বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪
Online Edition

কবি সোলায়মান আহসানের সাহিত্য বীক্ষণ 

 

তৌহিদুর রহমান

বাস্তবধর্মী ও আদর্শিক চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী সাহিত্য সাধক কবি সোলায়মান আহসান। উপমহাদেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক পটভূমিতে তার পদচারণা। জীবনকে তিনি রঙিন চশমা দিয়ে দেখেন না। জীবনকে দেখেন, উপলব্ধি করেন বাস্তবতার নিরিখে অন্তরের চোখ দিয়ে। এই অন্তর দৃষ্টিশক্তি সবার একরকম নয়। চোখ বন্ধ করে হৃদয়ের গভীরে হাত রাখতে কজন পারে বলুন তো? এখানে বিশ্বাসের একটা ভাঁজ থাকে। ভালোবাসার একটা গন্ডি থাকে। আদর্শের একটা রং থাকে। থাকে ছাইচাপা বারুদের একটা গন্ধ। বাস্তবধর্মী চিন্তক ও আদর্শিক বিশ্বাসের উপর গভীর আস্থাশীল না হলে এখানে পদস্খলন হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে উপমহাদেশের দেশগুলোতে ধর্ম ও রাজনীতির ক্ষেত্রে যে দ্বান্দ্বিক প্রভাব দেখা যায় তাকে পাশ কাটিয়ে সাহিত্যের নব কাঠামোবাদী হওয়া অনেক দ্রোহী একটি কাজ। 

সোলায়ামান আহসান আশির দশকের অন্যতম কবি-প্রতিভা। সাহিত্য চর্চার সূচনালগ্নে কবিতায় আত্মনিয়োগ করলেও পরে তিনি গদ্য চর্চায় মনোযোগী হন। ঊনিশশ’ আটষট্টিতে একেবারে শৈশবে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্কাউট মাসিক ‘অগ্রদূত’ পত্রিকায় একটি গল্প লিখে লেখালেখিতে তাঁর যাত্রা। এরপর ঊনসত্তর, সত্তর এবং একাত্তরে দেশের রাজনৈতিক ডামাডোল তাঁকেও স্পর্শ করে। লেখালেখি থেকে বিচ্ছ্ন্নি হয়ে পড়েন খানিকটা। দেশের চলমান অস্থির রাজনৈতিক তপ্ত হাওয়ায় তিনিও হন টালমাটাল। অবশেষে চুয়াত্তরের মন্বন্তর, দুর্বিনীত রাজনীতি তাঁকে ফিরিয়ে আনে সাহিত্য চর্চা এবং সাংবাদিকতায়। 

সোলায়মান আহসান বর্তমান সাহিত্য কাঠামোকে উত্তর আধুনিক সাহিত্যগতির সাথে সমানতালে এগিয়ে নেয়ার জন্য এক ধরনের সংস্কারের কথা বলেছেন। অনেকেই লেখকের এই সংস্কারবাদকে আলাদাভাবে দেখবেন। বিশেষ করে তার সাহিত্যদৃষ্টি ও চিন্তা ভাবনাগুলোকে অনেকে মনে করবেন উত্তর আধুনিক সাহিত্যচিন্তার দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পথ পরিহার করে নতুন পুরাতনের একটা সংমিশ্রণ প্রয়াশ। আমরাও সেটাই মনে করিÑ কারণ নতুন পুরাতনের সংমিশ্রণ না থাকলে ঐতিহ্য একপর্যায়ে বিলীন হয়ে যায়। একজন লেখক সম্পর্কে যেকোনো ধরনের চিন্তা ভাবনা করার আগে আমাদেরকে লেখকের পূর্বাপর সব অবস্থা ভালোভাবে জানা দরকার। এক্ষেত্রে সোলায়মান আহসানের ‘সাহিত্য বীক্ষণ’ মূল্যবান এই প্রবন্ধ গ্রন্থটি আমাদের সামনে কিছুটা হলেও আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাবে। লেখককে জানার একটা পথ খুলে দেবে। 

আমারা শুরুতেই দেখি ‘সাহিত্য বীক্ষণ’ বইটিতে কি আছে। সূচীতে পাঠকের শানে যা উপস্থাপিত হয়েছে তা হলো: আরেকটি নোবেল পুরস্কার কবে পাবো আমরা, সাহিত্যিকের উদারতা : আজকের প্রসঙ্গ, সনেট নিয়ে কিছু কথা, কবিতা সম্পর্কিত ভাবনা ও কতিপয় বিশ্লেষণ, নজরুল সংগীত উপেক্ষিত কেন, শতবর্ষী কবিতা ‘বিদ্রোহী’, পাঞ্জেরী কবি ফররুখ আহমদ, সৈয়দ আলী আহসান : একটি সমীক্ষা, প্রতিকূলতায় অনতিক্রম্য আল মাহমুদ, আল মাহমুদের প্রত্যাবর্তন ও সিলেট পর্ব: প্রাসঙ্গিকতা, আল মাহমুদের ‘কাবিলের বোন’, দেওয়ান আজরফ : প্রজ্জ্বলিত জ্ঞানশিক্ষা, আবদুস সাত্তারের কাব্য ভুবন, ছোটোগল্পকার শাহেদ আলী, শাহেদ আলীর ‘শানযর’, শাহাবুদ্দীন আহমদ : ঐতিহ্যপ্রেমী সাহিত্য গবেষক, আবদুল মান্নান সৈয়দ : এক অন্তহীন পরিব্রাজক, কল্যাণব্রতের কবি আফজাল চৌধুরী, ঐতিহ্য অনুসন্ধানী গবেষক, রম্য কথাশিল্পী সৈয়দ মোস্তফা কামাল, সাজজাদ হোসাইন খান : একজন পরিপূর্ণ ছড়াকার, ছোটোদের জন্য বই, লেখকের দায়বদ্ধতা, বাংলা ছোটোগল্প : সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা এবং ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ। সর্বমোট এই চব্বিশটি বিভিন্ন বিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ এখানে স্থান পেয়েছে।

বইটির প্রথম ফ্লাপে লেখক সম্পর্কে যে পরিচিতি উপস্থাপন করা হয়েছে- ‘সোলায়মান আহসানের (জন্ম ৭ জুলাই, ১৯৫৭, ঢাকা) শিক্ষাজীবন কেটেছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলায়। জামালপুর মহকুমা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক (১৯৭২), মদনমোহন কলেজ, সিলেট থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (১৯৭৫), সিলেট সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) (১৯৮০) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (১৯৮২) ডিগ্রী লাভ করেন।

ছাত্রজীবন শেষ করার আগেই তিনি সিলেটে একটি ইসলামিক কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। এখানে বছর খানেক থাকার পর তিনি ঢাকায় এসে একটি পত্রিকায় যোগ দেন। ১৫ বছর এ পত্রিকায় যুক্ত থেকে সাংবাদিকতা করেন এবং সংবাদপত্র শিল্পের নানা সমস্যা নিয়ে সাংবাদিক ফোরামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি অবিভক্ত ডিইউজে (ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন) ও বিএফইউজে (বাংলাদশে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন) সংগঠনের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসাবে যোগ দিয়ে এক পর্যায়ে নিউজ এডিটর পদে উন্নীত হন। এরপর তিনি একটি শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকায় উপদেষ্টা সম্পাদক হিসাবে বছরখানেক দায়িত্ব পালন করেন। এখান থেকে চলে আসেন বীমা শিল্পে চাকুরি নিয়ে। প্রথমে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও পরে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সÑ মিলিতভাবে ১৪ বছর বীমা শিল্পে অবস্থান করেন। বিশেষ করে দেশে ইসলামী বীমা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সার্বক্ষণিকের সাধনাক্ষেত্র। তরুণ সাহিত্যব্রতীদের উৎসাহ ও পথ নির্দেশনা দানে তিনি একনিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন। উল্লেখ্য, যখন যে পেশা বা চাকুরি করেন না কেন তিনি সাহিত্য সাধনা থেকে কখনও বিযুক্ত থাকেন নি। কবিতা, ছড়া, কথাসাহিত্য (ছোট ও বড়োদের), প্রবন্ধ-গবেষণা, আন্তর্জাতিক বিষয়ে কলাম, ইতিহাস বিষয়ক গবেষণা ইত্যাদি বহুক্ষেত্রচারিতা ও বহুপ্রজতা সোলায়মান আহসানের সাহিত্যিক পরিচয়ে বাধা স্বরূপ। উল্লিখিত প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ অবদান রেখে চলেছেন। আশির দশকে (স্বাধীনতাত্তোর) বাংলাদেশে কাব্য সাহিত্যে আদর্শমুখীনতা যারা স্পষ্টতর করেছে তিনি এর পুরোধা অভিযাত্রী। (সাহিত্য বীক্ষণ, প্রথম ফ্লাপ) 

চট্টগ্রামের উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক নক্ষত্র গদ্যশিল্পী লেখক, গবেষক আমীরুল ইসলাম কবি সোলায়মান আহসান সম্পর্কে বেশ সুতীক্ষè কিছু কথা লিখেছেন প্রকাশকের কথা অবতারণা করতে গিয়ে। তার অংশবিশেষ পাঠকের দরবারে তুলে ধরা জরুরি মনে করছি। আমীরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘আমরা একটা বিপ্রতীপ সময়ের প্রতিনিধি-জ্ঞানচর্চার আগ্রহ জনান্তিকে ক্রমহ্রাসমান। ভারী বিষয়ে মস্তিষ্ক চালনা করার লোকের সংখ্যা সীমিত হয়ে পড়ছে। গবেষণা, তা যদি হয় সাহিত্য বিষয়ক-আগ্রহ কম। ফলে, মৌলিক সৃষ্টি যা-ও হচ্ছে-সেই সৃষ্টির তূল্যমূল্য বিচারে (ব্যাপক অর্থে গবেষণায়) আগ্রহী হতে দেখা যায় না বললেই চলে।...

এদিক বিবেচনায় আশির দশকের কবি ও কথাশিল্পী সোলায়মান আহসান এক ব্যতিক্রম প্রতিভা। তিনি সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় বিচরণের সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্য গবেষণায় নিজেকে নিবিষ্ট রেখেছেন। একসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকার সুবাদে তাঁর সাহিত্যচর্চার ঊষালগ্নে আমরা সাথী হতে পেরেছি। সাহিত্য- সংস্কৃতি চর্চা সংঘবদ্ধতা দাবি করে। আমাদের সখ্য ও সৃষ্টিশীল বন্ধন, বিশেষত নানা সাহিত্য সংগঠন ও প্রকাশনায় অতীতের পরিচয় বিধৃত । আমরা পারস্পরিক সম্পর্কের অধমর্ণ অনুভূতিকে সম্মান করি- ভালোবাসি তাঁর সৎ সাহিত্য প্রয়াসের সিঁড়ি ভাঙ্গার উত্থানকে। এর আগেও তাঁর নক্ষত্রের বিলসিতা নামে এক সনেট-কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করার অতীত আছে চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের। এবার তার প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ ‘সাহিত্য বীক্ষণ’ প্রকাশের দায় নিতে পারায় আমরা কৃতার্থ । আশা করছি-এ প্রকাশনার উদ্যোগকে এগিয়ে চলার সোপান অতিক্রমের একটি সংযোজন হিসেবেই পাঠক বিবেচনা করবেন। (সাহিত্য বীক্ষণ, প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা ৬-৭)

আমরা কবি সোলায়মান আহসানকে মূলত একজন কবি হিসাবেই জানি। কিন্তু তার কথাসাহিত্য বিশেষ করে উপন্যাস ও ছোটগল্প এবং সেই সাথে তার নানা রঙের প্রবন্ধ পাঠকের মনে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে দিতে ইতিমধ্যেই সক্ষম হয়েছে বলে আমরা মনে করি। প্রাককথনে লেখক নিজেই নিজের লেখালেখি জগতের নানান গতি-প্রকৃতি নিয়ে একটি কৈফিয়ত হাজির করেছেন। লেখকের গদ্যজগতে প্রবেশের শুরুটা কিভাবে তা লেখকের মুখ থেকেই শুনুনÑ ‘আমার টার্নিং-লেখালেখিতে। অনুরোধের ঢেঁকি গেলার মতো গদ্যচর্চা চলছে নানাভাবেই। পত্রিকায় কলাম লেখা, নতুন প্রকাশিত গ্রন্থের রিভিউ, খ্যাতিমান কবি- সাহিত্যিকদের জন্ম-মৃত্যু উপলক্ষ্যে কিছু লেখা- ব্যস, গদ্যলেখকের কাতারে গণ্য। একদিন হঠাৎ জনৈক কবিবন্ধু সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদক ফোনে সৈয়দ আলী আহসানের ওপর প্রবন্ধ চেয়ে বসলেন। তাঁর কথা- প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য স্মরণসভায় ‘মূল প্রবন্ধ’ হিসেবে আমাকে লিখতে হবে সৈয়দের ওপর। বিনয়ের সঙ্গে প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিলাম। একেতো আমি প্রবন্ধকার নই, উপরন্তু সৈয়দ আলী আহসানের মতো মহীরুহতুল্য প্রতিভা নিয়ে কিছু লিখা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য-দুঃসাহসিকতাও বটে। কিন্তু নাছোড়বান্দা তিনি। আমার অফিস পর্যন্ত ধাওয়া করে রাজি করালেন লিখতে। সে-ই আমার প্রবন্ধ লেখা শুরু। (সাহিত্য বীক্ষণ, পৃষ্ঠা ৮)

এটা লেখকের পুস্তক আকারে প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ। আগেই বলেছি চব্বিশটি প্রবন্ধ বইটি স্থান পেয়েছে। সবগুলো লেখায় আমার একাধিকবার পাঠ করা সুযোগ হয়েছে। সবগুলোই এক একটি দিকনির্দেশক দূরবীক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়াশ। সবগুলো প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা করা এখানে সম্ভব নয়।  ‘সাহিত্য বীক্ষণ’-এর দু’একটি দূরবীক্ষণের দিকে আমরা আলোকপাত করতে চাই। প্রথমেই ‘সাহিত্যিকের উদারতা : রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও আজকের প্রসঙ্গ’ এখানে প্রবন্ধকার লিখেছেনÑ ‘বর্তমান সাহিত্য গগনে উজ্জ্বল আলোক বিচ্ছুরণ নবীন প্রতিভাদের গায়ে তেমন উৎসাহ উদ্দীপনার উত্তাপ ছড়ায় না। যে যার বিনির্মিত আপন আসনে অধিপতি বনে আপন সৌকর্য বিকাশে সযতœ একাগ্রতায় নিমগ্ন। রাত্রিদিন আপন প্রতিভার গুণকীর্তন শুনতে এবং নিজস্ব সৌকর্য বৃদ্ধিতে থাকেন ব্যগ্র। নিজেকে মহীরুহ কল্পনায় কালবৈশাখীর অশনি সংকেতকে করেন না ভ্রুক্ষেপ, ভ্রুকুঞ্চিত করে দিগন্তের নিঃসীমায় চান আরও আরও অনেক কিছু। কাছের আপন চৌহদ্দিতে কিংবা প্রসারিত শাখার নীচে আলোহীন জমিনে যে চারা বৃক্ষটি দুপাতা মেলে মহীরুহের সম্ভাবনায় হাতছানিতে ডাকছে পেতে একটু স্নেহ, একটু উৎসাহ, তাদের প্রতি নেই সামান্য করুণা, নেই কিছুমাত্র উদারতা। পূর্বসূরি হিসেবে নেই কোনো দায়িত্ববোধ। বরং আপন মহিমা বিকাশে অন্তরায় ভেবে এসব চারাগাছকে ‘আগাছা’ ভেবে করেন নির্মূল, নয়তো নিজের প্রয়োজনে যতটুকু পারা যায় করেন ব্যবহার। ফলে সাহিত্যের মহৎ পরিম-লে এখন মাহাত্ম্য সংকট ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। ফলে দিন দিন নবীন-প্রবীণদের মাঝে প্রীতি-সৌহার্দের পরিবর্তে দরকষাকষির ফাঁকটুকুই সৃষ্টি হচ্ছে- এই ফাঁক আরও বেশি প্রলম্বিত হচ্ছে কারো কারো ব্যক্তিগত চরিত্রের নানা দোষ-গুণের জন্যও। (সাহিত্য বীক্ষণ, পৃষ্ঠা ২১)

‘প্রতিকূলতায় অনতিক্রম্য আল মাহমুদ’ এই প্রবন্ধে লেখক লিখেছেন, ‘আল মাহমুদ (১১ জুলাই ১৯৩৬-১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯) পঞ্চাশ দশকের এক অসামান্য কবি-প্রতিভা। তিনি শুধুমাত্র কবি নন; জাদুকরী ভাষাশিল্পী। এক মুগ্ধকর ভাষার অধিকারী এ কবি ও জীবনশিল্পী বাংলা সাহিত্যের অহমিকা। আল মাহমুদের কবিতার ভাষা যেমন এক আলাদা সুস্বাদের তেমনি তাঁর গদ্য ভিন্ন ঘ্রাণ রুচির রান্না। এ স্বাদ যে একবার চেখেছে তার ঠোঁটে এবং হৃদয়ে চিরকালীন ‘সোয়াদ’ লেগে থাকবে। সে কারণেই উভয় বাংলার (পশ্চিমবঙ্গসহ) সুধী পাঠক ও সাহিত্য সমঝদাররা এক বাক্যে তাঁর জয়ধ্বনি উচ্চারণ করেন। (সাহিত্য বীক্ষণ, পৃষ্ঠা ৯৭)

‘সাহিত্য বীক্ষণ’ মূলত নানা আলোচনার একটা রঙিন স্বপ্নঝুড়ি। এই ঝুড়িতে হরেক রঙের ফুল আছে। যার সুরভি বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। যা বিভিন্ন স্বাদের পাঠককে বিভিন্নভাবে আন্দোলিত করবে। আছে সাহিত্য আলোচনা, কাব্যকথন, কবি সাহিত্যিকদের জীবনালেখ্য, লেখকের দায়বদ্ধতা, ভাষা প্রসঙ্গ ইত্যাদি। আমরা বইটির ব্যাপক প্রচার কামনা করি। ধন্যবাদ জানাই আমার প্রাণপ্রিয় সহপথিক আমীরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্রকে এই মূল্যবান গ্রন্থটি পাঠকের সামনে হাজির করার জন্য। বইটির গেটাপ-মেকাপ আঙ্গিক যথেষ্ট সুন্দর হয়েছে। প্রচ্ছদ গতানুগতিক। তবে কিছু বানানভ্রম দৃষ্টিবিভ্রাট ঘটিয়েছে। 

বইটির প্রিন্টার্স লাইন- সাহিত্য বীক্ষণ, সোলায়মান আহসান। প্রথম প্রকাশ অক্টোবর ২০২৩। বইটির প্রকাশক চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আমীরুল ইসলাম। বরাবরের মতো প্রচ্ছদ শিল্পী মোমিন উদ্দীন খালেদ। অক্ষরবিন্যাস মো. শাহীন মোল্লা এবং মুদ্রণ তত্বাবধানে কাভিকো প্রিন্টার্স, আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম। মূল্য পাঁচশত পঞ্চাশ টাকা মাত্র, (দশ মার্কিন ডলার)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ