বুধবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

ওমরাহ করতে মোটরসাইকেলে চড়ে পাকিস্তান থেকে সৌদি আরবের পথে

২৪ জানুয়ারি, এএফপি, খালিজ টাইমস: পাকিস্তানের নাগরিক মুকাররম তারিনের জন্য মোটরসাইকেলে করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়াটা নতুন কিছু নয়। গত ৩০ বছরে মোটরসাইকেলে করে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ করেছেন তিনি। তারিন সিদ্ধান্ত নেন, চলতি বছর মোটরসাইকেলে করে সৌদি আরবের মক্কায় যাবেন।

সেখানে ওমরাহ পালন করবেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিজের ক্লাব ক্রস রুটের আরও ২৪ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি মোটরসাইকেলে করে পাকিস্তান থেকে সৌদি আরবের পথে যাত্রা শুরু করেন তারিন। ১৫ দিনে আড়াই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে পৌঁছান ২৫ মোটরসাইকেল আরোহী। সেখানে চার দিনের বিরতি নেন তারা। ওই সময় মুকাররম তারিনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে । সাক্ষাৎকারে তারিন বলেন, সম্প্রতি তারা পাকিস্তানের লাহোর থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং তাফতান সীমান্ত দিয়ে ইরানে প্রবেশ করেন। এরপর তারা ইরানের বাম নগরী হয়ে বন্দর আব্বাসে যান এবং ফেরিতে করে শারজাহ পৌঁছান। সেখানে বেশ আতিথেয়তা পান তারা।

তারিন বলেন, ‘শারজাহর বাসিন্দারা আমাদের বিশাল অভ্যর্থনা জানিয়েছে। আমরা এখানে পৌঁছানোর পর এখানকার মানুষ আমাদের ফল, চা এবং স্ন্যাকস খাইয়েছেন। এমনকি তাদের অনেকে মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজ করার জন্যও আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’  শুরুতে ২০১৯ সালে মোটরসাইকেলে মক্কা সফরের পরিকল্পনা করেছিল দলটি। তবে বিশ্বজুড়ে বিধিনিষেধের কারণে তখন আর ভ্রমণ সম্ভব হয়নি। ছয় মাস আগে আবারও মক্কা সফরের পরিকল্পনা করা হয়। এরপর যাত্রাপথে যেসব দেশ ভ্রমণ করতে হবে, সেগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। প্রয়োজনীয় সব ধরনের নথিপত্র সংগ্রহ করেন। তারিন বলেন, মোটরসাইকেলে করে দিনে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন তারা। সূর্যাস্তের আগেই তারা গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। মক্কায় ওমরাহ শেষে ইরান হয়ে পাকিস্তানে ফিরবে দলটি। যাত্রাপথে জর্ডান ও ইরাকেও সফর করবে তারা। এই মোটরসাইকেল আরোহী দলকে পাকিস্তান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে বেশ কিছু বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে। তুষারপাত এবং  ধূলিঝড়ের মতো বৈরী আবহাওয়ার কবলেও পড়তে হয়েছে তাদের। তারিন বলেন, ‘পাকিস্তানের মরুভূমিতে আমরা প্রচণ্ড ধুলাঝড়ের কবলে পড়েছিলাম। এরপর তুষারপাতের কবলেও পড়েছি। সামনে ১০ মিটার দূরত্বের বেশি কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ইরানের প্রচ- বাতাস থাকায় মোটরসাইকেল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবশ্য আমরা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে শারজাহতে পৌঁছাতে পেরেছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ