শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

এম ইউ আহমদের উপর নির্যাতন আইনজীবী সমাজের উপর আঘাত

স্টাফ রিপোর্টার : সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম ইউ আহমেদের ওপর পুলিশের বর্বর বাহিনীর নির্যাতনে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে আদালত অঙ্গন।  পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার এই আইনজীবী হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন। তার ওপর বর্বর নির্যাতন ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহরের দাবিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম প্রতিবাদ সভা করেছে। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেছেন আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার পর এবার আইনজীবীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। সভায় আইনজীবীরা হেফাজতে পুলিশী নির্যাতন হওয়ায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের প্রতি আহবান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের এ ধরনের আচরণকে অতীতে বাকশাল সরকারের চেয়ে ভয়াবহ উল্লেখ করে রাজপথে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির দাবি জানান। সভায় নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুর মুখে থাকা এম ইউ আহমেদের কর্মকান্ড আইনজীবীদের বক্তব্যে ওঠে আসলে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় সহকর্মী অনেক আইনজীবীকে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে। সভায় সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ ও আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানোর প্রতিবাদে আদালত বর্জনসহ বৃহত্তর কর্মসুচি দাবি করা হয়।

আইনজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বারের নেতৃত্বে থাকা বর্তমান কমিটি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র রক্ষায় কোন দিন আপোস করবে না। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে আদালত বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এজন্য তিনি সকল আইনজীবীদের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার আহবান জানান। তিনি বলেন শুধু দাবি করলে হবে না আইনজীবীদেও সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকতে হবে তাহলে আন্দোলন সংগ্রাম সফল হবে। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আজ কালো কোর্টের ওপর আঘাত এসেছে। আইনজীবীদের ওপর আঘাত এসেছে, আঘাত এসেছে আমার ওপর। এম ইউ আহমেদের ওপর নির্যাতন আইনজীবী সমাজের ওপর আঘাত। আমি বারের সম্পাদককে নিয়ে ১৩ আইনজীবী যাতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার না হয় সেজন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। তাদেরকে অনুরোধ করেছি আপনারা আইনজীবীদের পুলিশের কাছে অত্যাচারিত হতে দেবেন না। কারণ এখানে পুলিশকে নাজেহাল করা হয়েছে অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ইচ্ছা করে আইনজীবীদের নাজেহাল করতে অহমিকা দেখাতে বর্তমান অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারে যতদিন আছি যে কোন আন্দোলনে যেতে রাজি আছি। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও সম্পাদক আপোস করবে না। জনৈক বিচারপতি মামলার বিষয়বস্তুর বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে যে আদেশ দিয়েছেন তার কারণে আজকে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সিনিয়র আইনজীবীরা তার খাস কামরায় গিয়ে অনুরোধ করেছিলাম বিষয়বস্তুর বাইরে আদেশ দিলে দেবেন না। কিন্তু তার পরও একই আদেশ দেয়া হল। তখন আমি ও সম্পাদক প্রতিবাদ করি।

মাহবুব হোসেন বলেন, সীমালঙ্ঘন করবেন না। আমাদেরর ধৈর্যের সীমা আছে। নির্যাতিত হতে রাজি আছি, কিন্তু কোন অন্যায় মেনে নেয়া হবে না। আইনজীবীদের মান মর্যাদা রক্ষার জন্য আমরা যে কোন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।

আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র আইনজীবী নিতায় রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সাবেক সম্পাদক এডভোকেট সাইদুর রহমান, বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, এডভোকেট ফরিদউদ্দিন খান, এডভোকেট  মো. ফিরোজ শাহ, এডভোকেট  ফেরদাউস আক্তার ওয়াহিদা, এডভোকেট জামিল আক্তার এলাহী, এডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, এডভোকেট  জাকির হোসেন ভূঁইয়া, এডভোকেট একেএম নুরুল আলম, এডভোকেট  এবিএম রফিকুল হক রাজা, এডভোকেট শেখ তাহসিন আলী, এডভোকেট প্রদীপ কুমার রায় প্রমুখ। সভায় প্রায় দু' শতাধিক আইনজীবী অংশ নেন।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, গত ৩০ বছরেও আমি সুপ্রিম কোর্ট বারে এ অবস্থা দেখিনি। একজন আইানজীবীকে পুলিশ মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে। পুলিশের নির্যাতনে তিনি শঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। তিনি এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সুপ্রিম কোর্টে এ অবস্থা অতীতে আর দেখিনি। একজন আইনজীবীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে যা যা করা দরকার আমাদের তাই করতে হবে। তিনি হাইকোর্টের একজন বিচারপতির কথা উল্লেখ করে বলেন, গত ৪০ বছর থেকে তাকে চিনি। তাকে বিজ্ঞ হিসেবে জানতাম। কিন্তু তিনি কিভাবে বলেন, সহ্য করা হবে না। তিনি আরো বলেন, এমইউ আহমেদের কিছু হলে তার বিচার করা হবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আগামী রোববার এমইউ আহমেদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি সারা দেশের আদালতের বার এসোসিয়েশনকে আইনজীবী ফোরামের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সভায় জয়নুল আবেদীন বলেন, কোন একটি মহল বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায়। কোন এক ব্যক্তির ইচ্ছায় আজ সুপ্রিম কোর্ট উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এর থেকে উত্তরনে আইনজীবীদেও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই।

সাইদুর রহমান বলেন, পুলিশি হেফাজতে আইনজীবীকে নির্যাতন মেনে নেয়া যায় না। যে আইনজীবীরা মানবাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন তাদেরকে এখন নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি পুলিশি হেফাজতে আইনজীবীর নির্যাতনকে ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও সম্পাদকের প্রতি আহবান জানান।

এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশের নির্যাতনে আমাদের সহকর্মী হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায় রয়েছেন। এই নির্যাতানকে দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে হবে না। এই হামলা সুপ্রিম কোর্টের ওপর। তাই রাজপথে কঠোর আন্দোলন করে সরকারের বাকশালী আচরণ প্রতিহত করতে হবে।

এডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন আজকের পরিস্থিতির জন্য একজন বিচারপতি দায়ী। আমরা তার ভূমিকার জন্য ধিক্কার জানায়। তিনি বলেন, আইনের যে ধারায় সন্ত্রাসের গডফাদার জয়নাল হাজারীর মতো ব্যক্তিরা জামিন পেয়ে ঘুরে বেড়ায় আজকে সে একই ধারায় আইনজীবীদের জামিন হচ্ছে না। জামিনের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। এটা বিচার বিভাগের জন্য লজ্জাজনক। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন আর কতজন আইনজীবী নির্যাতিত হলে বার আন্দোলনে যাবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ