শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

সিরীয় বাহিনীর নিষ্ঠুর দমন অভিযানে ১৭ জন নিহত || আহত ২০

দামেস্ক থেকে এএফপি : সিরিয়ায় বিরোধীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদকারীদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনীর বেপরোয়া গুলীবর্ষণে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দায়সারা বক্তব্যের পর পশ্চিমা বিশ্বের অনেকটা উস্কানির প্রেক্ষিতেই এই দমনাভিযানের ঘটনা ঘটে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে নির্মম ও নির্বিচার হামলা চালানোর ব্যাপারের জন্য সেনা বাহিনীর প্রতি মৌন উস্কানির পরই এই হামলা চালানো হলো। বিক্ষোভকারীরা গত বুধবার জানায়, সরকারি বাহিনীর বেধড়ক গুলীবর্ষণে হোমস সিটিতে ১৭ জন নিহত হয়। এছাড়া গুলীতে আহত হয়েছে আরও অন্তত ২০ জন। জনৈক বিক্ষোভকারী টেলিফোনে জানান, খোলা আকাশের নীচে প্রখর রোদের মধ্যে অনেক লাশ পড়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির মত গুলীবর্ষণের মধ্যে তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারি ব্যবস্থায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা জনৈক এএফপি'র সাংবাদিক সেনাবাহিনী ঐ স্থান থেকে সরিয়ে নেয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং সেখানে আসাদ প্রশাসনের দমনাভিযানের কোন চিহ্ন মাত্র অবশিষ্ট নেই বলে জানান তিনি। এদিকে বৃটিশভিত্তিক সিরীয় মানবাধিকার কর্মী রামি আব্দুল রহমান বলেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সারমিন শহরে সরকারি বাহিনীর অভিযানে একজন মহিলা নিহত হয়েছে।

আব্দুল রহমান বলেন, পূর্বাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ দেইর এজরের অধিবাসীরা জানান, ব্যাপক বিস্ফোরণ ও গুলীবর্ষণের বিকট শব্দের প্রতিধ্বনিতে তাদের আশপাশ এলাকা ভয়ানকভাবে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এতে তারা ভীষণ রকমের ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। গত রোববার ৪২ জন এবং বুধবার ১৭ জন নিহত হবার পর আবার নতুন করে বিপদ সমাসন্ন ভেবেই তারা চরম আতংকের মধ্যে সময় পার করে। জাতিসংঘ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আস্কার ফার্নন্দেজ তারানকো সিরিয়া পরিস্থিতির ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অবহিত করেন। পরিষদ অবিলম্বে সিরিয়ার সহিংসতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানায়। তারানকোর উদ্ধৃতি দিয়ে জানোনো  হয়, বিক্ষোভকারীদের দমন কোন অংশেই হ্রাস পায়নি। কেবলমাত্র মঙ্গলবারই সেনাবাহিনীর দমনাভিযানে দেশব্যাপী ৮৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সূত্র আরও জানায়, সিরীয় বাহিনী আরও অভিযান চালানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শহরগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

মরক্কোর উদ্বেগ
এদিকে সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের দমনে সরকারি বাহিনীর বেপরোয়া গুলীবর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উদ্ভূত সংকট নিরসনে অভ্যন্তরীণ সংলাপ আয়োজনেরও আহবান জানায় দেশটি। মরক্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সিরিয়ায় বিরাজমান পরিস্থিতিতে ব্যাপক উদ্বেগ ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, মরক্কো সবসময়ই অপর কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ঐতিহ্যগত কারণেই কোনরূপ মন্তব্য বা হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকে।

বিবৃতিতে সেনা অভিযানে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি বিশেষ করে বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে গভীর দুঃখ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়। সেই সাথে উদ্ভুত সংকট নিরসনকল্পে সরকার এবং বিরোধী দলীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে অর্থবহ ও নিবিড় পরিবেশে অভ্যন্তরীণ সংলাপ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে প্রাক্কালে ওয়াসিংটনও আসাদ প্রশানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের আহবান জানিয়েছে। এদিকে আরব দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কূটনৈতিক দ্বনদ্ব সংঘাত নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্রাজিল, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে উদাত্ত আহবান জানানো হয়েছে। গত মধ্য মার্চ থেকে অঞ্চলসমূহে দমনাভিযানে ২ সহস্রাধিক লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ