বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪
Online Edition

জাহাঙ্গীরনগরে এসব কী হচ্ছে?

দেশে অন্যতম উচ্চ শিক্ষাপীঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এর আবাসিক হলসমূহে টর্চার সেল প্রতিষ্ঠা ও চাঁদাবাজির যে খবর পত্রিকান্তরে বেরিয়েছে, তা বিচ্ছিন্নভাবে দেখবার সুযোগে নেই। দেশের শীর্ষ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও একটি ছাত্রসংগঠনের কতিপয় নেতাকর্মী মাত্রাভেদে একই কর্মকা- ঘটিয়ে যাচ্ছেন।

 দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসে আসন বণ্টন ও নিয়ন্ত্রণে হল প্রশাসনের পরিবর্তে ওই ছাত্রসংগঠন দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। কথিত অতিথি কক্ষ সংস্কৃতি ক্যাম্পাসগুলোকে কীভাবে স্থায়ী বাসস্থানে পরিণত করেছে, তা প্রায়শ সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। ভীতিকর অপসংস্কৃতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরে মাদকসেবনও বিরল নয়। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি যেপ্রকারে এক দম্পতিকে ক্যাম্পাসে ডেকে এনে হলের কক্ষে স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। অভাবনীয়। কতটা বেপরোয়া হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে তা উল্লেখ করবার নয়।

এমন অপকর্ম সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম থেকেই সৃষ্ট। গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রায়শ প্রকাশ হয়ে পড়ছে। বিশেষত অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যেন প্রতিযোগিতা   মূলকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে নানা অপকর্ম। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একে অপরের সহযোগী হবার মধ্যে স্বার্থের সংঘাত লাগলেই কেবল তা বাইরের কেউ জানতে পারে। কখনও কখনও কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসে বিষধর সাপ। পত্রিকার অপর এক রিপোর্টে দেখা যায়, শ্লীলতাহানির একাধিক অভিযোগ থাকলেও দেড় বছর ধরে বহাল তবিয়তে রয়েছেন জনৈক শিক্ষক। ঐ শিক্ষক স্বয়ং অপরাধ শিকার করলেও খোদ উপাচার্য বিচারের নামে কালক্ষেপণ করছেন। এ যে নিছক ফেলো ফিলিং নয়, বরং পারস্পরিক লেনাদেনার বিষয়, তা বুঝবার জন্য বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নেই।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি হলে নির্যাতন কক্ষ, মাদক কারবার, বহিরাগতদের অবাধ অবস্থানের নেপথ্যেও রয়েছে বিভিন্ন পক্ষের অনৈতিক ঐক্য ও সহমর্মিতা। ঘটনাটি প্রকাশের পর নিয়ম ও আইন প্রতিষ্ঠার যেসব উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়েছে তা উৎসাহব্যঞ্জক। কিন্তু সার্বিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর না করলে অপরাধের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকবেই। ব্যথা যখন সারাশরীরে, তখন এক জায়গায় মলম ডলে সুফল পাবার কথা নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অনুধাবন করতে হবে দ্রুতই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ