বুধবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

চলমান আন্দোলনে দানবীয় সরকারকে পরাজিত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো

গতকাল মঙ্গলবার বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকো’র মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা জানানো শেষে মোনাজাত করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কোকোকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আরাফাত রহমান একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তিনি একজন সাধারণ ক্রীড়াবিদ ছিলেন। তিনি নিজে খেলাধুলা করতেন এবং খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট আজকে যে জায়গায় এসেছে এর প্রধান নায়ক ছিলেন কোকো। তিনি ক্রিকেটকে সংগঠিত করবার জন্য, প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য, মাননোন্নয়ন করবার জন্য, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাবার জন্য তিনি তার অবদান রেখেছে। তিনি এদেশে একজন ক্রীড়ামোদী হিসেবে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে এদেশের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কোকোকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানী কবরস্থানে কবর জিয়ারত ও পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশে রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কময় ১/১১ ঘটনার পর আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। মিথ্যে মামলায় মিথ্যে অজুহাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আরাফাত রহমান কোকো, তিনি একজন অসাধারণ ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সবচেয়ে আদরের ছেলে ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। আমরা দেখেছি কী করুণ অবস্থায় তাকে (কোকো) মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। দেশের মাটিতে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে তাকে চলে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিবার (জিয়া) এ দেশের মানুষের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এই পরিবার এদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। আমরা আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন সেই কামনা করছি বলেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আজ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি, সংগ্রাম করছি। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছে। এ চলমান আন্দোলনে আমাদের প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মীর শহীদ হয়েছেন। মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমরা সফল হবো, জয়ী হবো এবং এ দানবীয় সরকারকে পরাজিত করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করবো।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নাল আবদীন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম, মীর সরফত আলী সপু, নবী উল্লাহ নবী, আব্দুল আলিম নাকি, যুবদলের মামুন হাসান, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে মারা যান কোকো। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৪৫ বছর। ১/১১ সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে জরুরি অবস্থার সময়ে গ্রেফতার হন কোকো। ২০০৮ সালে উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান তিনি। সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় যান।

এদিকে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে দুপুরে এবং বিকেলে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর বিভিন্নস্থানে গরীব ও অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ