বুধবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

শুভবুদ্ধির উদয় হোক সরকার বিরোধী শিবিরে

দেলাওয়ার হোসেন

আজ থেকে ১৪ বছর আগে আওয়ামী সরকার বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। বিরোধী দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এমনকি নিজ দলের অনেক নেতা কর্মীরা পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের জুলুম-নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। গত ১৪ বছরে নির্যাতিত মানবতা এতটাই অতিষ্ঠ যে প্রতিটি মুহূর্ত মুক্তির প্রহর গুনছে। এমতাবস্থায় সরকারবিরোধী সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলো সোচ্চার হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। নিজ নিজ প্লাটফর্ম থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই ছোট ছোট দলগুলোর সংঘবদ্ধ শক্তি অর্জনের জন্য নিজের মধ্যে জোট করেছে। চালিয়ে যাচ্ছে যুগপৎ আন্দোলন। কিন্তু এই আন্দোলন কি আদৌও ১৪ বছরের শক্ত শিকড়গাড়া সরকারের ভীতকে দুর্বল করে জনগণের যৌক্তিকদাবি কেয়ারটেকার সরকারের দাবি আদায় করতে পারবে? এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আত্মসচেতন মানুষের মধ্যে।

যে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলো সরকার বিরোধী, যে দেশের অধিকাংশ মানুষ মুক্তির গণআন্দোলনে যুক্ত হওয়ার প্রতীক্ষায় সেখানে কেন আজ এই প্রশ্ন? কারণ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে নেই পরস্পর সমন্বয়, নেই ন্যূনতম পারস্পরিক কোনো সৌজন্যবোধ। ফলে আন্দোলন চলছে কিন্তু পাচ্ছেনা কোনো কার্যকর রেজাল্ট। সমালোচনা ও পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। সকল আলোচনা ও পর্যালোচনার তীর এখন মাঠের আন্দোলনের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির দিকে। প্রশ্ন উঠেছে বিরোধী দলগুলো ব্যাপারে বিএনপির আন্তরিকতা ও সৌজন্যবোধ নিয়ে। যুগপৎ  আন্দোলন শুরু হয়েছে বটে কিন্তু নেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন শক্তিশালী  লিয়াজোঁ বা সমন্বয়  কমিটি। 

বিএনপি নিজেরা কর্মসূচি ঘোষণা করবে আর বাকি দল বা জোটগুলো অঙ্গ সংগঠনের মতো তাদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে, এই আশা করলে আন্দোলন বেশিদিন চলবেনা। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে এদেশের তৃতীয় বৃহত্তর রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেগঞ্জে যেই দলটির মজবুত ভিত্তি রয়েছে। ইতোমধ্যেই আন্দোলন সংগ্রামে দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে প্রত্যক্ষ করেছে। স্বাধীনতার পর প্রত্যকটি জাতীয় নির্বাচনে সংসদে যাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। এমনকি জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় (৯১ ও ২০০১ সাল) যেতে পারেনি। সেই দলের প্রতিও বিএনপির ন্যূনতম সৌজন্যবোধ এদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেনি।

কিছুদিন আগে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই জামায়াতের আমীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে জামায়াত লাখো জনশক্তি নিয়ে গণমিছিল করেছে। পুলিশ নির্বিচারে গুলী চালিয়ে, টিয়ারশেল মেরে ও লাঠিচার্জ করে জামায়াতের বহু নেতাকর্মীকে আহত করেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। অনেকগুলো রাজনৈতিক সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ বিবৃতি দিলেও বিএনপি কোনো এক অজানা কারণে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে। যা দেশপ্রেমিক আন্দোলনের কর্মিদের হতাশ করেছে। তারপরও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এখন পর্যন্ত বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করছে।

অবিলম্বে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শক্তিশালী লিয়াজোঁ কমিটি এবং পরস্পর সমন্বয় ও সৌজন্যবোধ গড়ে না উঠলে এই আন্দোলন কার্যকর হয়ে উঠবেনা। আজ সত্যিই গভীরভাবে স্মরণ করতে হয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। অনেককেই বলতে শুনি বিএনপির মধ্যে একজনই পুরুষ আছেন আর তিনি হলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। যতদিন তিনি সুস্থ ছিলেন তার সাহস, দৃঢ়তা, আপোষহীনতা, জোটের শরীকদের সাথে সমন্বয় ও সৌজন্যবোধের জন্য দেশপ্রেমিক জনতা তাকে দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে। বর্তমান বিএনপির নেতৃবৃন্দের জন্য এখান থেকে অনেক শেখার আছে।

আমার মতো একজন ছাত্রনেতার জন্য বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে তখনকার সময়ে প্রত্যেকটি মহাসমাবেশে ছবি দেখিয়ে কথা বলেছিলেন যা প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতাদের চোখে আঙ্গুল দেখিয়ে দেয়। এভাবেই তিনি সবাইকে নিয়ে সারা বাংলাদেশের আন্দোলনকে জাগিয়ে তুলেছিলেন যা বর্তমানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। চলমান আন্দোলনে যার প্রভাব ইতিমধ্যেই মানুষ প্রত্যক্ষ করছে।

 

তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর প্রয়োজনে এখনি সময় আন্দোলনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ