মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪
Online Edition

রামাদান প্রশিক্ষণের এক অনুপম কর্মশালা

 

প্রফেসর ড. আ.ছ.ম তরীকুল ইসলাম

সংজ্ঞা

উদ্দেশ্যাবলি অর্জনের জন্য সময়কে সুপরিকল্পিতভাবে সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করাকেই ‘সময়-ব্যবস্থাপনা’ বলে। সময়  কোনো ব্যক্তিকে তাওয়াক্কাও করে না, কারো নিয়ন্ত্রণও মানে না, সে জন্য সময় নিয়ন্ত্রণের নাম সময়-ব্যবস্থাপনা  নয়। সময়কে সঠিকভাবে সদ্ব্যবহার করার নামই হচ্ছে, সময়-ব্যবস্থাপনা। 

উদাহরণস্বরূপ- একজন পেশাজীবীর জন্য নি¤œ বিষয়গুলো সময়-ব্যবস্থাপনারই অংশ বিশেষ- 

১. নিজ দায়িত্বের কাজ সময়মতই সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন করা।

২. অন্যকে সময় দিলে অথবা অন্য থেকে সময় নিলে, নির্ধারিত সময় যাতে নষ্ট না হয় গুরুত্বের সাথে সে দিকে খেয়াল রাখা। 

৩. যে কোন কর্মসূচিতে সময়মত অংশ গ্রহণ ও কর্মস্থলে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে কাজ শুরু করা।

উল্লেখ্য, তাকওয়া অর্জনকারী ও হালাল রিযক অন্বেষণকারীর জন্য সময়-ব্যবস্থাপনা একটি বড় নিয়ামত।  কেননা সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ভয়ে সময়ের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়। হালাল রিজিক উপার্জনের জন্য সময় কাজে লাগানোর কোন বিকল্প নেই।

প্রকৃতি ও সময়-ব্যবস্থাপনা

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা প্রকৃতিতেও নিহিত রেখেছেন এক বিস্ময়কর সময়-ব্যবস্থাপনা। সমুদ্রের জোয়ার ভাটা, ঋতুচক্র ও ফসল উৎপাদন, রাত্রদিনের আবর্তন; এ সবগুলোর ভিতরেই নিহিত রয়েছে এক সময়-ব্যবস্থাপনার অনুপম চিত্র। সে দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধের জন্য আল্লাহ ‘আয্যা ওয়া জাল্লা  ইরশাদ করেছেনÑ ‘আর তিনি তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে এবং সূর্য ও চাঁদকে এবং তারকাসমূহও তাঁর নির্দেশে নিয়োজিত। নিশ্চয় এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা বুঝে। (সূরাহ আন নাহল: ১২)।

সময়-ব্যবস্থাপনার উপকারিতা

বাস্তবতার নিরিখে বিশ্লেষণ করলে সময়-ব্যবস্থাপনার মধ্যে অগণিত কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

১. পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়।

২. সময়ের ‎সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়।‎ 

৩. হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ হয়।

৪. দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও মানসিক বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

৫. জীবনের স্তরে স্তরে সফলতা অর্জন করা যায়।

৬.   ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জবাবদিহিতায় ব্যর্থ হতে হয় না।

৭.   উৎফুল্ল মন-মগজ তৈরী হয়।

৮.   সংশ্লিষ্টদের প্রত্যেকেই তাদের অধিকার লাভে ধন্য হয়।

৯. ব্যর্থতা আসে না, সুতরাং এর জন্য আফসোসেরও প্রয়োজন হয় না।

১০.  সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সময়-ব্যবস্থাপনার ভূমিকা সর্বজনবিদিত।

ইসলামের দৃষ্টিতে সময়

ইসলামই জীবন-ব্যবস্থা বিভিন্ন ‘ইবাদাতের মাধ্যমে সময়-ব্যবস্থাপনার চৌকস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে-‎

ক. ছালাত সম্পর্কে বলা হয়েছে-‎

‘নিশ্চয় সালাত মু’মিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয।’ (সূরাহ আননিসা’: ১০৩)।‎ অর্থাৎ সালাতকে সময়ের সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে। সালাত আদায় শুধু ফরয নয়, সময়মত আদায় করাও ফরয।

খ. ছাওমে তো ঘড়ি দেখেই ইফতারি করতে হয়, সেহেরীতেও সময় দেখেই খাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়।‎ সেখানে সময় একটি  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

গ. হাজ্জে মিনা, ‘আরাফাত, মুজদালিফাহ, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ  সময়ের সাথে সমন্বয় করেই সম্পন্ন করতে হয়।‎

সময়ের গুরুত্বের কারণেই মহান আল্লাহ সময়ের শপথ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন-

‘সময়ের শপথ। সব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে হকের দাওয়াত দেয় ও ধৈর্য ধরার উপদেশ দেয়।’ (সূরাহ আল আসর : ১-৩)।

আলহাদীছে অবসরকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সময় ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন হয়েছে-

আব্দুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রা. সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে দেয়া এমন দু’টি নি‘আমাত রয়েছে যার প্রতি অধিকাংশ মানুষই উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে থাকে, তার একটি সুস্থতা ও অপরটি অবসরতা।’ (আলবুখারী, কায়রো, ১৪০৭ হি. ৮খ. ১০৯ পৃ.)। এ হাদীসে সময়কে অবহেলা না করে কাজে লাগানোরই উদাত্ত আহ্বান এসেছে।

‘আমর ইবন মায়মূন রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে যেয়ে বলেন যে, ‘পাঁচটি বিষয়কে অপর পাঁচটি বিষয়ের আগে মূল্য দাও, বার্ধক্যের আগে যৌবনকে, অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে, দারিদ্র্যের আগে ধনাঢ্যকে, ব্যস্ততার আগে অবসরকে এবং মৃত্যুর আগে হায়াতকে।’ (আনাসাঈ, ১০খ. ৪০পৃ.)। এ হাদীসেও সময়ের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সময়ের হিসাব দেয়া ছাড়া জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ নেই। যেমন বর্ণিত হয়েছে-

‘আব্দুল্লাহ ইবন মাস’উদ রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসিত না হওয়া পর্যন্ত বিচার দিবসে কোনো মানুষ তার পা নাড়াতে পারবে না:

১. তার হায়াত সম্পর্কে তা কোথায় উড়িয়েছে। 

২. তার যৌবন সম্পর্কে তা কোথায় মলিন করেছে। 

৩. তার সম্পদ সম্পর্কে, তা কোথায় থেকে আয় করেছে। 

৪. তা কোথায় খরচ করেছে।

৫. সে যা জেনেছে, সে অনুযায়ী কতটা আমল করেছে। (আততিরমিযী, বায়রূত, ১৯৯৮, ৪খ. ১৯০পৃ.)। তাহলে পরিষ্কার হলো যে, সময় হেলাখেলা করে হেনতেনভাবে নষ্ট করলে অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট জবাবদিহি করতে হবে। আখিরাতের নাযাত এ সময়কে কাজে লাগানোর ওপরও নির্ভরশীল, এ হাদীছের বিশেষ শিক্ষা হচ্ছে সেটিই। 

পৃথিবীতে সময় কাজে না লাগালে কিয়ামতে আফসুস করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন- আর সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবে, ‘হে আমাদের রাব্ব, আমাদেরকে বের করে দিন, আমরা পূর্বে যে আমল করতাম, তার পরিবর্তে আমরা নেক আমল করব’। (আল্লাহ বলবেন) ‘আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স (সময়) দেইনি যে, তখন কেউ শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত? আর তোমাদের কাছে তো সতর্ককারী এসেছিল। কাজেই তোমরা আযাব আস্বাদন কর, আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরাহ আলফাতির: ৩৭)।

নিঃসন্দেহে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামাত হচ্ছে, সময়  অর্থাৎ তার হায়াত।

মানুষকে সৃষ্টি করাই হয়েছে সময়কে কাজে লাগিয়ে আখিরাতকে আবাদ করার জন্য। 

‘আর যে আখিরাত চায় এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে মুমিন অবস্থায়, তাদের চেষ্টা হবে পুরস্কারযোগ্য।’ (সূরাহ বানু ইসরাইল:১৯)।

দুনিয়া বানু আদমের আসল উদ্দেশ্য নয়, দুনিয়ার সময় কাজে লাগিয়ে আখিরাতের শস্য ঘরে উঠানোই হচ্ছে তাদের মূল কাজ। এ প্রসঙ্গে  উদাত্ত আহ্বান এসেছে আল হাদীছে- ‘তুমি দুনিয়াতে মুসাফিরের মত অথবা পথচারীর মত হও।’ (আলবুখারী, ২০খ. ৩৯পৃ.)

এই দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি  হাদীসে মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের সফলতার জন্য পার্থিব  জীবনে সময়কে কাজে লাগানোর আহ্বান এসেছে-

শাদ্দাদ ইবনু আওস রা. সূত্রে  বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, সেই ব্যক্তি বুদ্ধিমান যে নিজের নাফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য কাজ করে। আর সেই ব্যক্তি নির্বোধ ও অক্ষম যে তার নাফসের দাবির অনুসরণ করে আর আল্লাহ্ তা’আলার নিকটে বৃথা আশা পোষণ করে। (আততিরমিয়ী, ৪খ. ২১৯পৃ.)। সুতরাং ইসলাম সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করেছে। ইসলামের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, সময়কে অপব্যবহার করা মূলত মানূষকে মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি করে। ধ্বংসকে অনিবার্য করে। আখিরাতকে নষ্ট করে ফেলে।

রামাদান ও সময়-ব্যবস্থাপনা

মূলত রামাদান মুসলিম উম্মার জন্য এক অতুলনীয় শিক্ষাশিবির, অনুপম কর্মশালা। এটি হচ্ছে, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আল্লার গোলামকে চৌকস গোলামে পরিণত করার এক বাস্তবধর্মী কর্মসূচী। এখানে হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হয়; তাকওয়ার অনুশীলন, স্বাস্থ্য-চর্চা, দানশীলতা, জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ, চক্ষু  সংযম, ষড়রিপুর লাগাম পরানোর মত অসংখ্য বিষয়াদি। তবে সবগুলোর সাথে সাথে সময়-ব্যবস্থাপনার যে অনুপম শিক্ষাদানের ব্যবস্থা রামাদানে নিহিত রয়েছে, তাতে একে সময়-ব্যবস্থাপনার কর্মশালা বললেও অত্ত্যুক্তি হয় না।

সুপ্রিয় পাঠকম-লী, রামাদান যে হাতে কলমে সময়-ব্যবস্থাপনার এক তুলনাহীন প্রশিক্ষণ, নি¤œ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করলে তা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেমন-

১. রামাদানে ইফতার সামনে নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়, কখন সূর্য অস্ত যাবে। তারপর সূর্য অস্ত যাওয়া নিশ্চিত হলে, ইফতার গ্রহণের মাধ্যমে ছিয়ামব্রতের পরিসমাপ্তি টানতে হয়। দেরীতে ইফতার করলে ছিয়াম মাকরূহ হয়ে যায় আর নির্ধারিত সময়ের আগে ইফতার করলে ছিয়াম বাতিল হয়ে যায়। সে জন্য সময়ের আগপিছ করার কোন সুযোগ রামাদানের ছিয়াম সাধনায় নেই, আর এটিই তো মূলত সময়-ব্যবস্থাপনার মূলকথা।

২.ইফতার শেষ হতে না হতেই জামাআতের সাথে নির্ধারিত সময় মাগরিবের ছালাত আদায় করতে হয়।

৩. নির্ধারিত সময়ের জন্য বিশ্রাম, তারপর-

৪. জামা’আতের সাথে নির্ধারিত সময় ‘ইশার ছালাত আদায় করার প্রয়োজন পড়ে। 

৫. ‘ইশার ছালাত আদায় করার সাথে সাথে জামা‘আতের সাথে নির্ধারিত সময় তারাবীর ছালাত আদায় করতে হয়।

৬. ‘ইশার ছালাত আদায় করার পর নির্ধারিত সময়ের জন্য বিশ্রাম করে, ঘুমিয়ে শরীরকে চাঙ্গা করার কসরৎ করতে হয়। এরপর শুরু হয় সাহারী গ্রহণের পালা।

৭. সাহারী গ্রহণের জন্যও সতর্ক থাকতে হয়, কখন এর সময় শেষ হবে। সময় শেষ হওয়ার পূর্বেই পানাহার বন্ধ করা অত্যাবশ্যক। দেরীতে করলে ছাওয়াব বেশী পাওয়া যায়, তবে সাহরী গ্রহণে ছুবহি ছাদিক করে ফেললে, ছিয়াম বাতিল বলে গণ্য হয়। ছুবহি ছাদিক আগমনী বার্তা ঘোষণার সাথে সাথে খাওয়া থেকে হাত গুটিয়ে নিতে হয়। দেখুন হাতেকলমে সময়-ব্যবস্থাপনার নিখাদ কর্মশালা কাকে বলে! কিভাবেই রামাদানের ছিয়াম সাধনা থেকে এ সময়-ব্যবস্থাপনা শিক্ষা করতে হয়, তা কি আর চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া প্রয়োজন আছে?

৮. সাহরী শেষে জামা‘আতের সাথে নির্ধারিত সময় ফজরের ছালাত আদায় করতে হয়। 

৯. সামান্য বিশ্রাম করে পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনে বেরিয়ে পড়তে হয়।

১০.এক পর্যায়ে জামা‘আতের সাথে নির্ধারিত সময় যুহরের ছালাত আদায় করা হয়ে থাকে। 

১১. এরপর জামা‘আতের সাথে নির্ধারিত সময় আছরের ছালাত আদায় সমাপ্ত হয়। এরপর অপেক্ষা সেই মহেন্দ্রক্ষণ ইফতারীর যার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে, ছিয়াম সাধনাকারীর জন্য অনাবিল আনন্দ, বুক ভরে খুশী উপলব্ধির সুবর্ণ সময়। 

১২.এ সব প্রাত্যহিক অত্যাবশ্যকীয় কাজের মাঝে  আরো রয়েছে ছাওয়াব অর্জনের এ বসন্ত কালে বেশী বেশী তাহাজ্জাদের ছালাত আদায়, অন্যান্য নফল ছালাত আদায়,  প্রত্যহ কম পক্ষেও এক পারা তিলাওয়াতুল কুরআন, অন্যান্য যিকর আযকার, বিশেষ বিশেষ দু‘আ ইসতিগফার, দান-খায়রাত, উপদেশ দান, বিশেষভাবে মহিলাদের ইফতারী তৈরী, রাতের ও সাহারীর প্রস্তুতি আর প্রতিবেশীদেরকে বা দরিদ্রদেরকে ইফতারী পাঠানো প্রভৃতি। দেখলেন তো সময়কে কাজে লাগানোর কত সুন্দর ব্যবস্থা।

আসলে রামাদান মাসে এতসব কাজ যথা সময়ে চক্রাবৃত্তিতে একমাস ধরে  হাত ধরে ধরে সম্পাদনের তুলনাহীন ব্যবস্থা, মূলত দীর্ঘ সময় ধরে সময়-ব্যবস্থাপনার যে অনুপম এক কর্মশালা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্লেখ্য, এত সবের  জন্য সময়ের সুষ্ঠু বণ্টন তো বটেই, বিশেষ করে ইফতার ও সাহারীতে কাঁটায় কাঁটায় সময় অনুবর্তীতা মেনে চলা আর সাথে ছালাত আদায় ও অন্যান্য কাজেও সময়ের যথাযথ ব্যবহারের যে অনুপম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এ রামাদান মাস মুসলিম উম্মার জন্য করেছে, তাতে যে কোন বিবেচনায় একে সময়-ব্যবস্থাপনার এক কর্মশালা বলাই যুক্তিযুক্ত। 

ইসলামী জীবন-ব্যবস্থা সময়-ব্যবস্থাপনাকে কত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করেছে ইতঃপূর্বে সেটিও উত্থাপিত হয়েছে। সুতরাং সময়-ব্যবস্থাপনার এ অনুপম কর্মশালা থেকে চৌকস প্রশিক্ষণ নিয়ে, বছরের বাকী এগারো মাস এক একজন মুসলিম জীবনের  প্রতিটি ক্ষেত্রে সময়-ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগে অভ্যস্ত হবে, এটিই কিন্তু সময়-ব্যবস্থাপনার এ কর্মশালার মূল দাবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ