ঢাকা, রোববার 14 July 2024, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, ৭ মহররম ১৪৪৬ হিজরী
Online Edition

ঘুমের গুরুত্ব

মুহাম্মদ আবুল হুসাইন: ঘুম শরীরের ক্ষতি পূরণ ও শক্তি সঞ্চয়ের একটি প্রাকৃতিক ব্যবস্থা। ঘুম কম হলে  শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়। আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দায়ী 'লিভিং অরগানিজম' (Living organisms) সবল হয়। কিন্তু আমরা না ঘুমালে এই 'লিভিং অরগানিজম'গুলো কাজ করতে পারে না। 

ঘুমের সময় শরীরের বেশিরভাগ সিস্টেমই অ্যানাবলিক অবস্থায় থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্নায়বিক, কঙ্কাল এবং পেশীতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। এগুলি অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যা মেজাজ, স্মৃতিশক্তি এবং জ্ঞানীয় ফাংশন বজায় রাখে এবং এন্ডোক্রাইন এবং ইমিউন সিস্টেমের কাজে একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

তাই সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত ঘুমের বিকল্প নেই। কারণ সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে ঘুম। প্রতি রাতে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ঘুম যেভাবে শরীরের যত্ন নেয়

১. প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়: অনেকের কয়েক রাত ঘুম না হলে সর্দি-কাশি হয়। এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। ঘুম প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়। আর ঘুমের অভাবে কমে প্রতিরোধক্ষমতা। তাই ঘুমের অভাব হলে সংক্রমণ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: ঘুম ভালো হলে বিপাক হার ঠিক থাকে। আর ঘুমের অভাবে তা দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকেই ভাবেন কম ঘুমিয়ে ব্যায়াম করলেই ওজন কমবে। তা ঠিক নয়। বিপাক হার ভালো না থাকলে ওজন কমা সহজ নয়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘুম খুব জরুরি।

৩. বয়সের ছাপ দেরিতে পড়ে: ঘুমের সময় শরীরের সব অঙ্গ নতুন করে কাজের শক্তি সঞ্চয় করে। যত ভালো ঘুম হবে, ত্বকও তত বেশি যত্নে থাকবে। এ সময় ত্বকের কোষ যত্ন পায়। তাতে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখা যায়।

না ঘুমানোর ক্ষতি

অনেকে কাজকর্ম শেষ করে বিছানায় যেতে অনেক দেরি করেন। অনেকে আবার স্মার্টফোন থেকে চোখই যেন সরাতে পারেন না। ফলে অনেক দেরি করেই ঘুমান বহু মানুষ। কিন্তু প্রতি রাতে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এর চেয়ে কম ঘুম হলে সকালে ক্লান্তি, সারা দিন আলস্য নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। শুধু তাই নয়, নিজের ইচ্ছামতো সময়ে ঘুমাতে গেলেই বিপদ!

তা ছাড়া রাতে ঘুম না হওয়া মানে শুধুই কি ক্লান্তি থেকে যায়? তা কিন্তু নয়। রাতের ঘুম নানা দিক থেকে শরীরের যত্ন নেয়। এবং সে কারণেই রাতের ঘুমে বিশেষভাবে নজর দিতেও বলা হয়ে থাকে। রাতে ঘুম না হলে পরদিন কাজ করতে অসুবিধা হয়। এর সঙ্গে আরও অনেক ক্ষতি হতে থাকে শরীরের ভেতরে। তা হয়তো এক দিনে টের পাওয়া যায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে পাওয়া যায়। উল্টো দিকে নিয়মিত ভালো ঘুম হলে শরীরের লাভও হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত সঠিক মাত্রায় ঘুম না হলে একজন মানুষ ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। এর ফলে একটি সুন্দর জীবনও বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

অনিয়মিত ঘুম যেসব রোগের ঝুঁকি বাড়ায়-

১. পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা কম হলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ঘুম না হলে শরীরের ‘লিভিং অরগানিজমগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। নষ্ট হতে পারে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য। বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপার টেনশন।

২. ঘুম কম হলে হার্টের সমস্যা হতে পারে। ঘুমের সময় হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি বিশ্রাম পায়। তাই ঘুম কম হলে প্রতিনিয়ত কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা বাড়তে থাকে। ফলে হার্টের সমস্যা বাড়তে থাকে।

৩. ঘুম পর্যাপ্ত না হলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন রাতে না ঘুমানো বা কম ঘুমানোর ফলে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

৪. ঘুম শরীরের ক্ষতি পূরণ ও শক্তি সঞ্চয়ের একটি পন্থা। তাই ঘুম কম হলে তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়। আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দায়ী ‘লিভিং অরগানিজম’ (Living organisms)। কিন্তু আমরা না ঘুমালে এই ‘লিভিং অরগানিজম’গুলো কাজ করতে পারে না। ফলে ক্রমশ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে।

৫. মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটার আছে, যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওরেক্সিন উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে যায়।

৬. প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বাড়তে পারে হজমের সমস্যা। না ঘুমালে শরীরের পাচন ক্রিয়ায় সাহায্যকারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে খাবার হজমে সহায়ক পাচক রসগুলো উপযুক্ত মাত্রায় নিঃসরণে বাধা পায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ