শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

ঈদের পোশাক কিনতে অভিজাত বিপণীগুলোতে ছুটছেন ফ্যাশন-সচেতনরা

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : রহমতের দশটি রোজা পার হয়ে গেছে। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে গেছে মাগফিরাতের অধ্যায়। ঈদের এখনো প্রায় বিশ দিন বাকি। ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে ঈদের আমেজ। পোশাকের দোকানগুলোর দিকে তাকালেই বুঝা যায় নতুন পোশাক ছাড়া যেন ঈদের আনন্দই হয় না। ঈদের আনন্দের পূর্ণতা দিতেই যেন নতুন পোশাক। তাইতো নতুন পোশাকে ভরে গেছে বিপণীগুলো। এখনই বিপণীগুলোতে ক্রেতারা ভিড় জমাতে শুরু করেছে। ঈদ আসলেই মুসলমানদের মধ্যে একটি আনন্দের শিহরণ বয়ে যায়। এ চিত্র শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশেই ঈদ এলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে কমবেশি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ধুম পড়ে যায় কেনাকাটায়। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই ঈদ উৎসবের জন্য প্রস্তুত। পবিত্র রমযানের শুরু থেকেই চলছে বেচা-কেনা। ছোট ছোট স্থানীয় বাজার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারেও বিক্রেতাদের বিশ্রামের ফুসরত নেই। ঈদ আসলেই কদর বেড়ে যায় ফ্যাশন ডিজাইনারদের। অনেক দিনই নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাদের। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ফ্যাশন ডিজাইনাররা বিভিন্ন ডিজাইনের পোশক বাজারে ছাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এজন্যই ছোট-বড়, নারী-পুরুষ তাদের পছন্দের পোশাকটি কিনতে বিরামহীনভাবে ছুটে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন অভিজাত শপিং মলগুলোতে। ঈদের কেনাকাটা করতে বাংলাদেশের ফ্যাশন-সচেতন ব্যক্তিরা শুধু রাজধানীর বিলাসবহুল মার্কেট নয়, বিভিন্ন দেশের ফ্যাশন হাউজগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্যয়বহুল শপিং মলগুলোতে ছিল ফ্যাশন সচেতন ক্রেতাদের ভিড়। উপলক্ষ নিজের পছন্দের পোশাক খুজে বের করে ক্রয় করা। কথা হয় বসুন্ধরা সিটিতে বনানী থেকে পোশাক কিনতে আসা আবির ও ঝর্ণার সাথে। তারা বলেন, নিজেদের পছন্দের পোশাক তালাশ করছি। বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে ঘুরে দেখবো এর পর পছন্দ হলে কিনে ফেলবো। আজকেই কেনা উদ্দেশ্য নয়, ঈদ এখনো বেশ কিছুদিন বাকি আছে তাই সময় নিয়ে ভালো ডিজাইনের পোশাকটিই কিনতে চায়। খোজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার মেট্রো শপিং মল, সানরাইজ প্লাজা, প্লাজা এ আর, অর্কিড প্লাজা, রাপা প্লাজায় ছিল ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় যা অনেক রাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বিভিন্ন দোকানিরা তাদের সেরা কালেকশনগুলো দেখিয়ে চলেছে ক্রেতাদের। ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে রাজধানীর সেরা শপিং মলগুলো। এসব শপিং মলের কয়েকজন বিক্রেতা জানান, এবারের ঈদে বিভিন্ন তারকাদের নামে পোশাক বের করেছে ফ্যাশন ডিজাইনাররা। এ পোশাকগুলোর চাহিদাও বেশি। এ তালিকায় শাকিরা, কারিনা, অক্টপাসসহ বিভিন্ন নামের পোশাক রয়েছে। অন্যান্য শাড়ির মধ্য রয়েছে মসলিন, সিফন, কাতান ও জামদানি। রাজধানীর শান্তিনগরস্থ টুইন টাওয়ারে তৃতীয় তলায় রঙ, মৌনতা, নিখুতসহ বেশ কয়েকটি  দোকান তাদের স্পেশাল ডিজাইন নিয়ে ঈদের বাজারে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ছোটদের জন্য রং বেরংয়ের রঙিন সুতায় হাতের কাজ করা ফতোয়া ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। কর্ণফুলি গার্ডেন সিটি, অর্কিড প্লাজা, মৌচাক মার্কেট, হোসাফ টাওয়ার, বসুন্ধরা সিটিসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী, গুলশানের শপিং মলগুলোতেও নিজেদের পছন্দের পোশাক পছন্দ করে কিনতে ভিড় জমায় ক্রেতারা। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এ সব শপিং মলগুলো বিভিন্ন রকমের কুপন সিস্টেম চালু করেছে। পুরস্কার হিসেবে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আইটেমের পণ্যসামগ্রীর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এবারের ঈদে প্রায় প্রত্যেটি শপিং মলে হাতের কাজ করা শাড়ি, ফতুয়া, পাঞ্জাবি বেশি শোভা পাচ্ছে। এসব মার্কেটে ফতুয়া ৮শ' টাকার কমে নেই। রাজধানীর মিরপুরে বেনারসি শাড়ির ব্যাপক চাহিদা। এ বেনারসি পল্লীতে কাজ করে অধিকাংশই নারীশ্রমিক। তারা শাড়ির ওপর বিভিন্ন রংয়ের সুতা দিয়ে কারুকার্য করছে। উদ্দেশ্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ