শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪
Online Edition

আইসিসিতে পাঠানো বিশ্বকাপ দলে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাদ সাইফউদ্দিন

স্পোর্টস রিপোর্টার: আইসিসির বেঁধে দেয়া নিয়মানুযায়ী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল সময়মতো পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে পরিবর্তনের সময় থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি ঘোষণায় যায়নি। অবশেষে গতকাল বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসিতে শুরুতে পাঠানো দল থেকে একটি পরিবর্তন এসেছে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে আস্থা পূরণ করতে না পারায় শেষ মুহূর্তে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে বাদ দেয়া হয়। তার পরিবর্তে দলে ডাক পান তরুণ পেসার তানজীম হাসান সাকিব। আসলে সাইফউদ্দিনের জন্য টি-টোয়েন্টি ভাগ্যটা ভালো নয়। ৩ বছর আগেও যে এভাবেই কপাল পুড়েছিল তার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেই বিশ্বকাপে ছিল সাইফউদ্দিনের নাম। নিজেও ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথমপর্বের তিন ম্যাচ আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা খেলেছিলেন। কিন্তু আসরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে ইনজুরিতে পড়েন এই অলরাউন্ডার। বাদ পড়তে হয় স্কোয়াড থেকে। তার বদলে জায়গা পেয়েছিলেন রুবেল হোসেন। তিন বছর পর আবারও একই দৃশ্যপট। তবে এবার ব্যতিক্রম এটাই, সাইফউদ্দিন জায়গাই পেলেন না স্কোয়াডে। বিপিএল দিয়ে দেড় বছরের লম্বা ইনজুরি শেষে মাঠের ক্রিকেটে ফেরেন। জিম্বাবুয়ে সিরিজটাও তার নেহাত মন্দ কাটেনি। ২০২৪ বিশ্বকাপে আইসিসির তালিকা পর্যন্ত ছিল সাইফের নাম। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের জিম্বাবুয়ে সিরিজটাই যেন কেড়ে নিল তার বিশ্বকাপ স্পট। সিরিজে চার ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হলেও বেহিসেবে রান বিলিয়েছেন। ওভারপ্রতি রান খরচ করেছেন ৯.৩১। বিশেষ করে শেষ দুই ম্যাচে তিনি রান দিয়েছেন ৪২ ও ৫৫। এটিই তার বিপক্ষে গেছে বলে প্রধান নির্বাচকের কথায় আভাস পাওয়া গেছে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে সাইফুদ্দিন খেলেছেন ৪ ম্যাচ। চট্টগ্রামে প্রথম তিনটি আর ঢাকায় শেষ ম্যাচটি। চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত, ১৫ রানে নেন ৩ উইকেট। এরপরের তিন ম্যাচে সাইফুদ্দিনের পারফরম্যান্স যথাক্রমে ১ উইকেটে ৩৭, ৩ উইকেটে ৪২ ও ১ উইকেটে ৫৫ রান। শেষ ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাত খুলে রান দেয়াটাই কাল হয়েছে সাইফুদ্দিনের। এই ম্যাচটি বাংলাদেশ হারে শেষ পর্যন্ত। অন্যদিকে তানজীম হাসান সাকিব দুই ম্যাচ খেলেন। চট্টগ্রামে ১ ম্যাচে ২৬ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট, ঢাকায় চতুর্থ ম্যাচে ৪২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। সংবাদ সম্মলেনে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে সাইফুদ্দিনের বাদ পড়া আর তানজীমের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাকি দুই নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক ও হান্নান সরকার। এক প্রশ্নের উত্তর লিপু বলেন, ‘এখানে সবাই খুব ক্লোজ লড়াই করেছে। যে দলটা দিয়েছিলাম ৩০ তারিখে সেটা এক প্রেক্ষাপটে দিয়েছিলাম। সেখানে দুটো চিন্তা ছিল যে বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়েই দল করা। আর একটা চিন্তা ছিল ইনজুরি থেকে ফেরা ক্রিকেটাররা যেমন সাইফউদ্দিন কেমন করে তা দেখা। তো আমাদের যে আস্থার জায়গাটা। সেখানে সাইফউদ্দিনের চেয়ে তানজিম একটু এগিয়ে ছিল। এজন্য ওকে আমরা দলে রেখেছি।’ ৪ ম্যাচে সাইফুদ্দিন ৮ উইকেট নিয়েও কেন বাদ? অন্যদিকে মাত্র ১ উইকেট নেয়া তানজীমে কেন নির্বাচকদের আস্থা? সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘সাকিবকে (তানজীম) শ্রীলংকা সিরিজেও আমরা দেখেছি। তার একাগ্রতা, মাঠে দেয়ার চেষ্টা সেটা সাইফুদ্দিনের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে। আমরা যে কারণে সাইফউদ্দিনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম যে ডেথ ওভারে ইয়র্কার করা, সেটা ঘরোয়া ক্রিকেটে যেমন ছিল তার চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটু ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। তাই আমরা একটু ভিন্ন চিন্তা করেছি। ৩০ তারিখে যে দলটা দিয়েছিলাম সেখান থেকে একমাত্র এ জায়গাটাতেই পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের আসলে সাইফউদ্দিন ও সাকিবের সঙ্গেই লড়াই চলছিল।’ বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নির্বাচকদের নজরে আসেন ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করা সাইফুদ্দিন। ৯ ম্যাচে ১৫ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেন ৬৩ রান। ফরচুন বরিশালের চ্যাম্পিয়নে রাখেন বড় ভূমিকা। তবে সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেননি জিম্বাবুয়ে সিরিজে। তাই তো দলে থেকেও শেষ পর্যন্ত নাই হয়ে গেলেন। অবশ্য জিম্বাবুয়ে সিরিজে দুই ম্যাচ খেলে তানজিম সাকিবও আহামরি কিছু করতে পারেননি। দুই ম্যাচে তার উইকেট ছিল একটি। এক ম্যাচে চার ওভারে ২৬ রান দিলেও পরের ম্যাচে চার ওভারে তিনি দিয়েছেন ৪২ রান। সাইফউদ্দিনকে দলে না রাখা নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু জানিয়েছেন, ‘দুটো রাস্তা ছিল আমাদের সামনে- প্রথমত দলে থাকা ফিট ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকে নির্বাচন, দ্বিতীয়ত বাকিদেরও পরখ করে দেখা। আমরা চোট থেকে ফেরা সাইফউদ্দিনের পারফরম্যান্স দেখতে চেয়েছিলাম, তার ওপর অবশ্যই আমাদের আস্থা ছিল। তবে এই (জিম্বাবুয়ে) সিরিজে আমাদের আস্থার জায়গায় কিছুটা এগিয়ে তানজিম সাকিব। সে কারণে সাইফউদ্দিনকে রাখা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাকিবকে আমরা শ্রীলঙ্কা সিরিজেও দেখেছি। তার একাগ্রতা ও আগ্রাসন খুব ভালো। তার সঙ্গে সাইফউদ্দিনের প্রতিযোগিতা চলছিল। সে জায়গায় সাকিব উৎরে গেছে। হাসান মাহমুদকেও আমরা ক্যারি করতে হচ্ছে, তবে আশা করি তাকে খেলানো লাগবে না।’ কেবল মূল স্কোয়াডেই নয়, ট্রাভেলিং রিজার্ভেও নাম নেই সাইফউদ্দিনের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ