মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪
Online Edition

খুলনার পাইকগাছায় মুখে আঠা লাগিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ

পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা : খুলনার পাইকগাছায় চোখে মুখে সুপার গ্লুর আঠা লাগিয়ে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রোববার গভীর রাতে ৪-৫ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ডাকাতি করতে এসে ওই নারীর ওপর পাশবিক  নির্যাতন করেছে। উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের ঘটনা এটি। গতকাল সোমবার সকালে ওই নারীকে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে প্রতিবেশীরা।

প্রতিবেশীরা জানান, ওই নারীর স্বামী রোববার রাতে ব্যবসার কাজে গড়ইখালীতে ছিলেন। এ সুযোগে ডাকাতরা তার বাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকে গৃহবধূর চোখে মুখে সুপার গ্লু লাগিয়ে চোখ মুখ বন্ধ করে দেয়। পরে ওড়না দিয়ে চোখমুখ বেঁধে কানের দুল ও নাকফুল ছিঁড়ে নেয়। এ সময় তারা বাড়ির আসবাব তছনছ করে আলমারি ও বাক্সে থাকা টাকা স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতদল ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২ টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় ওই নারী অজ্ঞান ছিলেন। সহকারী পুলিশ সুপার ডি-সার্কেল মো. সাইফুল ইসলাম ও পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  এসময় ওসি বলেন, ভুক্তভোগী নারী অসুস্থ। তার কাছ থেকে না জানা পর্যন্ত সঠিকভাবে কোন কিছু বলা যাচ্ছে না।

গৃহবধূর স্বামী বলেন, বিকেল ৩টার দিকে ব্যবসায় কাজে গড়ইখালী বাজারে যাই। প্রতিবেশীরা   ভোর রাত ৫টার দিকে আমাকে কল দিয়ে ঘটনা জানালে আমি ফিরে আসি। তিনি বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একাধিক লোক আমার বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। সেখানে আমার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ডাকাতি করেছে। তার কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। তার চোখে আঠা দেওয়া ছিল এবং কান ছেঁড়া ছিল। আমার স্ত্রী কথা বলতে পারছে না। আমি দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার কনক হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী নারী যখন আসেন তার দুই চোখ আঠা দিয়ে লাগানো ছিল। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তাকে গাইনী বিভাগে পাঠিয়েছিলাম। এছাড়া চক্ষু বিভাগে তার চিকিৎসা করিয়েছি। বর্তমানে রোগীর জ্ঞান ফিরেছে। এখনও তিনি সুস্থ নন। তবে আশা করছি চিকিৎসায় তিনি স্বাভাবিক হতে পারবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ