শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

অতিদরিদ্রদের জন্য সুদবিহীন ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু করবে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার : অতিদরিদ্রদের জন্য কয়েক দিনের মধ্যে সুদবিহীন ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু করবে সরকার। এ বিষয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘অতিদারিদ্র্য দূরীকরণে প্রাণিসম্পদের ভূমিকা' শীর্ষক সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ব্র্যাক এডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (উৎপাদন) ডা. মো. তৌহিদুল আলী। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অতিদরিদ্র কর্মসূচির ওপর সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা তুলে ধরেন ব্র্যাকের অতিদরিদ্র কর্মসূচির সিনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট দ্বিজেন রায়। অতিদারিদ্র্য দূরীকরণে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কার্যক্রম সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগের প্রাণিসম্পদ দফতরের উপপরিচালক ডা. এমএইচ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের পরিচালক শীপা হাফিজা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের এডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর এলিসন সুব্রত বাড়ৈ। সেমিনারে ব্র্যাকের এডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জের পলিসি এনালিস্ট মো. আব্দুল হালিম মিঞা জাতীয় সেমিনার ২০১০-এ উপস্থাপিত সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন। এছাড়া মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিভাগের ৮টি জেলা ও উপজেলার সকল প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত বলেন, কৃত্রিম প্রজননকে আরো কার্যকর করতে ১ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে। কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকের সঙ্গে কাজ করবে। এর ফলে বর্তমানে গরু-ছাগলের কৃত্রিম প্রজননের যে ৭৫ শতাংশ অনুৎপাদনশীলতা রয়েছে তা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ব্র্যাকের অতিদরিদ্র কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে সচিব বলেন, নারী ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে এ ধরনের প্রকল্পের ভূমিকা রয়েছে। তবে এর অন্যতম প্রধান সমস্যা অনেক সময় অতিদরিদ্রদের যে সহায়তা দেয়া হয় তা তারা নিজেরা পারিবারিক কাজে খরচ করে। এজন্য অতিদরিদ্রদের এমন সহায়তা দেয়া উচিত যাতে কমপক্ষে ৩-৪ মাস স্থায়ীত্ব থাকে।

মুক্ত আলোচনায় বক্তরা এ ক্ষেত্রে গবাদি পশুর ভ্যাকসিনের দু্রাপ্যতা, জনবল সঙ্কট, সমন্বয়ের অভাব, পশু পালনকারীদের অজ্ঞতাসহ নানান সমস্যা তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি কর্মকর্তারা অতিদরিদ্রদের প্রাণিসম্পদের  বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা, ঔষধ সরবরাহ বৃদ্ধি, ভ্যাকসিনেশন, বিনামূল্যে কৃত্রিম প্রজনন সেবাপ্রদান এবং অতিদরিদ্রদের কাছে প্রাণিসম্পদের সেবা প্রদানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশমালা তুলে ধরেন।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ৪০ শতাংশ। এরমধ্যে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী ১০ শতাংশ। এদের স্বার্থে ব্র্যাক ২০০২ সাল থেকে অতিদরিদ্র কর্মসূচি গ্রহণ করে। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত  ১ লাখ অতিদরিদ্র নারীপ্রধান পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আরো ৩ লাখ অতিদরিদ্র পরিবারকে এ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ