মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪
Online Edition

জামরুল গাছের বাহার বাড়ায় বাগানের শোভা

॥ আসগর মতিন ॥

বাহারী গাছ জামরুল। ফল ও পাতা মিলিয়ে আলাদা মনকাড়া সৌন্দর্য এর। জামরুল ফল সবার পছন্দ। এর উঁচু গাছ রাস্তা ও বাগানের সৌন্দর্য বাড়ায়। এখনও বাজারে ফল মেলে হরেক রকম। আম কাঁঠাল আছে,জাম লিচুর সিজন শেষ। পাকা তাল আছে। জামরুল কোথাও কোথাও মেলে। সিজনে বেশ পাওয়া যায়। জামরুল ফলকে আমরূজও বলা হয়। জামরুল হালকা মিষ্টি স্বাদযুক্ত একটি রসালো গ্রীষ্মকালীন ফল।  কোন কোন বিদেশী জাত বেশ মিষ্টি। সাদাটে ধরনের একটি জাতই আগে দেখা যেত। এখন লাল ও গোলাপী রঙের বাহারী জামরুল চোখে পড়ে। জামরুল গাছ রোড সাইড ট্রি হিসেবে বেশ মনহরণকারী। জামরুল এর বৈজ্ঞানিক নাম সিজিজিয়াম সামারানগেন্সি (Syzygium samarangense), ইংরেজি নাম Champoo (শব্দটা এসছে থাই ভাষা থেকে)। এছাড়া ওয়াক্স আপেল, লাভ আপেল, জাভা আপেল, রযেল আপেল বেলফ্রুট, জ্যামাইকান আপেল, মাউন্টেন আপেলরোজ আপেল ইত্যাদি এর ইংরেজি নাম। এটি মিরটাসি (Myrtaceae) ফ্যামিলী বা পরিবারের সিজিজিয়াম (Syzygium)  জেনাস বা গণের অন্তর্ভুক্ত ফলের গাছ। বর্গ বা অর্ডার হচ্ছে মিরটালেস (Order: Myrtales), । স্পেসিজ বা প্রজাতি এস.সামারানগেন্সি (Species:S. samarangense),ধসধৎধহমবহংব), দ্বিপদী নাম বা বিনোমিয়াল নেম ( Binomial name : Syzygium samarangense).

বৃহত্তর সুন্দা দ্বীপপুঞ্জ, মালয় উপদ্বীপ এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে এর আদি নিবাস ধরা হয়। পরে আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পগে। এটি বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সামোয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশে জন্মে।  ক্রান্তীয় অঞ্চলে জামরুলের ব্যাপক চাষ হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু জামরুল চাষের জন্য অধিক উপযোগী। সারা দেশে বসত বাড়ির আশেপাশে বা পুকুরের ধারে বিক্ষিপ্তভাবে এ ফলের দু’ একটি গাছ দেখা যায়। গাছগুলো বেশ বড় হয় আর এর পাতাগুলো বড় বড় ও হালকা সবুজ। আবার ছোট বা মাঝারি গাছও আছে। বেশ ছোট গাছেও ফল ধরে।  পাতা নরম, খসখসে নয়। সাধারণ বা সাদা রঙের জামরুল ধরে এমন গাছই চোখে পড়ে বেশি। এখন বিদেশী জাতের চারা রোপণ করে বাগান করা হচ্ছে। এসব জামরুল দেখতে সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু। আমি ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্ম প্লাজম সেন্টারে লাল রঙের বড় বড় রসালো ও মিষ্টি স্বাদের জামরুলের গাছ দেখেছি। কৃষি বিজ্ঞানী আবদুর রহিমের তত্ত্বাবধানে সেখানে বহু ধরনের গাছ নিয়ে গবেষণা হয়। জানা গেল পাকিস্তানী জাতের এ জামরুল বাংলাদেশের মাটিতে বেশ ভাল জন্মে। রমনা পার্কসহ বিভিন্ন পার্কে এই গাছ আছে।  উঁচু গাছে থোকায় থোকায় জামরুল ধরে থাকতে দেখলে জিভে পানি না এসে পারে না। থাই জামরুরেও চাষ হচ্ছে। গুটি কলম ও শাখা কলমের মাধ্যমে বংশ বিস্তার কারা যায়। সাধারণত ফল সংগ্রহের পর গাছে নতুন পাতা গজাতে শুরু করলে কলম করা উচিত। উপযুক্ত যথ।ণ নিলে জামরুল চাষে হেক্টর প্রতি ১৫-২০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। জাত: প্রধানত তিন ধরনের জামরুল ফল দেখা যায়। ধবধবে সাদা, সবুজাভ সাদা ও গোলাপীলাল বা মেরুন বর্ণের। কোন কোন জামরুল টকটকে লাল কোনটা সাদায় সবুজে মেশানো। দেশের কোন কোন অঞ্চালে সাদা জাম অথবা ম-ল হিসাবেও পরিচিত। সাধারণত বীজ থেকে গাছ হয়, কিন্তু ডাল কেটে পানিতে রাখলে শেকড় জন্মায়। বিদেশী জাতগুলোর ফল দেশী জাতের চেয়ে আকারেও বড়। অতি ঠান্ডা বা গরম উভয়ই জামরুল গাছের জন্য ক্ষতি কর। জায়গার অভাব হলে বাড়ির ছাদে হাফ ড্রামেও জামরুল গাছ লাগানো যায়। ঔষধী গুণ:  এর কিছু ঔষধী গুণও আছে।  এটি ভিটামিন বি-২ সমৃদ্ধ একটি ফল।এ ফলে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীর তৃষ্ণা নিবারণে উপকারী। জামরুলে আমিষ, খনিজ লবণ, ভিটামিন সি, লৌহ ও ক্যারোটিন রয়েছে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় জামরুল খুব ভালো কাজ করে থাকে। বাত নিরাময় এবং চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতেও জামরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লেখক : প্রকৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষক ও লেখক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ