বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪
Online Edition

দশম দিনে গড়ালো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি 

স্টাফ রিপোর্টার : টানা ৯ দিন ধরে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কর্মসূচি আজ মঙ্গলবার দশম দিনে গড়ালো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বড় মিছিল করেছেন। অন্যদিকে কলাভবনের ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষকেরা।

প্রতিদিন দুপুরে শিক্ষকরা কলাভবনে অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবির কথা তুলে ধরছেন। শিক্ষকদের আশা, দাবি নিয়ে শিগগির সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে।

সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচি নিয়ে প্রজ্ঞাপন বাতিল করাসহ তিন দফা দাবিতে ১ জুলাই থেকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একযোগে এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন। কর্মসূচির কারণে তালা ঝুলছে শ্রেণিকক্ষ ও অফিসে। এ কারণে ক্লাসপরীক্ষা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ভবনেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

গতকালও কলাভবনের ফটকে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শিক্ষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদা তার বক্তব্যে নিজেদের দাবির কথা তুলে ধরে বলেন, যত দিন সমাধান না হবে, তত দিন আন্দোলন চলবে।

এদিকে এ বিষয়ে এখনো সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা বা বৈঠক হয়নি। তবে শিক্ষকদের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভেতরে-ভেতরে সরকারের সঙ্গে কথা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূঁইয়া আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, শিগগিরই আলোচনা হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সড়কে নামার হুমকি

এদিকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রত্যয়’ স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ক্যাম্পাস ছেড়ে সড়কে অবস্থান নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক ও পার্শ্ববর্তী বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে শেষ হয়। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সড়কে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ও কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, ‘আমরা বৈষম্যমূলক পেনশন কর্মসূচি বাতিল চাই। পাশাপাশি ইউজিসির চাপিয়ে দেওয়া অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা বাতিল প্রয়োজন। যে নীতিমালা শিক্ষকেরা মানেন না, আমরাও তা মানতে চাই না।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন এই পেনশন কর্মসূচিকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে এক সপ্তাহ ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ব্যানারে সমন্বিতভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের সামনে অবস্থান নিচ্ছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য আল-আমিন শিকদার তৌফিক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধুবাদ জানাই। তবে তা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নয়। প্রহসনমূলক এই স্কিম আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে মুখোশধারী কিছু কালো লোক।’ তিনি বলেন, এই স্কিম বাতিলের দাবিতে সবাই একত্রিত। কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলন হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনা ছেড়ে রাজপথে কর্মসূচি পালন করবেন তারা। এদিকে অন্যান্য দিনের মতো পেনশন কর্মসূচি ‘প্রত্যয়’ প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ