বুধবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

নতুনরূপে সেজেছে গজনী অবকাশ কেন্দ্র

মোঃ জাকির হোসেন, শেরপুর : শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্রটি চলতি শীত মৌসুমে দর্শনার্থীদের আগমনে সাজিয়ে রাখা মনোরম বিনোদন কেন্দ্রটি দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে। সারাদেশ থেকে প্রতিদিন শতশত ভ্রমনপিপাষুদের আগমন ঘটে এ বিনোদন কেন্দ্রটিতে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত শেরপুরের সীমান্তবর্তী স্থানে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আতাউর রহমান মজুমদার উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গজনী এলাকায় গড়ে তুলেন একটি পিকনিক স্পট।

মৌজার নামানুসারে কেন্দ্রটির নাম রাখা হয় গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্র। ৫০ একর পাহাড়ি জমিতে এ পিকনিক স্পটটি গড়ে তোলা হয়। পিকনিক স্পাটটি গড়ে উঠার পর থেকেই সারাদেশ থেকে ভ্রমণপিপাসু ও পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে গজনী অবকাশ কেন্দ্রটি। এ কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর সরকারের ঘরে আসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এ কারণে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন গজনী অবকাশ পিকনিক স্পটটির প্রতি আরো মনোযোগী হয়ে উঠে জেলা প্রশাসন। শুরু হয় কেন্দ্রটির সম্প্রসারণের কাজ। নানা দিক থেকে কেন্দ্রটির সম্প্রসারণ করে সৌন্দর্যবর্ধন করা মা-মাটি ও মানুষের কথা বলে এ বিনোদন কেন্দ্রটির চারপাশে সারি সারি শালগজারীসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজী, উঁচুনিছু পাহাড়, ঝর্ণা, লেক, পাহাড়ের চূড়ার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গড়ে (আদিবাসী) সম্প্রদায়ের লোকদের আবাস। ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠীর নারী-পুরুষ, শিশুরা তাদের নিজেদের হাতে তৈরি বাহারী রঙের পোশাক পরিধান করে। এ যেন বিনোদন কেন্দ্রের আলাদা আরো। একটি আর্কশন।

এ পাহাড়ের টিলায় দাঁড়িয়ে উত্তর দিকে তাকালে চোখে পড়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরার পাহাড় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ক্যাম্প। এছাড়া এ বিনোদন কেন্দ্রে কৃত্রিম এসব কিছুর পাশাপাশি অকৃত্রিম আকর্ষণীয় নানা রঙের ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে। যা দেখলে ভ্রমণপিপাসুদের মন আনন্দে দোল খায়। নির্মাণ করা হয়েছে পাতালপুরী রাস্তা। পানির ফোয়ারা, কেবেলকার, ওয়াচ টাওয়ারসহ নানা রঙবেরঙের ভাস্কর্য নির্মাণ করে মনোরম পরিবেশে সাজানো হয়েছে পর্যটন কেন্দ্রটি। ঢাকা মহাখালী বাসটার্মিনাল থেকে গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্রের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার বাসে আসতে সময় লাগে ৪ থেকে সাড়ে চার ঘন্টা। শেরপুর জলা সদর থেকে বিনোদন কেন্দ্রের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার বলেন, করোনাকালীন সময় পর্যটন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় ভ্রমণপিপাসুদের আগমন ঘটেনি। এতে সরকারসহ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছর শীত মৌসুমে দর্শনার্থীদের কেন্দ্রের সৌন্দর্য বর্নের কাজ করা হয়েছে।

বর্তমানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলমান রয়েছে। আগামীতে পর্যটন কেন্দ্রটি আরো সৌন্দর্য ও আকর্ষণীয় করে গড় তোলা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলতি দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে বিনোদন কেন্দ্রটিত। তারা যেন পর্যাপ্ত সুযোগ। সুবিধা ও আনন্দ উপভোগ করতে পারেন এটাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ