৯টায় চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়। দলটি জানিয়েছে, সোমবার হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এনসিপির গাজীপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “এই বর্বরোচিত হামলা আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সংঘটিত। আমরা বিশ্বাস করি ছাত্রলীগ ও যুবলীগ এর সঙ্গে জড়িত। হামলাকারীদের আড়াল করা হলে রাজপথেই জবাব দেওয়া হবে।”

এদিকে, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “হাসনাতের গাড়িতে ১০-১২ জন মুখোশধারী হামলা চালিয়েছে। কাঁচ ভেঙেছে, হাত রক্তাক্ত হয়েছে। যারা কাছাকাছি আছেন, অনুগ্রহ করে তাকে নিরাপত্তা দিন।”

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।