সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪
Online Edition

গণতন্ত্র এখন কেমন আছে

১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ছিল আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। এ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকার চর্চার জায়গা দিনদিন সংকুচিত হয়ে আসছে এবং গণতন্ত্র এখন হুমকির মুখে। গুতেরেস আরও বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ; তা আসলে সমৃদ্ধ, সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ সমাজের মূলভিত্তি। সমাজের প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং স্বাধীনতার রক্ষাকবচও গণতন্ত্র ও আইনের শাসন। জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘সমাজের প্রতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যে প্রতিশ্রুতি, তা আমরা এই দিবসে উদযাপন করছি। একই সঙ্গে বর্তমান অস্থির ও উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে গণতন্ত্র যে হুমকির মুখোমুখি, তা-ও স্বীকার করে নিচ্ছি।’

গুতেরেস আরও বলেন, মিথ্যা ও অপতথ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, সমাজকে মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি যে আস্থা, সেটিও নষ্ট করে দিচ্ছে ওই মিথ্যা ও অপতথ্য। উল্লেখ্য যে, এবারের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষমতায়ন’। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বর্তমান সময়ে এবং ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের সুরক্ষার ক্ষেত্রে শিশু ও তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, শিশু ও তরুণদের বক্তব্য যথাযথভাবে নেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষা, দক্ষতা ও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শিখনে বিপুল বিনিয়োগ করে এই তরুণ ও শিশুদের সহযোগিতা করতে হবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব সাধারণত ভালো কথা বলে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে তিনি যে বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তা বেশ তথ্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বলেই বিবেচিত হয়ে থাকে। গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে তিনি যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতেও সেরকম প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের অধিকার চর্চার জায়গা দিনদিন সংকুচিত হয়ে আসছে এবং গণতন্ত্র এখন হুমকির মুখে। তিনি আরও বলেন, মিথ্যা ও অপতথ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, সমাজকে মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং নষ্ট করছে আস্থাও। এমন তথ্যে উপলব্ধি করা যায়, বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থা সংকটের মুখে। তবে শুধু সংকটের কথা উল্লেখ করার মধ্যে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সমাধানের পথনির্দেশনার পাশাপাশি প্রয়োজন হয় কার্যকর উদ্যোগও। ঘাটতিটা এখানেই। আর জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানে যেভাবে সাড়া দেওয়া প্রয়োজন, সক্ষম ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সেভাবে সাড়া দেয় কি? এই প্রশ্নের তেমন সদুত্তর নেই। আর তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে গণতন্ত্রের যে রূপ, সেই সম্পর্কে কম বলাই ভালো। এখানে জনগণের অধিকার খুব কমই রক্ষিত হয়। বরং দমন-পীড়নের অভিযানটাই বেশি হয়। অশিক্ষা-কুশিক্ষার কারণে রাজনীতিবিদরা জনগণের একটা উল্লেখযোগ্য অংশকে সহজেই বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হন। আর এসব দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতার বদলে গণতন্ত্র যেন একদিনের ভোট প্রদানের মধ্যে সীমিত হয়ে পড়েছে। আর সেই ভোটটাও কি অবাধে ইচ্ছে মতো দেওয়া যায়?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ