শুক্রবার ১৭ জুলাই ২০২০
Online Edition

ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ হাসপাতালে

বিডি নিউজ : সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছে তাকে।

তার স্ত্রী অতীশ দিপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম বলেন, বুধবার সকালে গুলশানের বাসায় বুকে ব্যথা অনুভব করলে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি কার্ডিওলজিস্ট ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

অ্যাপোলো হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার ইলিয়াস খান বাদল বুধবার রাতে বলেন, ’’ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে।’’

তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি ইলিয়াস। হৃদরোগে আক্রান্ত জটিল রোগীদেরই সাধারণত সিসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের হৃদযন্ত্রে ২০০৬ সালে সফল বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। সে সময় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রিধারী ইয়াজউদ্দিন ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের খাদ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি কর্ম কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এই অধ্যাপক।

২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে বিএনপি সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। সরকারের মেয়াদপূর্তির পর ২০০৬ সালের অক্টোবরে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেন তিনি। এর আড়াই মাসের মাথায় ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি সেনা বাহিনীর হস্তক্ষেপে দেশে জরুরি আইন জারি করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়েন। তার স্থলাভিষিক্ত হন ড. ফখরুদ্দীন আহমদ।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ এর ১২ ফেব্রুয়ারি মো. জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলে ইয়াজুদ্দিন আহম্মেদের কার্যকাল শেষ হয়।

১৯৩১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জ জেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই শিক্ষাবিদ চলতি বছরই ৮০ বছরে পা দেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য ১৯৯৫ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দেয়। তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতির রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ