শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

নতুন নতুন শহরে দাঙ্গার বিস্তার || ১১শ'র বেশি আটক || বিচার করতে রাতেও আদালত খোলা

সংগ্রাম ডেস্ক : বৃটেনে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গা গত বুধবার চতুর্থ রাতের মত নতুন নতুন নগরীতে ছড়িয়ে পড়েছে। লন্ডনের রাস্তায় ১৬ হাজার পুলিশ মোতায়েন করার পর তরুণরা মানচেস্টার ও বাণিজ্যিক এলাকা মিডল্যান্ডে তান্ড চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডেবিড ক্যামেরন দাঙ্গা দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গত বুধবার পর্যন্ত ১১শ'র বেশি দাঙ্গাবাজ ও লুটপাটকারীকে গ্রেফতার করেছে। আটক তরুণদের বিচারের মুখোমুখি করতে আদালত রাতেও খোলা রাখা হয়েছে। দাঙ্গাবাজরা সর্বত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় সুবিধা করতে পারেনি। শিখেরা নিজস্ব স্টাইলে তলোয়ার উঁচিয়ে তাদের ধর্মীয় স্থান গুরুদুয়ারা পাহারা দিচ্ছে।

লন্ডন  থেকে বাসস : বৃটেনে গত কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা গতকাল চতুর্থ রাতের মত নতুন নতুন নগরীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে, লন্ডনের রাস্তায় ১৬ হাজার পুলিশ মোতায়েন করার পর তরুণরা ম্যানচেস্টার ও বাণিজ্যিক এলাকা মিডল্যান্ডে তান্ডব চালিয়েছে। বৃটেনের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী ম্যানচেস্টারে তরুণরা বিভিন্ন দোকানের জানালা ভাঙচুর ও লুটপাট করে। দাঙ্গাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে ফটোসাংবাদিকদের ধাওয়া করে। পুলিশ একে গত ত্রিশ বছরের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা বলে আখ্যায়িত করেছে। মধ্য ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ব্রমউইচ ও ওলভারহ্যাম্পটনে দাঙ্গাকারীরা বিভিন্ন ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী নটিংহ্যামের একটি পুলিশ স্টেশনে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তবে কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী বার্মিংহ্যামের বিভিন্ন দোকানেও লুটপাট চালানো হয়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লিভারপুলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর বিভিন্ন বস্তু ছুঁড়ে মারে। তবে লন্ডনে গত রাতে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। এদিকে, উদ্বিগ্ন জনতা তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়কে রক্ষায় রাজপথে অবস্থান নিয়েছে।

গত সোমবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দাঙ্গাকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ এরাতে স্মরণকালের ভয়াবহ বিশৃক্মখলা ঘটেছে বলে উল্লেখ করে। দাঙ্গা দমনে মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের রাস্তায় ১৬ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন আইনশৃক্মখলা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করেন। লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। পুলিশের পরামর্শে দোকানের শাটারও বন্ধ রাখা হয়েছে।

উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে শত শত তরুণের বিক্ষোভের মুখে পুলিশ পিছু হটে। এসময় দাঙ্গাকারীদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। তারা বিভিন্ন জুতা ও ইলেকট্রনিকের দোকান ভাঙচুর এবং নগরীর কেন্দ্রস্থলে মেয়েদের একটি পোশাকের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ম্যানচেস্টারের প্রধান বিপনী কেন্দ্র আর্নডেলের প্রবেশদ্বারের জানালা ভাঙচুর করা হয়। এরপর শত শত তরুণ দোকানে ঢুকে পড়ে এবং পোশাক ও জুতা লুটপাট করে। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের অ্যাসিসটেন্ট চিফ কনস্টেবল গ্যারি শিওয়ান এ ঘটনাকে ব্যাপক সহিংসতা ও ব্যাপক অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘এর আগে আমি এ ধরনের ঘটনা দেখিনি’’।

বার্মিংহ্যামেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, পার্শ্ববর্তী ওলভারহ্যাম্পটনে পুলিশ ও তরুণদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এদিকে, লন্ডনের পশ্চিমে সাউথহলের শিখ সম্প্রদায়ের শত শত লোক তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়কে রায় রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, লুটপাটকারীদের মোকাবেলায় বেশ কিছুসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী লন্ডনের দক্ষিণে এলথ্যামে জড়ো হয়েছেন।

এদিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, দাঙ্গা-হাঙ্গামার পর লন্ডনের পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলেও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন দাঙ্গা দমনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। বার্মিংহ্যাম, মানচেস্টার, লিভারপুল, গ্লস্টার, লিডস ও ব্রিস্টারে দাঙ্গা, লুটতরাজ, সহিংসতার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের সভাপতিত্বে ইমার্জেন্সি কমিটি কোবরা বুধবার দ্বিতীয়বারের মতো সভা করে।

আইনশৃক্মখলা ফেরাতে সরকার পুলিশকে সব রকম সহায়তা করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, দাঙ্গা দমনে পুলিশের যা যা দরকার তার সবকিছুরই ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে পুলিশকে রাবার বুলেট ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জল কামান ব্যবহার করতে পারবে পুলিশ।

বৃটেনে টানা চার দিনের এই দাঙ্গায় প্রথমবারের মতো তিন জন মারা গেছেন। বার্মিংহ্যামের এশীয় অধ্যুষিত এলাকা উইনসনগ্রীসের ডাডলি রোডে তিন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যুবক একটি গাড়ি চাপা পড়ে মারা যান। তাদের আত্মীয় স্বজন দাবি করেছেন, নিজেদের সহায় সম্পত্তি পাহারা দেয়ার সময় শাহজাদ (৩০) মুনির হোসেন (৩২) নামের দুই ভাই এবং হারুন জাহান (১৯) নামের তরুণ গাড়ি চাপায় নিহত হয়েছে।

গাড়িটি তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। নিহতদের প্রতিবেশীরা বলেছেন, নিহতরা মধ্যরাতে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে আরও অনেকের সঙ্গে তাদের এলাকায় যাতে লুটতরাজ না হয় সে জন্যে ডাডলি রোডে অবস্থান নেন। এ সময় একটি গাড়ি তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও এম্বুলেন্স আসার আগ পর্যন্ত ৭০/৮০ জনের মতো লোক তাদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পরই এলাকায় এশীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ স্থানীয় হাসপাতালে ভিড় জমায়। স্থানীয় এমপি শাবানা মাহবুদ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ডাডলি রোড মসজিদে জরুরি ভিত্তিতে সভা করেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এটা কোন দুর্ঘটনা নয়, ফুটপাতে তাদের ওপর গাড়ি চালিয়ে ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। ২০ মিনিট দেরিতে এম্বুলেন্স এসে পৌঁছার কারণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দাঙ্গাকারী ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে রাতেও আদালতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।তিনি বলেন, দাঙ্গাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য তাদের ছবি প্রকাশ করা হবে। দাঙ্গাকারীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিশাল অভিযান পরিচালনা করবে। ছবি দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। এদের ছবি প্রকাশে মানবাধিকার সম্পর্কিত কোন ধরনের আইনি জটিলতা বাধা হবে না বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

ডেভিড ক্যামেরন বলেন, যারা সহিংসতায় জড়িত ছিল তাদের জেলে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, জেলে পাঠানো না পাঠানোর দায়িত্ব আদালতের, তবে আমি আশা করি এদের প্রত্যেককেই জেল দন্ড দেয়া হবে।

ওদিকে, লন্ডনের পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে পুলিশের সংখ্যা না কমানোর আহবান জানিয়েছেন মেয়র বরিস জনসন। কোয়ালিশন সরকারের ব্যয় সংকোচ পরিকল্পনায় লন্ডনে ২ হাজারের বেশি পুলিশের সংখ্যা কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তটি এখন ফের ভেবে দেখার আহবান জানিয়েছেন মেয়র বরিস। লন্ডনের অরাজক পরিস্থিতির কারণে এবং পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশংকায় পূর্বনির্ধারিত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে বুধবারের ইংল্যান্ড- নেদারল্যান্ডস প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বাতিল করা হয়। এছাড়া আরো তিনটি ক্লাব ম্যাচ স্থগিত করা হয়।

২০১২ সালের বিশ্ব অলিম্পিকের আয়োজক শহর লন্ডন। ওই মহাআয়োজনের মাত্র এক বছর আগে এ ধরনের সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় স্বাগতিক শহর হিসেবে লন্ডনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে লন্ডনের আয়োজক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এ ঘটনা অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

বাঙালিদের ধাওয়ায় পালালো দাঙ্গাবাজরা
গোটা লন্ডনজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব তৈরি হলেও বাঙালি পাড়ায় সুবিধা করতে পারেনি দাঙ্গাবাজরা। সেখানে ধাওয়া খেয়ে পালাতে হয়েছে তাদের। বাঙালিদের এ তৎপরতার প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ রাজনীতিকরা। প্রথম দিকে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় দাঙ্গার প্রভাব না পড়লেও সোমবার সন্ধ্যার দিকে দাঙ্গাবাজরা হানা দেয় টাওয়ার হ্যামলেটস বারায়। বাঙালিপ্রধান এ এলাকায় দাঙ্গাবাজরা আসে সেদিন সন্ধ্যার কিছু সময় আগে।

পূর্ব লন্ডনে দাঙ্গাবাজদের আক্রমণ ছিলো ঝটিকা ধরনের। হুট করে দল বেঁধে এসে হাজির হয় তারা। প্রথমে বেথনাল গ্রিন রোডে এবং পরে হোয়াইট চ্যাপেল রোডে। সাধারণ মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভাংচুর শুরু করে তারা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৫টি গাড়ি, ১৫টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও দুটি ব্যাংক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাঙ্গাবাজ দলটিতে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের সঙ্গে ছিলো শ্বেতাঙ্গরাও। তারা ডকল্যান্ডে চারটি গাড়ি ভাংচুর করে, এর মধ্যে দুটির মালিক বাঙালি। বেথনাল গ্রিন এলাকায় হালিফ্যাক্স ব্যাংক, একটি মানি শপ ও টেসকোতে হামলা হয়। রোমান রোডে একটি গহনার দোকান ও একটি ফ্যাশন হাউস ভাংচুর হয়। ভাংচুর হয় পুলিশের ছয়টি গাড়ি।

পূর্ব লন্ডনে বাঙালিদের সবচেয়ে বড় ঠিকানা হোয়াইট চ্যাপেলে দাঙ্গাবাজরা ঢোকে সন্ধ্যার একটি আগে। ইফতারের আয়োজন নিয়ে অধিকাংশ বাঙালি যখন ব্যস্ত তখন হুট করে লুটেরারা ঢুকে নেস্ট ওয়েস্ট ব্যাংক, জেডি স্পোর্টস, ফিস্টসহ কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে।

এরপর দাঙ্গাবাজরা যখন পূর্ব লন্ডন মসজিদের সামনে আসে, তখন শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা। এলাকার তরুণরা জড়ো হয়ে একসঙ্গে ধাওয়া করে দাঙ্গাবাজদের। ধাওয়ার মুখে লুটেরারা পালিয়ে যায়।

একই ধরনের প্রতিরোধ হয় বেথনাল গ্রিন রোডেও। আর বাঙালিদের এ তৎপরতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় রাজনীতিকরা। বেথনাল গ্রিন ও বো আসনের পার্লামেন্ট সদস্য রুশনারা আলী, পপলার লাইম হাউসের পার্লামেন্ট সদস্য জিম ফিটজ প্যাট্রিক, টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফর রহমান সবাই এক বাক্যে বলেছেন, দুর্যোগকালীন এ সময়ে বাঙালি বংশোদ্ভুত তরুণদের ভূমিকা ছিলো অনন্য। টাওয়ার হ্যামলেটস বারার পুলিশ কর্মকর্তা পল রিকেট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মোট ছয় জন দাঙ্গাবাজকে গ্রেফতার করেছেন তারা। তবে তাদের পরিচয় জানাননি তিনি।

লন্ডনের এ যাবৎকালের ভয়াবহ দাঙ্গা আর লুটপাটের ঘটনায় কোনো বাঙালিই জড়িত ছিল না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের এমপি রুশনারা আলী। লন্ডনে দাঙ্গার চতুর্থ দিন মঙ্গলবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার সারাদিন পূর্ব লন্ডন চষে বেরিয়েছেন এমপি রুশনারা আলী ও টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমান।

দুই জনপ্রতিনিধিই পৃথকভাবে এলাকার মানুষের কাছে যান এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। তারা লুটতরাজ ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। এদিন সকালে রুশনারা আলীর প্রথমেই পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন রোডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি কথা বলেন রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও দোকানিদের সঙ্গে। এ সময় তার সাথে ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পাটির্র কাউন্সিলর ও সদস্যরা।

রুশনারা এরপর হোয়াইটচ্যাপেল রোডের দোকানগুলো পরিদর্শন করেন। খোঁজ খবর নেন এই দাঙ্গায় তারা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন কিনা। সন্ধ্যার পর তিনি ব্রিকলেনের খাবারের দোকানগুলোতে গিয়ে খোঁজখবন নেন। সন্ধ্যায় টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পাটির্র আয়োজনে ইফতার মাহফিলে বেথনাল গ্রিন বো আসনের পার্লামেন্ট সদস্য রুশনারার সঙ্গে ছিলেন পাশের আসনের সংসদ সদস্য জিম ফিটজপ্যাট্রিক। দুই এমপিই এই দুঃসময়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

এদিকে লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, লন্ডনে বসবাসকারী শিখরা নিজস্ব স্টাইলে দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পাগড়ি পরিহিত শত শত শিখ তাদের গুরুদুয়ারা রক্ষা করতে দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল তলোয়ার। মঙ্গলবার টুইটারে গুজব রটিয়ে দেয়া হয়, গুরুদুয়ারা দাঙ্গাকারীদের পরবর্তী হামলার লক্ষ্যস্থল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ