বুধবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

মুখ থুবড়ে পড়েছে ইছামতি খনন ও দখলদার উচ্ছেদ প্রকল্প

 

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ চলনবিলের ইছামতি নদীতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে, বসত ঘর দোকানপাট অট্রালিকা। সরকারের উচ্ছেদ অভিযান অজ্ঞাতকারণ বসত বন্ধ রয়েছে। পাবনা শহরের বুক চিড়ে বয়ে চলা এককালের স্রোতস্বিনী ইছামতির প্রাণ ফেরাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও খননের দু’টি প্রকল্প হাতে নিলেও এখন তা থমকে গেছে। দখলদারদের বারবার মামলায় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় টাকা ছাড় হচ্ছে না। এ দিকে নদী খনন প্রকল্পের ঠিকাদার ৩০ ভাগ কাজ করে প্রকল্প এলাকা ছেড়েছে। 

১৬০৮ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে বাংলার তৎকালীন রাজধানী জাহাঙ্গীরনগরে যাতায়াতের সুবিধায় বাংলার শাসনকর্তা ঈশা খাঁ ইছামতি নদীটি খনন করেন। এটিকে পদ্মা যমুনার শাখা হিসেবে মিলিয়ে দেয়া হয়। এ নদীকে কেন্দ্র করে পাক-ভারত উপমহাদেশে পাবনা হোসিয়ারি শিল্পশহর হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এক সময় পদ্মার তীব্র ভাঙনে শীতলাই জমিদার বাড়ি ও শহর বাঁচাতে বাঁধ দেয়া হয়। এরপর ইছামতিতে পদ্মার পানি আসা বন্ধ হতে থাকে। স্রোতস্বিনী ইছামতি আস্তে আস্তে মরা খালে পরিণত হয়। এ সুযোগে নদীর দু’তীর দখল করে বসতি গড়ে ওঠে। এক সময় বসতকারীদের অনেকেই খতিয়ানে নাম তুলে ভুয়া আমলনামা বানিয়ে মালিকানা দাবিতে মামলা করে আইনের ফাঁক গলিয়ে মালিক বনে গেছেন। বর্তমানে নদীটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়ে শহরের পরিবেশকে করছে দূষিত।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ইছামতির প্রাণ ফেরাতে সরকার পাঁচ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দখলদার উচ্ছেদ ও খননে ২০২১ সালের ২১ মার্চ দু’টি প্রকল্প হাতে নেয়। এ প্রকল্পে ইছামতির উৎসমুখ ২ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার ও শহরের মধ্যে আরো ১৫ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার খনন ও দখলমুক্ত করতে দুই কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। উচ্ছেদের মেয়াদ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি হলেও খনন প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুনে শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ মাত্র ৩০ ভাগ সম্পন্ন হলেও মেয়াদ শেষের আগে ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যায়। যে ৩০ ভাগ কাজ হয়েছে তা নষ্ট হয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। ২০২১ সাল থেকে নদীর দু’পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়। প্রথম দিকে শহরের লাইব্রেরি বাজার বড় ব্রিজ থেকে দক্ষিণ মুখে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি এক কিলোমিটার খনন করা হয়। একই সাথে নদীর উৎসমুখে দুই কিলোমিটার সংযোগ খাল খনন করা হয়। এরই মধ্যে নদীপাড়ের দখলদাররা একের পর এক আদালতে মামলা করে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টের নির্দেশে আবারো উত্তর মুখে উচ্ছেদ শুরু হয়। এ দিকে উচ্চ আদালতের ৪৩টি মামলার নিষ্পত্তি শেষে হাইকোর্টের নির্দেশে তৃতীয় ধাপে আবারো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। 

পাউবোর তথ্যানুযায়ী, নদীর দু’পাড়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার রয়েছে। তবে উচ্ছেদ না হওয়া নদী তীরবর্তী ২৩৫ জন বৈধ দাবি করা দখলদারের করা রিটটি গত বছর ২২ এপ্রিল উচ্চ আদালত নিষ্পত্তি করেন। এরপর দখলদার উচ্ছেদ ও খনন আবারো শুরু হলে ৭০ জনেরও বেশি দখলদার উচ্চ আদালতে মামলা করায় স্থগিতাদেশ দেয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ দিকে ইছামতি খননের দাবিতে দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করা হলেও কোনো কাজ না হওয়ায় সুধীমহলে অসন্তোষ বাড়ছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহীন রেজা জানান, নদীর পুরো অংশ খনন করে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে সবই অর্থহীন হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ