বুধবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

ডোনাল্ড লুর সফর নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মাতামাতি

 আসিফ আরসালান

আমেরিকার দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ সফর নিয়ে মাতামাতি বিদগ্ধজনকে বিস্মিত করেছে। এই ধরনের সফরের সময় কিছু বলতে বা লিখতে গেলে তার পটভূমি এবং পূর্বাপর জেনে বুঝেই লিখতে হয়। ডোনাল্ড লুর মূল সফরটি ছিল ভারতে। কারণ ভারতের সাথে আমেরিকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভারতের সাথেও আমেরিকার সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এই টানাপোড়েন রীতিমত ভুল বোঝাবুঝিতে পরিণত হয় রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেনে সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে। তখন বিভিন্ন সময় ভারতের ভূমিকা দেখে যারা এই বিষয়টিতে অভিজ্ঞ তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে রুশ ভারত বন্ধুত্ব ৭০ বছরের পুরাতন এবং সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। এই বন্ধুত্বে সহজে ফাটল ধরবে না। এখানে কিছুটা আদর্শিক প্রশ্নও রয়েছে। ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামে মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধির পরে যার ভূমিকা প্রধান তিনি হলেন পন্ডিত জওহর লাল নেহরু। সেজন্য ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলে পন্ডিত নেহরুই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং ১৭ বছর এক টানা ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকেন। 

এখানে পন্ডিত নেহরু সম্পর্কে আরো দুই একটি কথা বলবো যেগুলো আপাত দৃষ্টিতে অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও পুরাপুরি অপ্রাসঙ্গিক নয়। বরং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের বর্তমান ভূমিকা সঠিকভাবে বুঝতে হলে পন্ডিত নেহরু সম্পর্কে কিছু জানা প্রয়োজন। একটি বিষয় খেয়াল করা দরকার। পন্ডিত নেহরুর পরিবার সমগ্র ভারতের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তাই দেখা যায়, পিতা পন্ডিত মতি লাল নেহরু এবং বোন বিজয় লক্ষী পন্ডিত কংগ্রেসের উচ্চস্তরের নেতা ছিলেন। নেহরুর মৃত্যুর পর তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধির নেতৃত্বেই ভারত মুক্তিযুদ্ধে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত হয়। ইন্দিরা গান্ধি নিহত হলে তার পুত্র অর্থাৎ পন্ডিত নেহরুর নাতি রাজিব গান্ধি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। রাজিব গান্ধির স্ত্রী সোনিয়া গান্ধি এবং তদীয় পুত্র এবং কন্যা যথাক্রমে রাহুল গান্ধি এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধি আজও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন। 

পন্ডিত নেহরুর কথা এজন্যই আজকের এই কলামে টেনে আনলাম যে ভারত বিভক্তির জন্য অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা নেতাদেরকে দায়ী করেন। কিন্তু নির্মোহভাবে এবং গভীরভাবে ভারত বিভক্তির ইতিহাস পাঠ করলে দেখা যায় যে ভারত বিভক্তি এবং বাংলার বিভক্তি- উভয়ের জন্যই প্রধানত দায়ী ছিলেন পন্ডিত নেহরু এবং তার তিন প্রধান সহকারী। যদি পন্ডিত নেহরু ব্রিটিশ ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান মেনে নিতেন তাহলে সম্ভবত ভারতের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। অনুরূপভাবে সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাসেম, নেতাজি সুভাস চন্দ্র বসুর ভাই শরৎচন্দ্র বসু এবং কিরণ শংকর রায়ের অখন্ড বাংলার প্রস্তাব যদি পন্ডিত নেহরু, সরদার প্যাটেল প্রমুখ মেনে নিতেন তাহলে পশ্চিম বাংলা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসও সম্ভবত অন্যভাবে লেখা হতো। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে বাংলার ঐ চার নেতা প্রথমে চেয়েছিলেন যে বাংলা প্রদেশ পাকিস্তানেও যাবে না, ভারতেও যাবে না। বাংলা থাকবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম অখন্ড রাষ্ট্র। অর্থাৎ তারা ভারতবর্ষকে ভেঙ্গে দুইটি নয়, তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্রে ভাগ করতে চেয়েছিলেন। এই তিনটি রাষ্ট্র হলো ভারত, পাকিস্তান ও বাংলা। কিন্তু নেহরু গংদের হঠকারিতা এবং একগুয়েমির ফলেই বাংলার বুকে ছুরি চালানো হয়েছে এবং বাংলা বিভক্ত হয়ে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বঙ্গে পরিণত হয়েছে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মুসলিম লীগের হাই কমান্ড অখন্ড স্বাধীন বাংলার প্রস্তাব নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে পূর্ব বাংলা এক ইঞ্চিও ভৌগোলিক পরিবর্তন না ঘটিয়ে নতুন নামে অর্থাৎ বাংলাদেশ নামে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন হয়েছে। 

॥ দুই ॥

আজ ভারত যে পথে যাত্রা করেছে, অর্থাৎ ভারত আমেরিকা, রাশিয়া এবং চীনের মত পরাশক্তি হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে এবং চেষ্টা করছে সেটিও পন্ডিত নেহরুর স্বপ্নের ভারত। যারা সত্যাশ্রয়ী হতে চান তাদেরকে পন্ডিত নেহরুর সেই মোটা বই কিন্তু পান্ডিত্যপূর্ণ বইটি পাঠ করার অনুরোধ করছি। বইটির নাম ‘ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া’। নেহরুর ভিশন নিয়ে আলোচনা করলে আমরা মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে যাবো। আজ শুধু এটুকু বলতে চাই যে নেহরু অত্যন্ত ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হলেও তার ভেতরে সমাজতন্ত্রের স্বপ্নবিলাস ছিল। সেজন্য সমাজতন্ত্রী বিশে^র সাথে গভীর মৈত্রী বন্ধন গড়ে তোলাই পন্ডিত নেহরুর পররাষ্ট্র নীতির কর্ণার স্টোন ছিল। তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ট্রায়াল হিসাবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেন। কিন্তু তিনি এ প্রচেষ্টায় নির্মমভাবে ব্যর্থ হন। ওপরে যেসব কথা বলা হলো সেসব কথাকে পটভূমিতে রেখে আমরা এখন ডোনাল্ড লুর দক্ষিণ এশিয়া সফর সম্পর্কে আলোচনা করবো। 

আমি প্রথমেই বলেছি যে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু মূলত এসেছিলেন ভারতে। এখানে ভারত সম্পর্কে বাইডেনের আগের ৩/৪ জন প্রেসিডেন্ট এবং তাদের প্রশাসন অত্যন্ত সহজ সমীকরণ করেছিলেন। তারা ভেবেছিলেন যে যেহেতু চীন ও ভারতের বিরোধ রয়েছে তাই চীনকে প্রতিহত করতে তারা ভারতকে ব্যবহার করবে। এবং ভারতও নিজ স্বার্থে ব্যবহৃত হবে। এখানেই আমেরিকার হিসাবটি ভুল ছিল এবং আজও আছে। এখানে গত ১৫/২০ বছর ধরে আমেরিকা ভারতকে ব্যবহার করেনি। বরং ভারতই আমেরিকাকে ব্যবহার করেছে। ভারত পরাশক্তি হতে চায়। তার সামরিক বাহিনী বিশে^র চতুর্থ বৃহত্তম। এই বিশাল সামরিক বাহিনীকে ভারত শুধুমাত্র আরো বড়ই করতে চায় না, বরং তাকে আরো সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করতে চায়। রাশিয়ার সমরাস্ত্র আমেরিকা বা পশ্চিমা দুনিয়ার মত এত আধুনিক নয়। আর সাহায্য করার সক্ষমতাও তাদের সীমিত। 

এখানে আরো একটি কথা বলা দরকার। ভারত সামরিকভাবে শক্তিশালী হতে চায় চীনের সাথে যুদ্ধ করার জন্য নয়। বরং সে যে চীনের সমকক্ষ সেটিই সে আমেরিকা ও রাশিয়ার কাছে জাহির করতে চায়। কিন্তু এজন্য প্রয়োজন যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা সেটি ভারতের নাই। তাই চীনের প্রতি আমেরিকা তথা পশ্চিমা দুনিয়ার বৈরিতাকে কাজে লাগাচ্ছে ভারত। কিন্তু যখন সেটি রাশিয়ার বিরোধিতা এবং চীনের সক্রিয় বিরোধিতার পর্যায়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় তখনই ভারত তিন কদম আগ বাড়িয়ে দুই কদম পিছু হটে। কৌটিল্য তথা চানক্যের স্বার্থক উত্তরসূরী ভারতের এই দ্বিমুখী নীতি আমেরিকা কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে। আমেরিকা বুঝতে পেরেছে যে ভারত গাছেরটাও খেতে চায়, আবার তলারটাও কুড়াতে চায়। ভারতের এই চানক্যবাদ বাইডেন প্রশাসনের পছন্দ হচ্ছে না। তাই এ ব্যাপারে একটা বোঝাপড়া করার জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে ডোনাল্ড লুকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। 

॥ তিন ॥

ঠিক এই স্থানেই এসে পড়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। চীনকে মোকাবেলা করতে হলে বঙ্গপোসাগরের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এছাড়া চীনের সাথে বাংলাদেশের অভিন্ন সীমান্ত না থাকলেও চীন বাংলাদেশের অত্যন্ত কাছের প্রতিবেশী। আজকে স্থানাভাবে এক লাইনে শুধু এটুকু বলছি যে বিশ^ রাজনীতিতে আমেরিকার প্রায়োরিটি বা অগ্রাধিকার হলো চীনকে মোকাবেলা। এখন ইউক্রেন হামলার পর রাশিয়া মার্কিনপন্থী ইউরোপীয় দেশগুলোর দরজার কাছাকাছি পৌঁছানোর ফলে রাশিয়াকে মোকাবেলাও আমেরিকার আরেকটি অগ্রাধিকারের তালিকায় ওপরে স্থান পেয়েছে। এসব কারণে বঙ্গপোসাগরের তীরবর্তী ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা এবং চীনের কাছের প্রতিবেশী নেপাল  ও ভুটানে পা রাখা আমেরিকার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই ভারত সফর শেষ করে দেশে ফেরার পথে দুই দিনের নাম করে হলেও ৩৬ ঘন্টার জন্য ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ টাচ্ করে গেলেন। 

এখানে একটি কথা বলা দরকার। ডোনাল্ড লু কিন্তু সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ওপরে আছেন ডেপুটি বা উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ওপরে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান্থনী ব্লিংকেন। সুতরাং মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণে ডোনাল্ড লু’ই লাস্ট অথোরিটি নন। ফাইনাল ডিসিশন নেবে হোয়াইট হাউজ, পেন্টাগন (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হেড অফিস), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সর্বোপরি ‘ডিপ স্টেট’। আজ এখানে ডিপ স্টেটকে সংজ্ঞায়িত করার স্থান নাই। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞ ঝানু কূটনীতিক ডোনাল্ড লুর সফর পরবর্তী রিপোর্ট অবশ্যই আমেরিকার ঊর্ধ্বতন মহলে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হবে। সে দিক দিয়ে ডোনাল্ডকে খুশি করার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবার যে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে সেটার পেছনে আওয়ামী লীগ সরকারের নিজস্ব গরজ রয়েছে। 

তবে ডোনাল্ড লুর সফর নিয়ে সরকারি মহলের মাতামাতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যেটা দেখে মনে হয়েছে যে বাংলাদেশ সরকার বুঝি ডোনাল্ড লুকে জয় করে ফেলেছে। শুধু ডোনাল্ড সাহেব কেন, মার্কিন প্রশাসন অবশ্যই বিদ্যমান জিও-পলিটিক্স বা ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশকে হাতে চায়। সেজন্য তারা বাংলাদেশকে হাতছাড়া করতে চায় না। ডোনাল্ড লুর আগে হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তা বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও মাত্র কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। যাওয়ার আগে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে গেলেন যে আমেরিকা আইপিএসে (ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি) বাংলাদেশকে পাশে চায়। আইপিএসকে অর্থনৈতিক বা উন্নয়ন ফোরাম হিসাবে দেখানো হলেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে স্ট্র্যাটেজিক ডিজাইন। অর্থাৎ কৌশলগত স্বার্থ। 

ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফরকালে কোদালকে কোদাল বলেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৭ জন অফিসারসহ র‌্যাবের ওপর আরোপিত স্যাংশন কাজে দিয়েছে, অর্থাৎ স্যাংশনের পর ক্রসফায়ার ও অপহরণসহ র‌্যাব কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দারুণভাবে কমে গেছে। কিন্তু সাথে সাথে তিনি একথাও বলেছেন যে আমেরিকা বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। এ ব্যাপারে কোনো ব্যত্যয় যেখানেই ঘটুক না কেন, সেখানেই আমেরিকা কথা বলবে এবং বলতেই থাকবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের তরফ থেকে যখন বলা হয়েছে যে র‌্যাবের অনেক উন্নতি ঘটেছে এবং বাংলাদেশ আশা করে যে শীঘ্রই স্যাংশন উঠে যেতে পারে। তখন সাথে সাথে মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রেস রিলিজ দিয়ে বলা হয়েছে যে শীঘ্রই স্যাংশন উঠে যেতে পারে এরকম কোনো কথা ডোনাল্ড লু বলেননি। 

ডোনাল্ড লুর সফরের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বুঝতে হলে কূটনীতির পরিভাষা কিছুটা হলেও জানতে হবে। ইংরেজিতে যেটাকে বলা হয়, ‘রিড বিটুইন দ্য লাইনস’, সেই কথা থেকেই ধার করে বলছি যে ডোনাল্ড লুর সফরের সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য বুঝতে হলে আপনাকে বিটুইন দ্য লাইনস পড়তে হবে। 

Email: asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ