নেগেটিভ ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচার করার আহ্বান জানিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান।

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে কীভাবে ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে। সেই ন্যারেটিভ প্রচারের ফল হচ্ছে ১/১১-এর সরকার। ওই সরকার ছিল ভারতের দালাল। ওয়ান ইলেভেনের সরকারকে সবসময় ভারতের দালাল সরকার বলেছি, এখনও বলবো। মঈনউদ্দিন, মাসুদ, ফখরুদ্দিনের সরকার ছিল ভারতের দালাল। ওই সরকারকে আমি কখনো স্বীকার করেনি, করবো না।

আপনারা জানেন, ন্যারেটিভ সরকারের উদ্দেশ্য এমনই থাকে। এখনই যে ন্যারেটিভ তৈরি করার উদ্দেশ্যে তিনজন সাংবাদিক একজন উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করেছিলেন এবং একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার হেডলাইন একসূত্রে গাঁথা। এটার উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করা, আবার ভারতীয় আগ্রাসন ফিরিয়ে আনার একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করা। যারা দেশের স্বাধীনতা-জনগণের স্বাধীনতা চায়, এই ন্যারেটিভের বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের যেসব সংবাদমাধ্যম আছে তাদের এই ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কাউন্টার ন্যারেটিভ তৈরি করতে হবে। এটা কিন্তু আমার দেশ প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি। দৈনিক আমার দেশ-এর লিড নিউজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমার দেশ পত্রিকা প্রতিদিন বাংলাদেশের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে, জনগণের পক্ষে ন্যারেটিভ তৈরি করছে। আমি মনে করি এই কাজ শুধু আমার দেশ-এর নয়, প্রত্যেকটি দেশপ্রেমিক মিডিয়ার। আমরা দেশপ্রেমিক মিডিয়া যদি কলমের লড়াই চালাই, তাহলে নেগেটিভ ন্যারেটিভ পরাজিত হবে। আমার দেশ সম্পাদক বলেন, আমি কলমের লড়াই কলম দিয়ে দিতে চাই। ওরা কিন্তু কলমের জবাব গায়ের জোরে দিয়েছে। সেটা কীভাবে দিয়েছে? আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে। আমাকে জেলে নিয়ে গেছে, হত্যা করার চেষ্টা করেছে। আমি বলবো, তুমি কলাম লিখবে, আমিও লিখবো, জনগণই ঠিক করবেন কার লেখা সঠিক।

১৫ বছরে নিহত ৬৫ সাংবাদিক: স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে ৬৫ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে। পেশাজীবী সাংবাদিক সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের বরাত দিয়ে এই তথ্য দিয়েছে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে এই তথ্য ওঠে আসে। প্রবন্ধ পাঠে সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ এর জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমের ৩৩৬৯ জন সাংবাদিক নানাভাবে রোষের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ২১ জনকে হত্যা, ১৫১০ জন আহত, ৪৭৮ জনকে মারধর, ২২১ জনের ওপর হামলা, ৬৬ জন গ্রেফতার, ৭জন গুম, ৪৭৫ জনকে হুমকি, ৭ জনকে নির্যাতন এবং ৪২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পেশাজীবী সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ডিইউজে ও বিএফইউজের হিসাব অনুযায়ী বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে দেশে ৬৫জন সাংবাদিক নিহত হন।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকা- এ সময়ের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ঘটনা। সাংবাদিক সহকর্মীরা গত ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ এ নারকীয় হত্যাকা-ের তেরো বছর পালন করেছে। সাগর-রুনি হত্যার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খুনিরা ধরা পড়বে। কিন্তু ১৫৮ মাসেও খুনি চক্রের টিকিটির পর্যন্ত নাগাল পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সেমিনারে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন মজলুম সম্পাদক দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান , বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সিনিয়র সহকারী মহাসচিব বাছির জামালসহ সাংবাদিক নেতারা।