শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪
Online Edition

বর্তমান শাসকগোষ্ঠী মিথ্যার ওপর টিকে আছে : মির্জা ফখরুল

গতকাল বুধবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে বৈঠক করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমান শাসকগোষ্ঠী মিথ্যার ওপর টিকে আছে এমন মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এরা জনগণকে মিথ্যা কথা বলছে, মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে, ডাটা দিচ্ছে। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী মিথ্যার ওপর টিকে থাকতে চায়। তবে মিথ্যার ওপর বেশিদিন টিকে থাকা যায় না।

গতকাল বুধবার গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিকেলে গণফোরাম ও পিপলস পার্টির সাথে বৈঠক করে বিএনপি। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও গণফোরাম-পিপলস পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার টিকে থাকার জন্য সব অপকৌশল গ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপব্যবহার করে রাষ্ট্রের যতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে সবগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। গোটা রাষ্ট্রকে তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা নিয়ে যেতে চায়। তারা একটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে।

দেশের মানুষ চায় এদেশে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যে নির্বাচন করেছে, সে নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করেনি। জনগণ ভোট দেয়নি। জনগণ একটা নির্দিষ্ট সরকারের মাধ্যমে তাদের যে মতামত, সেটি তারা দিতে চায়।

সরকার রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী দিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ইতিহাস বলে এভাবে জোর করে বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। কিছুদিন জনগণের কষ্ট হয়, সরকার সন্ত্রাস করে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে অনেক নির্যাতন করে তাদেরকে দমিয়ে রাখতে চায়। সচেতন সবাই বলছেন, ‘এদেশে একটি মাফিয়া রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছে’। ক্ষমতা টিটিয়ে রাখার জন্য সরকার নতুন নতুন কৌশল বের করে, কখনো ডামি নির্বাচন, কখনো নিশিরাতে নির্বাচন, আবার কখনো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন করে।

সামগ্রিক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্ম পদ্ধতি অবলম্বন করার জন্যই আমরা আজ বৈঠকে বসেছি এমনটি জানান মির্জা ফখরুল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থার একটি উদাহরণ হচ্ছে, একটি রাষ্ট্রের যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে দলের ক্ষমতায় থাকে তাদের কথাই বলে। তারা সাধারণত বাংলাদেশকে প্রমোট করেন না, তারা ওই দলকে প্রমোট করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক যে করুণ অবস্থা তা এর জন্যই সৃষ্টি হয়েছে।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র সফর সম্পর্কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে জবাবে ফখরুল বলেন, এ দেশের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য মার্কিনিরা তাদের অবস্থান অব্যাহত রেখেছে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষেই তারা কথা বলছেন। তারা তাদের যেগুলো প্রয়োজনীয়, উপকারী বিষয়গুলো নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন। তবে তারা এ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কাজ করছেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ