শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার : ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার কথা স্বীকার করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এ টি এম শামসুল হুদা। তিনি বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা আলাদা। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী নির্বাচনের নিরপেক্ষতা আপনারা আশা করতে পারবেন না। এটি ছাড়া বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীন সব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনসহ সকল সাংবিধানিক-প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ লোক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে বলেন, দলীয়করণের অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। প্রয়োজনে আন্দোলন করে এটা প্রতিহত করতে হবে। আদালতের গোবিন্দরা নির্বাচন কমিশনকে জ্বালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত ‘‘নির্বাচন কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব ও নাগরিক ভাবনা’’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, ডেমোক্রেসি ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাংবাদিক মনির হায়দার প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

ড. এ টি এম শামসুল হুদা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময় স্থানীয় সরকার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে হাতেগোনা কয়েকজন ডিসি, এসপি ছাড়া সবাই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে টিএনও ও ওসি পর্যায় থেকে বেশি অভিযোগ এসেছে। কিন্তু এঁদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের লোক দিয়েই কাজ করতে হবে। প্রশাসনে যাঁরা কাজ করবে, তাঁদের দলীয় প্রভাবমুক্ত হতে হবে। তা না হলে ভালো নির্বাচন করা কঠিন। তবে রিটানিং অফিসার পদে নির্বাচন কমিশনের লোক নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। আদালতের গোবিন্দরা নির্বাচন কমিশনকে জ্বালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় দেখা যায় আমরা নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি, হঠাৎ করে আদালত থেকে স্থগিতাদেশ দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে আমাদের কাজে বাঁধার সৃষ্টি করছে। তবে বর্তমানে এর কিছুটা সমাধান হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন থেকে আদালতকে কোন নির্বাচন স্থগিত করতে হলে ইসির পরামর্শ নিতে হবে।

দেশে ২০১৪ সালেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, হইচই করে দেশের বর্তমান প্রক্রিয়া বন্ধ করার ক্ষমতা রাজনৈতিক দলসহ কারও নেই। অর্থনীতিকে ধ্বংসকারী রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম, তালবাহানা ঠাঁই পাবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় আসতে হবে।

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন না দেয়ার সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ডিসিসিতে অনেকদিন নির্বাচন না হওয়ায় তামাদি হয়ে গেছে। নির্বাচনের জন্য সরকারকে আমরা বার বার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু সরকার একেক সময় একেক উত্তর দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করে বিব্রত হতে চাই না। সরকারকেই এটির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সিইসি বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের কোনো মতামত দেয়নি। আমারা আশা করছি, তারা আবারও আমাদের সঙ্গে বসবে, মতামত দেবে।

সংস্কার প্রস্তাবের ওপর কমিশনে যেসব প্রস্তাব এসেছে সেগুলো রেখে যাওয়া হবে। পরের কমিশন এসে সেগুলো নিয়ে কাজ করবে। সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ না হলে সার্চ কমিটি করে কোন লাভ নেই বলে মন্তব্য করেন সিইসি।

আ স ম রব বলেন, বর্তমান ইসি স্বাধীন নয়। তারা অসহায়। ডিসিসি নির্বাচন না দিতে পারা তার প্রমাণ। দেশ যেদিকে যাচ্ছে তাতে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল আদালতকে ব্যবহার করছে। এখন গোবিন্দরা দেশ চালাচ্ছে। বিচারালয় শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া ইসির পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে এনে সরকারকে সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিতদের নিয়ে যে সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন করেছে, তা যুক্তিযুক্ত হবে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সাংবিধানিক পদে এখন যাঁরা আছেন, তাঁরা সরকারি দলের লোক। আর তাঁদের প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে মেনে নেবে না বিএনপি।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, জাতি এক ভয়াবহ দুর্যোগে পড়তে যাচ্ছে। মানুষ সামনে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ