বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪
Online Edition

আজ সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক বাংলা ব্লকেড

আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের সড়ক-মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনত শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ নেতারা এই ঘোষণা দেন -সংগ্রাম

# দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ কর্মসূচির আওতাভুক্ত

# বুয়েট শিক্ষার্থীদের সংহতি

স্টাফ রিপোর্টার: আবারো নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বুধবার সারাদেশে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বাত্মক বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা দেন। আন্দোলনের অন্যতম সমম্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, (বুধবার আজ) সকাল-সন্ধ্যা ব্লকেড কর্মসূচি পালিত হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ এর আওতাভুক্ত থাকবে। দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী সড়ক অবরোধের আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ জুন থেকে আন্দোলনে আছি। এই আন্দোলন শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে করেনি। হাইকোর্টের রায়ের কারণে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। অনেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বলছেন। আমরাও চাই না সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি তৈরি হোক। কিন্তু এখনো নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা বা আশ্বাস পাইনি। সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কোটা বৈষম্য নিরসনের কথা বলছি আমরা। 

কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, বুধবার থেকে সকাল-সন্ধ্যা ব্লকেড কর্মসূচি থাকবে। সকাল ১০টা থেকে ব্লকেড কর্মসূচি চলবে। সড়ক ও রেলপথ ব্লকেডের আওতাভুক্ত থাকবো। সাংবাদিক ও জরুরি সেবার পরিবহনগুলো এই ব্লকেড কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা যে আন্দোলনটি চালিয়ে যাচ্ছি এটি কোটা বাতিলের আন্দোলন নয়। আমাদের আন্দোলন হচ্ছে বাস্তবতার আলোকে ন্যায্যতার পর্যায়ে কোটা সংস্কার করা। আমরা বিভিন্নভাবে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি, আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরোধী কিনা। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের কোটার বিরোধিতা করছি না, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধার বিরোধিতা করছি না। কিন্তু আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিদের কোটার বিরোধিতা করছি।

ন্যূনতম কোটা রাখা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি কোটা শুধু প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। আমারা ৫ পার্সেন্ট কোটা যৌক্তিক বলে বিবেচনা করছি। আমাদের মূল দাবি হলো নির্বাহী বিভাগের কাছে।

সকালে দুই শিক্ষার্থীর দায়ের করা রিটের বিষয়ে সন্বয়ক শারজিস আলম বলেন, এটি আমাদের আন্দোলনের কোনও অংশ নয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, নিজেদের ব্যক্তিগত আগ্রহের জায়গা থেকে এই রিট করেছেন। আমরা তাদের এই রিট সমর্থন করছি। তবে এটি আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

রিটের রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, রিটের রায় যাই হোক না কেন, আমাদের দাবি নির্বাহী বিভাগের কাছে। নেতিবাচক সিদ্ধান্ত আসলে তো কোনও কথাই নেই, আন্দোলন চলমান থাকবে। আর যদি ইতিবাচক আসে, যদি আমাদের পরিপত্র বা লিখিত কোনও ডকুমেন্টের মাধ্যমে আশ্বস্ত করা হয় যে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করা হবে, তবে আমরা আন্দোলন ছেড়ে ক্লাসে ফিরে যাবো আনন্দ মিছিল করতে করতে।

প্রসঙ্গত সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধিতা করে আন্দোলন করে আসছেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা গত ৭ ও ৮ জুলাই অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এর নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’। শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকার সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। অশেষ ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। তবে মঙ্গলবার এ ধরনের কর্মসূচির পরিবর্তে অনলাইন-অফলাইনে গণসংযোগ করেন তারা। এরইমধ্যে গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এসে আজকে সারাদেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশই ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা। বাকি ১০ শতাংশ নারী কোটা, ১০ শতাংশ জেলা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এবং এক শতাংশ কোটা ছিল প্রতিবন্ধীদের।

ওই বছরই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। সেসময় শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল কোটা ৫৬ শতাংশ না হয়ে ১০ শতাংশ করা হোক। তাদের দাবির মুখে ওই বছরই সরকারি চাকরিতে পুরো কোটা পদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

তবে ২০২১ সালে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ফিরে পাওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে রিট করেন। গত ৫ জুন ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৪ জুলাই কোটার পক্ষের এক আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি করেন আদালত। রিট আবেদনকারী পক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন আপিল বিভাগ নট টুডে (৪ জুলাই নয়) বলে আদেশ দেন।

পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়। এ অবস্থায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ঢাবির ওই দুই শিক্ষার্থী আবেদন করেন।

তবে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বলছে, তাদের পক্ষ থেকে কোনো আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়নি। যে দুই শিক্ষার্থী আদালতে গেছেন তারা নিজ উদ্যোগে গেছেন। 

বুয়েট শিক্ষার্থীদের সংহতি প্রকাশ : 

এদিকে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, দেশের সর্বস্তরে কোটা সংস্কার বিষয়ক যেসব আন্দোলন হচ্ছে তা অত্যন্ত যৌক্তিক।

মঙ্গলবার বুয়েট শহীদ মিনারের পাদদেশে এক মৌন সমাবেশ শেষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সংহতি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন, তখন তিনি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং নারীদের জন্য যথাক্রমে ৩০% এবং ১০% কোটার ব্যবস্থা করেন। কেননা, মুক্তিযুদ্ধে তখন আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা অনেকে শহীদ হওয়াতে তাদের পরিবার উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারায়। পাক হানাদার বাহিনী অনেকের বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলে। অনেকে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে হারান, অনেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এমতাবস্থায়, তখন বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য জাতির জনকের ৩০% কোটা ব্যবস্থা প্রদান করা সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো। (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে 'অনগ্রসর' অবস্থা বিবেচনায় কোটা দিয়ে সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার কথা বলা আছে)। তাছাড়াও তৎকালীন নারী শিক্ষায় এই জনপদ অনগ্রসর ছিলো। যেসব নারী পড়াশোনা করেছেন তারাও অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পড়ালেখা করতে পেরেছেন। সেজন্য তাদের জন্যও কোটা থাকা জরুরি ছিলো।'

‘পরবর্তীতে মাঝে কোটা সুবিধা বন্ধ থাকার পর আবার চালু হওয়াতে অনেক মুক্তিযোদ্ধার চাকরিতে প্রবেশের বয়স পেরিয়ে যায়। যার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পর্যন্ত কোটা সুবিধা প্রদান করা যৌক্তিক ছিলো। তবে বর্তমান সময়ে এসে অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সচ্ছল জীবন-যাপন করছে। তাদের পরিবারের নাতি নাতনিদের পূর্বের অনগ্রসর পরিস্থিতি মোকাবিলা করা লাগে নাই। এক্ষেত্রে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কথা বিবেচনা করে ওদের সুবিধার্থে এবং মেধার স্বার্থে পূর্বের কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা বাধ্যতামূলক।’

নারী কোটার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘২০০৪ সালের ইউনিসেফ-এর তথ্য অনুযায়ী নারীদের সাক্ষরতার হার ছিল ৩১% এবং ২০০৮ সালে ছিল ৫১%। সেখানে বর্তমানে মেয়েদের সাক্ষরতার হার বেড়ে হয়েছে ৭৩%। যেখানে দেশের সাক্ষরতার হার ৭৬.০৮ শতাংশ। এ থেকে এটা বলা যায় যে, দেশে নারী শিক্ষায় ও যোগ্যতায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। নারীরা তাদের আত্মমর্যাদা ও অধিকারের প্রতি যথেষ্ট সচেতন। এমতাবস্থায়, ১০% নারী কোটা বজায় রাখা আত্মমর্যাদাশীল নারীদের প্রতি অসম্মানজনক। এমনকি আমাদের মাঝে উপস্থিত নারীরা কেউই নারীদের জন্য এই বিশেষ কোটা সুবিধা চায় না। তাই নারী কোটাও সংস্কার করা উচিত।’

তারা আরও বলেন, ‘পূর্বে দেশের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য বেশ কিছু প্রত্যন্ত জেলা ছিলো যারা অনগ্রসর ছিলো। যার জন্য ১০% জেলা কোটা রাখা হয়েছিলো। বর্তমানে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভাবনীয় পরিবর্তনের ফলে সারাদেশ এখন একসাথে কানেক্টেড। তাছাড়াও টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা সারাবিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রত্যন্ত জেলা বলতে কার্যত কিছু থাকছে না। তাই এখানেও ১০% কোটা রাখা ভিত্তিহীন। এছাড়া কোটা সংস্কারের পর বিভিন্ন কোটায় উপযুক্ত/ন্যূনতম যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে না পাওয়া গেলে সে জায়গাগুলোতে মেধার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।’

সমর্থন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দেশের সর্বস্তরে কোটা সংস্কার বিষয়ক যেসব আন্দোলন হচ্ছে তা অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে সর্বাত্মকভাবে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করছি এবং মহামান্য আদালতের প্রতি মেধার মূল্যায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে অতি দ্রুত রায় প্রদান করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

রাবি’র কোটাবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হলো অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও 

রাজশাহী ব্যুরো ও রাবি রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হলো রাজশাহীর অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও। গতকাল রাজশাহী সরকারি কলেজ ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও এর সঙ্গে একাত্ম হন। 

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে টানা পঞ্চম দিনের মতো আয়োজিত সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ পালনকালে রাবি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক আমান উল্লাহ খান বলেন, যারা একাত্তরের ইতিহাস জানে না, তাদের চোখ রাঙানিতে আমরা ভয় পাওয়ার মতো মানুষ না। যারা কোনদিন বাংলাদেশের সংবিধান পড়ে দেখেনি, তাদের কাছ থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জ্ঞান নিতে হবে না। বাইক শোডাউন দিয়ে আমাদের আন্দোলন থেকে সরাতে পারবে না। এসময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাফা রাবি শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করেন। তিনি বলেন, আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে ছুটে এসেছি আপনাদের আন্দোলনে যোগ দিতে। আমাদের সকল শিক্ষার্থীদের একত্রিত প্রচেষ্টায় সম্ভব এ আন্দোলন বাস্তবায়ন করা। রাবির সাথে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সবসময় থাকবে বলে জানান তিনি। আজকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও শহরের অন্যন্য স্কুল এবং কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করবেন বলে এসময় ঘোষণা দেন তারা। অপরদিকে রাবি’র ডিন ভবনের দক্ষিণ পাশে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের আহ্বানে দু'শতাধিক নেতাকর্মী অবস্থান করেন। 

রাজশাহী কলেজ

সরকারি চাকুরিতে কোটা পুনর্বহালের রায় বাতিল এবং কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে কলেজ গেটের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সড়কে বসে পড়েন তারা। প্রায় আধাঘণ্টা সড়কটি অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনে অংশ নেয়া মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম বলেন, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী সারাবছর পড়াশোনা করে চাকুরির বাজারে কোটার কাছে হেরে যাচ্ছে। ভালো চাকরি পাচ্ছেন না। অথচ একজন অযোগ্য লোক কোটা থাকায় টিকে যাচ্ছে। আমরা চাই সবাই মেধার ভিত্তিতেই চাকরি পাক। স্বাধীন রাষ্ট্রে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা থাকা অযৌক্তিক। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি না মেনে নেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ