বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪
Online Edition

সংসদ নির্বাচনের তারিখ 

গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক জনগণের আশংকাকে সত্য প্রমাণ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। গত ১৫ নভেম্বর টেলিভিশন ও রেডিওতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল জানিয়েছেন, নির্বাচন হবে আগামী বছর, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইলে চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কোনো সমস্যা হলে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আপিল দায়ের করা যাবে। একই সময়ের মধ্যে আপিলের নিষ্পত্তিও করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ হবে ১৭ ডিসেম্বর আর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ১৮ ডিসেম্বর। 

সিইসি তার ভাষণে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় নির্ধারণ করেছেন ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল আটটা পর্যন্ত। এই প্রক্রিয়ায় ভোট দেয়ার আয়োজন করা হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। নির্বাচনের ফলাফলও সেদিনই ঘোষণা শুরু করা হবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেই সিইসির এই ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দুটি জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ মূল ধারার কোনো রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ করেনি। সে অবস্থার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে যথেচ্ছভাবে ‘গোল’ করেছিল। দলটির লোকজনই কেবল এমপি হননি, তাদের বদৌলতে অন্য দলের লোকজনও জাতীয় সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় সংসদে বিরোধী দলের নেতা কে হবেন এবং কারা মন্ত্রিত্ব পাবেন সেসব বিষয়েও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতা ব্যবহার করে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ প্রতিটি পদে নিযুক্তি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এর মধ্যদিয়ে প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের সর্বনাশ ঘটেছে। কিন্তু বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন দল ও মহলের পক্ষ থেকে আপত্তি ও প্রতিবাদ জানানো হলেও ক্ষমতাসীনরা কারো কথায় কান দেননি। তারা সর্বতোভাবে শুধু নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যস্ত থেকেছেন। উল্লেখ্য, দেশের ভেতরে শুধু নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গণতন্ত্র ধ্বংসের এই কর্মকান্ড ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছে। 

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীনরা তাদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করেছেন। ফলে ক্ষমতাসীনদের পাশাপাশি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশও নিন্দিত হয়েছে।

এভাবে চলতে চলতেই আরো একটি সংসদ নির্বাচনের সময় এসে গেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ দেশপ্রেমিক দলগুলো আনুষ্ঠানিক বিভিন্ন প্রস্তাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনকে আড়াল হিসেবে সামনে রেখে সরকার আরো একবার নিয়েছে প্রতারণার কৌশল। সে কারণেই সকল দল ও মহলের দাবি ও প্রস্তাবের প্রতি চরম উপেক্ষা দেখিয়ে সিইসি তার ভাষণে ক্ষমতাসীন দলের সুরে ও ভাষায় তফসিল ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলো সিইসির ঘোষিত তফসিলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলগুলো একই সাথে আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছে।

বাস্তব এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করি, সরকারের উচিত নির্বাচন কমিশনকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন তফসিল তৈরি ও ঘোষণার নির্দেশনা দেয়া। আমরা চাই, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হোক, যাতে এর মধ্যদিয়ে সত্যিকারের জনমতের প্রকাশ ঘটতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ