মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪
Online Edition

সাগর-রুনির হত্যার বিচার পেতে হলে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই 

গতকাল রোববার নিজস্ব চত্বরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী             -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ১২ বছরে এসেও সাগর-রুনির হত্যার বিচার দাবিতে আজও প্রতিবাদ সমাবেশ করতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। তাদের প্রশ্ন কেন এখনও বিচার কাজ শুরু হয়নি? কেন বিচার চেয়ে আন্দোলন করতে হচ্ছে। আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে সেটাও জানতে চান তারা। সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাগর রুনির হত্যার বিচার পেতে হলে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একমাত্র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এ জঘণ্য হত্যার বিচার পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তারা। 

গতকাল রোববার সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এসব কথা জানান। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভর সভাপতিত্বে এবং ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মহি উদ্দিনের সঞ্চলনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-(বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি ওমর ফারুক ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শেখ মামুনুর রশীদ, বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ডিআরইউ সাবেক সভাপতি শফিকুল করিম সাবু, শাহেদ চৌধুরী, মুরসালিন নোমানী, ডিআরইউ সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, নূরুল ইসলাম হাসিব, ডিআরইউ’র বর্তমান সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শামীম, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মধুসূদন মন্ডল, ডিআরইউ’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জামাল, সাইফুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মানিক লাল ঘোষ, ডিআরইউ’র বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, অর্থ সম্পাদক রাশেদ আহমেদ, ডিআরইউ দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুশান্ত কুমার সাহা, কল্যাণ সম্পাদক মো. তানভীর আহমেদ, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ডিআরইউ কার্যনির্বাহী সদস্য ফারহানা ইয়াছমিন জুঁথী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান। 

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-(বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, সাংবাদিত  দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যার পর ডিআরইউ প্রথম আন্দোলন শুরু করেছিল। সেই সময়ে এ জঘণ্য হত্যার বিচারের দাবি আমরা সারা দেশের সাংবাদিকের মধ্যে  আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। এ হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সে সময় সারা দেশে সাংবাদিকদের মর্যাদা আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। 

আইন মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, আইন মন্ত্রী হয়তো ৫০ বছর মন্ত্রী থাকবেন না । কিন্তু এদেশে সাগর-রুনির বিচার একদিন হবে। নতুন প্রজন্ম সাগর-রুনির হত্যার বিচার করবেই। তবে আমরা একদিকে খাতির জমাবো অন্যদিকে বিচার চাইবো এমনটা হতে পারে না। 

রুহুল আমিন গাজী বলেন, সাগর-রুনির হত্যার বিচার পেতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। একমাত্র সাংবাদিকদের বৃহত্তর ঐক্যই পারবে এ বিচারে পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে । তিনি সাগর-রুনি হত্যার বিচার পেতে সাংবাদিকের ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি ওমর ফারুক বলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে, কিন্তু এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এটার বিচার আমরা পায়নি। বিচার পাওয়া তো দূরের কথা এক যুগে তদন্ত কাজও শেষ হয়নি।

তিনি বলেন, বিচার পেতে আরও কত বছর লাগবে আমরা তা ধারণা করতেও পারি না। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি যেই দিন তদন্ত শেষে বিচার আমরা পাবো। বিচার পাওয়ার দাবিতে আমরা সব ধরনের আন্দোলন করেছি, কিন্তু কোনো কূল কিনারা পাওয়া যায়নি এখনো। তবুও আমরা অপেক্ষায় থাকতে চাই কিন্তু সাগর-রুনির হত্যার বিচার হতেই হবে।

বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বছর ঘুরে আবারও সেই ১১ ফেব্রুয়ারি আজ। ২০১২ সালের এদিন ভোরে আমাদের প্রিয় দুই সহকর্মী সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন। এবার এই হত্যাকান্ডে ১২তম বার্ষিকী। ১১ বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু প্রকৃত হত্যাকারীদের এখনো শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিচার প্রক্রিয়াও থমকে আছে। নিষ্ঠুর এই হত্যাকান্ডে বিচার দাবিতে ডিআরইউসহ গোটা সাংবাদিক সমাজ আজও সোচ্চার।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু ৪৮ দিন, ৪৮ মাস নয়, ১২ বছর পার হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে আইনমন্ত্রী বলেছেন, বিচারের জন্য ৫০ বছর লাগতে পারে। আইন মন্ত্রীর এমন বক্তব্যে খুনিরা আরো উতসাহিত হবে। 

তিনি  বলেন, সাগর রুনির হত্যার বিচার ১২ বছরে হয়নি এটাই ব্যর্থতা । প্রকৃত খুনিদের বিচার করতে হবে। অন্যথায় বিচার না করার অপরাধে একদিন আপানাদেও বিচার হবে এমন হুশিয়ারি দেন এ সাংবাদিক নেতা। 

সাংবাদিকেরা আজকে অনেকের অভিন্ন শত্রুতে পরিণত হয়েছে জানিয়ে ডিআরইউর সাবেক সভাপতি মোরসালীন নোমানী বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেখানে বিদ্যমান থাকে, সেখানে কিছুই থাকে না। র‌্যাব যদি না পারে, তদন্ত প্রতিবেদন না দিতে পারে, তাহলে তারা বলে দিক।

সাগর সরোয়ারের সাবেক সহকর্মী মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক রাশেদ আহমেদ বলেন, সাগর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, তেল-গ্যাস, দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করত। আমরা জানি না তার হত্যাকান্ডে সঙ্গে এসব রিপোর্টের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যার তদন্ত রিপোর্ট এবং বিচার চাই।

ডিআরইউ সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ বলেন, সাংবাদিকদের হত্যার বিচার হয় না। অবিলম্বে সাগর রুনি হত্যার বিচার করতে হবে, দোষিদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এতদিনেও বিচার করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলাবাহীনির যোগ্যতা দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবী জানান তিনি।

সাংবাদিক নেতারা আরো বলেন, সাংবাদিকদের হত্যা করা হলেও তার বিচার হচ্ছে না। সাগর রুনির হত্যা তদন্ত নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কান্ডজ্ঞানহীন ও দায়িত্বহীন বক্তব্য দিয়েছেন। এমন বক্তব্য তিনি দিতে পারেন না। এমন বক্তব্য দেয়ার জন্য আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব ব্যর্থ হলে অন্য সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়ার দাবী জানানো হয়। সাংবাদিকদের ঐব্যবদ্ধ হয়ে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার দাবী জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ