ঢাকা, মঙ্গলবার 21 May 2024, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ১২ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিজরী
Online Edition

আদানির পর এবার হিডেনবার্গের শিকার টুইটারের জ্যাক ডরসি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ভারতের গৌতম আদানির বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য টালমাটাল করে দেয়া হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ আরো একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের এবারের নিশানায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা ব্লক ইনকরপোরেটেড।

নতুন রিপোর্ট পেশ করে মার্কিন শেয়ার বাজারকে নাড়িয়ে দিয়েছে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই হু হু করে শেয়ার বাজারে পড়তে থাকে ব্লকের শেয়ারের দাম। এর জেরে অনেক সম্পদ হারিয়েছেন টুইটারের প্রতিষ্ঠাতা ডরসি।

বৃহস্পতিবার জ্যাক ডরসির ব্লক ইনকরপোরেশনের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পেশ করে ফের একবার খবরের শিরোনামে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। মার্কিন লগ্নি গবেষণাকারী সংস্থার দাবি, জালিয়াতি করে ব্লকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এমনকি রিপোর্টে এ-ও দাবি করা হয়েছে, ব্লকের সাবেক কর্মীরাই নাকি হিন্ডেনবার্গের কাছে স্বীকার করেছে যে ব্লকের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ অ্যাকাউন্টই ভুয়া।

এদিকে হিন্ডেনবার্গের দাবি, সংস্থা জানত এই ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলোর বিষয়ে, তাও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের দাবি, ব্লকের ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেই জালিয়াতি করেছে জ্যাক ডরসির সংস্থা। পাশাপাশি সরকারকেও ‘ধোকা’ দেয়া হয়েছে বলে দাবি রিপোর্টে। রিসার্চে নাকি বেরিয়ে এসেছে যে একাধিক নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে ব্লক ইনকরপোরেশনে। নিজেদের ‘মেট্রিক’ (বাণিজ্যের পরিমাণ বা লেনদেন এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা) জালিয়াতি করে ফুলে ফেঁপে তুলেছিল ব্লক। এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের সাথেও প্রতারণা করা হয়েছে বলে দাবি রিপোর্টে।

এদিকে হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে আরো দাবি করা হয়েছে, প্রতারণার কারণেই ব্লকের স্টকের মূল্য এত বেড়েছে। ব্লকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি ও জেমস ম্যাককেলভি করোনা মহামারীর সময় এক বিলিয়ন ডলারের স্টক বিক্রি করে নিজেদের পকেটে মুনাফা ভরেছিলেন। সংস্থার অন্যান্য এক্সিকিউটিভ, সিএফও অমৃতা আহুজা এবং ক্যাশ অ্যাপের লিড ম্যানেজার ব্রায়ান গ্রাসাডেনিয়াও ব্লকের লক্ষাধিক ডলারের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তা বিক্রি করেছিলেন।

এই রিপোর্ট পেশের পরই ৫২৬ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ হারান জ্যাক। এর জেরে জ্যাকের বর্তমান সম্পদের মূল্য ৪.৪ বিলিয়ন ডলার।

হিন্ডেনবার্গের এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৩ মিনিট নাগাদ ব্লকের শেয়ার দর এক ধাক্কায় কমে গিয়েছিল ২০ শতাংশ।

উল্লেখ্য, ক্রেডিট কার্ড ব্যবসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতেই ব্লক ইনকরপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ২০০৯ সালে। সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাক অ্যাপার্টমেন্টে বসে এই কাজ করেছিলেন তিনি। তখন সংস্থার নাম ছিল স্কোয়ার ইনকরপোরেশন। পরে নাম বদলে তা ব্লক হয়। সংস্থার ৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক জ্যাক ডরসি। তিনিই সংস্থার বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার।

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের দাবি, ব্লকের ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেই জালিয়াতি করেছে জ্যাক ডরসির সংস্থা। পাশাপাশি সরকারকেও ‘ধোকা’ দেয়া হয়েছে বলে দাবি রিপোর্টে।

তবে হিনডেনবার্গের তোলা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে ব্লক কর্তৃপক্ষ। আদানি গ্রুপের মতো তারাও শর্ট-বিক্রেতা সংস্থাটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

টুইটারের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি। তবে তার বেশিরভাগ ব্যক্তিগত সম্পত্তি এখন ব্লকের সঙ্গে সম্পর্কিত। ব্লুমবার্গ সম্পদ সূচক অনুসারে, ব্লক ইনকরপোরেটডের বর্তমান মূল্যমান প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। এর বাইরে টুইটারে ৩৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার রয়েছে ডরসির।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতের আদানি গ্রুপকে নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। তার পরপরই পতন শুরু হয় আদানি সাম্রাজ্যের।

অনুসন্ধানী ওই প্রতিবেদনে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ‘করপোরেট জগতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধোঁকাবাজি’র অভিযোগ তোলে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। তাদের দাবি, আদানি গ্রুপের কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে শেয়ারবাজারে ধোঁকাবাজি এবং হিসাবপত্র জালিয়াতি করে আসছে।

হিন্ডেনবার্গ আরো দাবি করেছে, আদানির কোম্পানিগুলোর কাঁধে বিশাল ঋণ রয়েছে, যা পুরো গ্রুপটির অর্থনৈতিক ভিত্তিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

গত ২৪ জানুয়ারি ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে এ পর্যন্ত আদানি গ্রুপের তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানি প্রায় ১৪ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে। ধস নেমেছে আদানির ব্যক্তিগত সম্পদেও। প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে তিনি ছিলেন বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষধনী। কিন্তু সম্পত্তি কমতে কমতে ধনীদের তালিকায় তিনি এখন ২১তম।

তবে হিন্ডেনবার্গের তোলা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে আদানি গ্রুপ। তাদের দাবি, আদানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তোলা ভারতের পরিকল্পিত আক্রমণের অংশ।

আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করতে গত ২ মার্চ পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন প্যানেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, ব্লুমবার্গ ও অন্যান্য

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ