বুধবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

ঝিনাইদহে ভুট্টার বীজ পেতে  বিলম্ব ॥ চাষাবাদ হ্রাস

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ : আজমুল হুদা একজন প্রান্তিক কৃষক। তিনি সরকারের কৃষি প্রণোদনার ভুট্টা বীজ নিয়ে প্রতিবছর চাষ করেন। এ বছর ভুট্টা চাষের মৌসুম প্রায় শেষ হলেও কৃষি প্রণোদনার বীজ পাননি। ফলে দোকান থেকে প্রাইভেট কোম্পানির বীজ কিনে ভুট্টার আবাদ করেছেন। আজমুল হুদার মতো ঝিনাইদহ জেলার হাজারো কৃষক এবার সঠিক সময়ে কৃষি প্রণোদনার ভুট্টা বীজ না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ প্রাইভেট কোম্পানির বীজের উপর নির্ভরশীলতা ও কোম্পানির রমরমা ব্যবসা করিয়ে দেবার কারণে হয়তো বিএডিসি এবার বিলম্বে বীজ সরবরাহ করেছে। ঝিনাইদহ কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঝিনাইদহ জেলার কৃষকদের হাতে এবার কৃষি প্রণোদনার বীজ সঠিক সময়ে সরবরাহ করা যায়নি। কৃষকরা কোম্পানির বীজ কিনে চাষ করেছেন। অনেক গরীব কৃষক আবাদ করতে পারেনি। ফলে জেলায় ভুট্টা, সূর্য্যমুখী, গম ও সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ৮০ হাজার কৃষককে ১০টি ফসলের প্রণোদনার বীজ প্রদান করা হয়। অন্যান্য বছর কৃষি মন্ত্রণালয় বিএডিসি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি কোম্পানির যে কোন একটির কাছ থেকে বীজ কেনার জন্য নির্দেশনা দিয়ে পত্র প্রেরণ করতো। কিন্তু এবার বিএডিসি থেকে বীজ কেনার জন্য বাধ্যতামূলক করে দিলে কৃষি বিভাগ বিএডিসির বীজ নির্ভর হয়ে পড়ে। কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মৌসুম চলে গেলেও বিএডিসি যথা সময়ে বীজ সরবরাহ করতে পারেনি। বিএডিসির ব্যর্থতার কারণে ঝিনাইদহ জেলায় কৃষি প্রণোদনায় আবাদকৃত ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আজগার আলী খবরের সত্যতা নিশ্চত করে জানান, বীজ চেয়ে আমরা গত অক্টোবর থেকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু বিএডিসির কর্মকর্তারা যথা সময়ে বীজ দিতে পারেননি। তারা ফোন ধরেন না। আবার ফোন ধরলেও খারাপ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, এ বছর জেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার হেক্টর। চাষ হয়েছে ৪৮ হাজার হেক্টর। যথা সময়ে বিএডিসি গম বীজ দিতে পারেনি বলে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা যায়নি। তিনি বলেন, প্রণোদনার বীজ ছাড়াই জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। সূর্য্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪৫ হেক্টর। বীজ না দেয়ার কারণে মাত্র ৪০ হেক্টর জমিতে এই চাষ হয়েছে। বিএডিসি থেকে ৫৫৫ কেজি বীজ দেয়ার কথা ছিল। তিনি আরো জানান, জেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার ৬৭২ হেক্টর জমিতে। কৃষকরা বাইরে থেকে বীজ কিনে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করেছেন। জেলায় বিএডিসি থেকে ১২ মেট্রিক টন ভুট্টা বীজ সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু তারা অসময়ে মাত্র ৫ মেট্রিক টন বীজ দিয়েছে। বাকী বীজ কবে আসবে তার হিসাব নেই। কৃষি কর্মকর্তা আজগার আলী হতাশা প্রকাশ করে জানান, বিলম্বে আসা ভুট্টার বীজ কৃষকরা নিয়ে কি করবেন? নিশ্চয় তারা খৈ ভেজে খাবেন না। বিলম্বে প্রণোদনার বীজ সরবরাহ নিয়ে বিএডিসির যশোর অফিসের পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, বীজ সরবরাহে আমাদের কোন ব্যর্থতা নেই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে বিএডিসি ভারত থেকে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ আমদানি করে থাকে। আমদানিকৃত বীজ আবার পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে জেলায় জেলায় সরবরাহ করতে দেরি হয়েছে। এই দেরি বিএডিসির অবহেলা জনিত করণ নয়। তিনি বলেন সুর্য্যমুখী বীজ দেশি প্রজাতির বারী-৩ সময় মতো সরবরাহ করা হয়েছে। আর আমদানিকৃত সূর্য্যমুখীর বীজ ২/১ দিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবে। তাছাড়া অন্যান্য সব বীজ যথা সময়ে সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা একটু বাড়িয়ে বলছেন বলেও পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ