যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগামীকাল সোমবার দেশে ফিরছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাধারণ একটি ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরবেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করেই খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার জানানো হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ম্যাডাম কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সোমবার দেশে আসছেন। তবে সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর আগে শুক্রবার গণমাধ্যমকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ বিমানে দেশে ফিরবেন খালেদা জিয়া।

এদিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাসা ফিরোজাকে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, ম্যাডামের বাসভবন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার জানান, খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন। ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সব কিছু জানানো হয়েছে।

এরপর গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর লন্ডন ক্লিনিক থেকে গত ২৫ জানুয়ারি তাকে তারেক রহমানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

চার মাস চিকিৎসা শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তার আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ঢাকায় খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে গুলশানে তার কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর যৌথ সভা আহ্বান করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থেকে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাবেন। বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’র উদ্দেশ্যে গাড়িবহর রওয়ানা হলে পথে বিমানবন্দর মোড় থেকে গুলশান পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীরা নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাবেন। বিএনপি নেতাদের একাংশ মনে করছে, নেত্রী দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাই শারীরিক দিক বিবেচনায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ এখনই নাও হতে পারে। তবে উপস্থিতি আর শুভেচ্ছার মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করাই হবে বড় ঘটনা।

এবারের ফিরতি যাত্রায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকছেন তার দুই পুত্রবধূ তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান।