শনিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২৩
Online Edition

সরকার প্রহসনের নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে

 

আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আজ শুক্রবার সকল জেলাসমূহে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বিবৃতি দিয়েছেন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধীদলের নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এমনকি মৃত ব্যক্তিদের নামেও মামলা দায়ের করা হচ্ছে। সরকারের জুলুম-নির্যাতন থেকে বৃদ্ধ নারী-পুরুষ, শিশুসহ কেউই রেহাই পাচ্ছে না। দেশের জনগণ কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। সরকার বিরোধীদলকে বাইরে রেখে একটি প্রহসনের নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। 

সরকারের সকল চক্রান্ত বানচাল করে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য এবং আমীরে জামায়াত ডা. শফিুকর রহমানসহ আলেম-ওলামাদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকল জেলাসমূহে তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করে তোলার জন্য তিনি জামায়াতের সকল জেলা শাখার জনশক্তি ও দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস : জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে

এক বিবৃতিতে বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’। গণতন্ত্র নাগরিকদের মধ্যে সমতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। যেখানে গণতন্ত্র থাকে না, সেখানে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা বলতে কিছুই থাকে না। বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র না থাকায় মানুষ সাম্য, নাগরিক অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, ন্যায়বিচার, ভোটাধিকারসহ সকল মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের মানুষ হামলা, মামলা, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হচ্ছে। দেশের নাগরিকদের কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। এক কথায় বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে খুবই সংকুচিত করা হয়েছে। 

তিনি আরও বরেন, বিশ্বের কল্যাণের জন্য মানবাধিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নি¤œকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান- টম ল্যান্টস হিউম্যান রাইটস কমিশন ‘হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশ: অ্যান আপডেট’ শিরোনামে এক ব্রিফিং-এর আয়োজন করে। সেখানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ব্রিফিং-এ বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, গুম, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব, সাংবাদিক-ব্লগার নিপীড়ন, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ ও ইন্টারনেট-এর স্বাধীনতা খর্ব ও সংকুচিত করা হয়েছে। সরকারের সমালোচকরা প্রতিহিংসামূলক গ্রেফতার, হয়রানি ও ভীতির শিকার হচ্ছেন। 

তিনি বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশকে গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। স্বাধীনভাবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। ভাত ও ভোটের অধিকার, স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারসহ সবকিছুই বর্তমান সরকার কেড়ে নিয়েছে। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করলেও গুম-খুন করে তা স্তব্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এ সরকারের আমলে সবচাইতে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনের আমীর ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের দিনের পর দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। আটককৃত নেতাকর্মী জামিন লাভ করলেও তাদেরকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। উল্টো তাদেরকে পুনরায় গ্রেফতার করে নতুন নতুন মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে কারাগারে আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। 

বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকারের কবল থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, গুম, খুন ও ক্রসফায়ার এর মত অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করে দেশে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নির্দলীয় নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি সচেতন দেশবাসীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। 

অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্রর মুক্তি দাবি : মাওলানা এটিএম মা’ছুম অপর এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র এর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উল্লেখ করে তৈরিকৃত প্রতিবেদনের কারণে অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্রসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় আদিলুর রহমন খান শুভ্র ও নাসিরুদ্দিন এলানকে দুই বছরের কারাদ- দেয়া হয়। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে যা ঘটেছিল তা দেশবাসীর জানা রয়েছে। ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা কোনো অবস্থাতেই অপরাধের আওতায় পড়ে না। মূলত বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আদিলুর রহমান খান শুভ্রকে সরকার শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকারের বিপর্যয় সম্পর্কে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করা সরকারের রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। শাপলা চত্বরে হত্যাকা-ের সংবাদ পরিবেশনের কারণে মামলা দায়ের ও শাস্তি প্রদান সরকারের মানবাধিকার বিরোধী কর্মকা-ের আরেকটি নমুনা। তিনি অবিলম্বে আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও নাসিরুদ্দিন এলানকে মুক্তি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ